পেলিং : পশ্চিম সিকিমের আকর্ষণীয় হিল স্টেশন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সিকিম ভ্রমণে আকর্ষণীয় গন্তব্য পেলিং

অবস্থান
পেলিং পশ্চিম সিকিমের ছোট একটি জনপদ। এটি একটি জনপ্রিয় হিল স্টেশন যা হিমালয়ের কোলে ২,০৮৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পেলিংকে মূলত তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে— আপার, মিডল এবং লোয়ার। পেলিং-এ সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এখানে খুব কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখা যায়।আরও পড়ুন : মেইক মাই ট্রিপ-এর আদি থেকে অন্ত

কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য
ভোরের আলোর সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভরে উঠে সোনালি আভায়। সারাদিনভরে কাঞ্চনজঙ্ঘা তার রঙ বদলাতে থাকে। এছাড়াও এখান থেকে কোকতাং, কুম্ভকর্ণ, রাতোং, কাব্রু ডোম, পান্ডিম, জোপুনো, সিম্ভো, নারসিং, সিনিলয়চ ছাড়াও নাম না জানা অসংখ্য শিখররাজির তুষার শুভ্র রূপ দেখা যায়।আরও আছে ফুলের মেলা
বসন্তকালে পেলিং সেজে উঠে ফুলের মেলায়। এছাড়া পেলিং-এ সাইট সিয়িংয়ের দারুণ সুযোগ আছে। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা পেলিং-এ দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে।রিমবি ফলস
পেলিং থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে আছে রিমবি ফলস। মাঝারি আকৃতির এই ঝর্ণাটি অবিরাম ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষায় এই ঝর্ণাটির সৌন্দর্য আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এই ঝর্ণাটির নিচে একটি কুন্ডের মতো তৈরি হয়েছে। পেলিং এর একটি অন্যতম সুন্দর একটি জায়গা হল কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস। পেলিং থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঝর্ণাটি সবুজ পাহাড়ের গা থেকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। সিকিমের অন্যতম সুন্দর এই ঝর্ণাটির পানি ধাপে ধাপে নিচের দিকে ঝরে পড়ে। পাথরের ওপর পা ফেলে উপরে উঠে মূল ঝর্ণার পাদদেশে যেতে পারবেন। পেলিং এর অন্যতম আরেকটি আকর্ষণীয় জায়গা হল খেচিপেরি লেক। পাহাড়ঘেরা এই লেকটি স্থানীয়দের কাছে পবিত্র একটি স্থান। আজব ব্যাপার হল এই লেকে কোনও পাতা পড়ে না। লেকের গেট থেকে জঙ্গলঘেরা পথে কিছুটা হেঁটে এই লেকের কাছে পৌঁছাতে হয়।আরও পড়ুন : মেঘে ঢাকা লেপচাজগতে এক পাহাড়িয়া দিনের গল্প

সিংশোর ব্রিজ
এশিয়ার অন্যতম উঁচু সিংশোর ব্রিজ এখানে রয়েছে। এটি এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম সাসপেশন ব্রিজ। এই ঝুলন্ত ব্রিজের উপর দিয়ে ঝুলতে ঝুলতে অপারে যেতে হয়। এই ব্রিজের অনেক নিচে খাদের মধ্যে বয়ে চলছে একটি পাহাড়ি নদী। পেলিং-এ এলে অবশ্যই সাঙ্গা চোলিং মোনাস্ট্রিতে যাবেন।এটি সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন গুম্ফা। পেলিং হেলিপ্যাড থেকে পাহাড়ি রাস্তা ধরে চড়াই বেয়ে ট্র্যাকিং করে পাহাড়ের মাথায় নয় হাজার ফিট উচ্চতায় এই গুম্ফায় পৌঁছাতে হয়। পৌঁছতে কষ্ট হলেও উপর থেকে যে চমৎকার দৃশ্য চোখে পড়ে তাতে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে এই মনাস্ট্রি থেকে ম্যাগনোলিয়া ও রডোড্রেনডন ফুলের উপত্যকা ভার্সের সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন।যেভাবে যাবেন :
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পেলিংয়ের দূরত্ব ১৫২ কিলোমিটার। জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে পেলিং আসতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার মত। গাড়ি ভাড়া পড়বে ৪,০০০-৪,৫০০ টাকা।যেখানে থাকবেন :
আপার পেলিংয়ে থাকার কয়েকটি হোটেল হল সিকিম ট্যুরিস্ট সেন্টার, যোগাযোগ - ০৩৫৯৫-২৫৮৫৫৬।হোটেল কাঞ্চনজঙ্ঘা, যোগাযোগ- ৯৩৩৯৭৩০১৪৮।
মিডেল পেলিংয়ে আছে হোটেল হেভেন, যোগাযোগ - ০৩৫৯৫-২৫৮২৩৮।
হোটেল চিমান্ডা ইন্টারনেশনাল, যোগাযোগ- ০৩৫৯৫-২৫৮৩৩৩।
হোটেল পেমাসোনাম, যোগাযোগ- ০৩৫৯৫-২৫৮২৩৬।
লোয়ার পেলিংয়ে আছে হোটেল সিলভার পিক, যোগাযোগ- ০৩৫৯৫-২৫৮২৫৩।
হোটেল ট্যুরিস্টো, যোগাযোগ- ০৩৫৯৫-২৫৮২০৬।
হোটেল পেমাচেন, যোগাযোগ- ০৩৫৯৫-২৫০৬৪১।
আপার পেলিংয়ের হোটেল গুলোতে ভাড়া তুলনামূলক একটু বেশি পড়বে।
রুবাইদা আক্তার এস এম