ইমরানস হেরিটেজ হোম : খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যের সন্ধান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: উনিশ শতকে নির্মিত জমিদার সাহেব বাড়িতে পুরান ঢাকার খাবার

 

ইমরানস হেরিটেজ হোম

আর্মেনীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত বাড়িটিতে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যের সমাহার; ছবি : সংগৃহীত


প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বাড়িটির পাশের চারটি সড়কের নাম এই বাড়ির সাথে সম্পৃক্ত। নূর বকস রোড, আবুল খায়রাত রোড, আবুল হাসনাত রোড ও নাবালক মিয়া লেন-সড়কগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বাড়িটির চারজন সদস্যদের নামে। 'জমিদার সাহেব বাড়ি' নামে বহু পুরনো এই ভবনটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বলছিলাম পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির লাল রঙের দোতলা বাড়িটিকে নিয়ে।

উনিশ শতকে ঢাকা ও সোনারগাঁয়ের জমিদার মৌলভী আবুল খায়রাত মোহাম্মদ এই দ্বিতল বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটি আর্মেনীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মাণ করা হয়। তার দুই ছেলে আবুল হাসনাত ও আবু জাফর জিয়াউল হক ওরফে নাবালক মিয়া, তাদেরই নামে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পার করে বর্তমানে বাড়িটির মালিক ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর এ এম ইমরান।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকা : মজাদার সব খাবারের সম্ভার

ইমরানস হেরিটেজ হোম

২০১৮ সালে বাড়িতেই রেস্তোরাঁ চালু করেন এ এম ইমরান। নাম দেন 'ইমরানস হেরিটেজ হোম' (Imran's Heritage Home)। সুস্বাদু খাবার আর ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রাচীন ভবনের শিল্পকর্ম দেখতে আসেন অনেকেই। খাবারের তালিকায় থাকে জাফরানি পোলাও, আনারস ইলিশ, মুরগির মাংসের চপ, মুরগির রোস্ট, বিফ কাটা মসলা, চিংড়ি মাছের মালাই কারি, সালাদ এবং ঘরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বানানো বোরহানি এবং শেষে জাফরানি জর্দা ও স্পেশাল চা।

সব খাবারই বাড়িতেই রান্না করা হয়ে থাকে। দিনের ও রাতের মেন্যু আলাদা। বলা হয়ে থাকে এই জমিদার বাড়িতে একই খাবার দুবার পরিবেশন করা হয়না। ইমরানস হেরিটেজ হোম এ খেতে হলে ন্যূনতম দুই-তিন দিন আগে ফেইসবুকে যোগাযোগ করতে হবে। সর্বনিম্ন পাঁচজন ও সর্বোচ্চ ২০ জনের একটা দলের জন্য দুপুর অথবা রাতের খাবারের ফরমাশ করা যাবে। খাবারের দাম জন প্রতি ৬৯৯ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকা।

ইমরানস হেরিটেজ হোম

ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এখানে; ছবি : সংগৃহীত


প্রচলিত রেস্তোরাঁ থেকে অনেকটাই আলাদা 'ইমরান'স হেরিটেজ হোম'। কারণ এখানে আপনি খাবারের সাথে সাথেই হেরিটেজের সন্ধানও পাবেন। কারুকাজ করা স্তম্ভ, শতবর্ষী আসবাব, তুরস্ক থেকে আনা বহু বছরের পুরনো ঝাড়বাতি, সোনার প্রলেপ দেয়া দুইশ বছরের পুরনো পবিত্র কোরআন শরীফ, দুষ্প্রাপ্য সব ছবি, তলোয়ার এসবকিছু আর কোনো রেস্তোরাঁয় পাবেন!

তাই খেতে খেতে মনে হবে যেন আপনি টাইম মেশিন চেপে পৌঁছে গেছেন রাজা-বাদশাদের আমলে। রাজনৈতিক পটভূমি থেকেও বেচারাম দেউড়ির এই বাড়িটির ইতিহাস বেশ অভিজাত। এই বাড়িতে একসময় এসেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু, শিল্পী এস এম সুলতান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, মাওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী সাহেবসহ অবিভক্ত ভারত ও পাকিস্তানের প্রথম সারির বহু রাজনৈতিক নেতারা।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং : সুমন্ত গুপ্তের ভ্রমণ গল্প

ভোজন রসিকেরা যেমন এখানে সুস্বাদু খাবার খেতে পারবেন তেমনই যাদের ইতিহাস বা ঐতিহ্যের প্রতি ভালোলাগা কাজ করে তারাও এখানে এসে বেশ উপভোগ করবেন। কারণ অতিথিদের জন্য পুরো বাড়ি ঘুরে দেখার অনুমতি রয়েছে। রেস্তোরাঁর মালিক ইমরানের মতে যারাই এই রেস্তোরাঁতে খেতে আসেন সকলেই তাদের কাছে অতিথি, ক্রেতা নয়। তাই অতিথিদের যথাযথ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় এখানে। তিনি বলেন, 'অতিথি নিজের ইচ্ছায় আসে না, আল্লাহর ইচ্ছায় আসে তাই আমরা আমাদের অতিথিদের যত্ন নিতে দ্বিধা করি না'।

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম

তথ্যসূত্র: https://www.amadershomoy.com/bn/2019/09/28/983246.htm


Click Here To See More