টিবিডি ইন্টারভিউ উইকলি : 'গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো পরিসেবাটা দিতে চাই আমরা'
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশের ট্রাভেল সেক্টরের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট
মেহেদী গনি, দেশের পর্যটনশিল্পে অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। কাজ করছেন অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের (Flight Expert) চীফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে। পর্যটন সেক্টরে অভিজ্ঞতার ঝুলি কম নয়। চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। সেই চ্যালেঞ্জ থেকেই ফ্লাইট এক্সপার্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এগিয়ে যেতে চান সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে। করোনাভাইরাসের দু:সময় অতিক্রম করে কীভাবে সামনে এগিয়ে যাবেন সে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন । ট্রাভেল বাংলাদেশের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বপ্নের কথাই শোনাচ্ছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের মেহেদী গনি।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: ফ্লাইট এক্সপার্টের সঙ্গে কবে থেকে যুক্ত হয়েছেন?
মেহেদী গনি: শুরু থেকেই। ২০১৬ সালে যুক্ত হই। তিন বন্ধু মিলে শুরু মিলে শুরু করি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: ফ্লাইট এক্সপার্টের যাত্রাটা কীভাবে শুরু হলও?
মেহেদী গনি: প্রথম দিকে আমি অন্য কাজ করছিলাম। আমার ফ্রেন্ড যে ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও () সে কানাডা থেকে পড়ালেখা শেষ করে দেশে এসে এই বিষয়ে আইডিয়া শেয়ার করে আমার সাথে। বাংলাদেশে তো ট্রাভেল এজেন্সি আছে, তবে কেউ তেমন অনলাইনে সুবিধাটা পায় না। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে চলছে টিকিট বুকিং থেকে সব। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অভ্যস্ত হওয়া উঠা হয়নি তেমন। আমার সে বন্ধু চিন্তা করলো যে, এরকম একটা এজেন্সি শুরু করা যায়, যেখান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভ্রমণ বিষয়ক সব সুবিধা গ্রাহকরা পাবেন। সে আমাকে তার আইডিয়াটা শেয়ার করে এবং টেকনোলোজিটা ও মার্কেটিং দিকটা দেখার জন্য প্রস্তাব করে। আমার আরেক ফ্রেন্ড একাউন্টস দেখে। এভাবে তিন ফ্রেন্ড মিলে শুরু করি। আমরা প্রথম দিকে অনেক রিসার্চ করেছি। কারণ এধরনের বিজনেসের কোনও আইডিয়া আমাদের শুরুতে ছিলও না। অভিজ্ঞতা ছিলও না। আমরা অনেক কিছু এক্সপ্লোর করি। ফ্লাইটে কি সুবিধা-অসুবিধা এসকল নিয়ে আমাদের জানাশোনা ছিলও না। এই বিষয়ে প্রচুর ঘাটাঘাটি করতে হয়েছে। লোগোটা ডিজাইন করা আমার, নামটা আমার বন্ধুর দেয়া। এভাবে শুরু করা। আমাদের প্রথম থেকে লক্ষ্য ছিলও যে, আমরা যে সার্ভিসটা দিবো তা যেন মানুষের কাছে সন্তোষজনক হয়। সেটা বড় হোক বা ছোট হোক, আমরা ভালো পরিষেবাটাই দিতে চেয়েছি।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: আপনাদের প্রতিষ্ঠানে কোন কি কি সার্ভিস দেওয়া হয়?
মেহেদী গনি: আমরা এখন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট, হোটেল বুকিং, ওমরাহ, ট্যুর প্যাকেজ ইত্যাদি সার্ভিস দিয়ে থাকি।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: এখান পর্যন্ত আপনার অভিজ্ঞতা কি?
মেহেদী গনি: অনেক রকমের অভিজ্ঞতা হচ্ছে আসলে। এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে অনেক কিছুই শেখা হচ্ছে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তেমন কিছু জানাশোনা ছিলও না। ফ্লাইট সম্পর্কে জানাশোনা, তাদের সুবিধা-অসুবিধা কি আছে নেই ইত্যাদি জানা ছিলও না। এখানে কাজ শুরু করার পর থেকে জানতে পারি যে, এই সেক্টরে আসলে মানুষের প্রয়োজনটা কি! এই সেক্টরে মানুষ ঠিক পরিষেবা/সার্ভিসটা পায় না। সেই পরিষেবাটি কীভাবে সঠিকভাবে সরবরাহ করা যায় সে অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক হ্যাসেল পোহাতে হয়। সেখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায় সেই চেষ্টা আমরা করেছি। গ্রাহকরা যেন ট্রাভেল সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় নিশ্চিত করতে পারে সেটা বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আর আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে বলতে হবে, এটা পুরাই আমার জন্য নতুন এবং এখনো আছে। নর্মালি ই-কমার্সগুলো থেকে এটা পুরাপুরি আলাদা। এখানকার প্রোডাক্টের অন্যান্য ই-কমার্স প্রোডাক্ট থেকে প্রাইস অনেক বেশি। এটাকে আলাদা করে বের করে মানুষের সামনে নিয়ে আসা কঠিনই ছিলও। কারণ আমাদের সবকিছু অনলাইনে সিস্টেমে। আমরা গ্রাহকদের অফিসে আসাকে প্রমোট করি না। মূলত যেকোনো পরিষেবা অনলাইনে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করি। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম, মানুষ কতোটা অনলাইনে বুক করে,. এটা আসলে কঠিন কাজ ছিলও।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
মেহেদী গনি: চ্যালেঞ্জের শেষ নেই। এখনো যেহেতু ওটিএ জিনিসটা রিলেটিভলি নিউ। ২০১৬ সালের পর থেকে এধরনের প্রতিষ্ঠান যাত্রা করেছে। মানুষ এখনো একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে আছে। অনেকে হয়তো এখনো ট্রাডিশনাল ওয়েতে ট্রাভেলিং করে, টিকিট বুকিং করে। অনেকে আছে অনলাইনে টিকিট বুক করতে অভ্যস্ত নন, জানেন না। মানুষকে এসব জিনিস শেখানোটা কঠিন। আমাদেরকে এই বিষয়ে গ্রাহকদের সাথে অনেক কথা বলতে হয়। অনেকে আছে কীভাবে বুক করবে তা ফোন দিয়ে জানতে চান। সাধারণত ফোন দেওয়ারই দরকার হয় না। সবকিছু ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। আর কারো কাছে অ্যাপস থাকলেই হয়ে যায়, সাথে ক্রেডিট কার্ড। আমাদের ওয়েবসাইটে সবকিছু দেওয়া আছে। অফিসেও আসা লাগে না, ফোনও করা লাগে না। নিজেই নিজের সবকিছু যাচাই করে নিতে পারেন। কিন্তু এখানে প্রচুর ফোন আসে। কাজেই এখানে শুধু ব্যবসা করলেই হচ্ছে না। মানুষকে এগুলো শেখানোটাও জরুরি। তাই বড় চ্যালেঞ্জ।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: কোভিড-১৯ এর সময় সংকট চলছে। আপনাদের কতোটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে?
মেহেদী গনি: এই সময়ে পুরা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একধরনের দুর্যোগ নেমে এসেছে। সবার জন্যই এটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি যে, কোভিড-১৯ এর ফলে এভিয়েশন সেক্টরটা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। কারণ মানুষের সকল যাত্রা বন্ধ। আন্তর্জাতিক/অভ্যন্তরীণ সবকিছু বন্ধ। তাই এই টাইমটা আমাদের চ্যালেঞ্জিং ছিলো। তবে লকডাউনের পর আমরা রিকভারি স্টেজে আছি। আমরা ক্ষতিটা পুষিয়ে নিচ্ছি। এখন আমরা ডোমেস্টিক ফ্লাইটগুলো পাচ্ছি। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে অনেক ফ্লাইট চলছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হয়তো আরও টাইম লাগবে।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মেহেদী গনি: এটা আসলে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে। আমাদের লক্ষ্য ছিলও কাস্টোমারদের ভালো সার্ভিস দেয়া। যে হ্যাসেলগুলো হয় সেখান থেকে বের করে আনা। হ্যাসেল ফ্রি সার্ভিস দেয়া। এখনো আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এটাই যে, আরও কীভাবে কাস্টমারদের সহজে সার্ভিস দেয়া যায়, কোনও ধরনের হ্যাসেলমুক্ত করে সার্ভিস দেয়া যায়-সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া। কাস্টমারদের সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষ্য নিয়েছি। দীর্ঘ মেয়াদী মার্কেট ধরে রাখার জন্য এই সার্ভিসটা দিতে হবে। আমরা লংটাইম সাস্টেনেবিলিটি নিয়ে কাজ করতে চাইছি।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: এই ক্ষেত্রে আপনাদের ইনোভেটিভ উদ্যোগগুলো কি?
মেহেদী গনি: আমাদের প্রথম ইনোভেশন ছিলও যে, ২০১৭ সালে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেস চালু করা।এরপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন ফিচার্ড যুক্ত করেছি আমরা। বিমান টিকিট কিনতে বিশাল ঝামেলা হয় না। গ্রাহকের কাছে থাকা অ্যাপসের মাধ্যমে একজন গ্রাহক খুব সহজে চলতি পথে কিংবা বিদেশে বসেই টিকিট কিনে নিতে পারছেন। প্রয়োজন একটি অ্যাপস ও অনলাইন কানেক্টিভিটি এবং ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড। অ্যাপসে গিয়ে গ্রাহক নিজের পছন্দ মতো ফ্লাইট, ভাড়া, প্যাকেজ সহ সব জেনে নিতে পারবেন। বুক দিয়ে পেইডও করতে হয় না আগে থেকে। হোল্ড রাখা যায়। কবে, কোথায় যাচ্ছেন ওই দিনের ভাড়া, সার্ভিস, সব বিষয়ে ধারণা পাবেন নিজ থেকেই। আর প্রাইসটাও নিজে সেট করতে পারবেন।
ট্রাভেল বাংলাদেশ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মেহেদী গনি: আমি এই সেক্টরে উপভোগ করছি। নতুন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ উপভোগ করি আমি। যতদিন চ্যালেঞ্জ থাকবে, ততদিন চালিয়ে যাবো।