৫৩০ বছর আগে যাত্রা শুরু করা বুধপাড়া কালীমন্দির : নাটোর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বুধপাড়া শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির : দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীনতম একটি মন্দির



বুধপাড়া কালীমন্দির, নাটোর

ছবি : সংগৃহীত


 মওঘল আমলের শেষ সময় থেকে বাংলার ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তরিত হওয়া নাটোর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জেলা গুলোর একটি। শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ এক জেলাতে রূপান্তর করেছে নাটোর কে। পর্যটকদের জন্য এই জেলাটিতে রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রাচুর্যতা নিজ চোখে উপলব্ধি করার সুযোগ। নানান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি এই জেলায় পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীনতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রয়েছে। বলছি বুধপাড়া কালীমন্দির-এর কথা।

বুধপাড়া কালীমন্দির:

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় বুধপাড়া শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির অবস্থিত। প্রাচীনতম এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি দেশ জুড়েই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিকট অন্যতম আকর্ষণ। প্রায় ৫৩০ বছর পূর্বে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেসময় উপমহাদেশে চলছিলো নবাবী আমল। নবাব আলিবর্দি খানের আমলে এই বর্গীয় হাঙ্গামা শুরু হয়। বর্গীদের অত্যাচার, অনিষ্টায়, লুণ্ঠনে সাধারণ মানুষদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। এই বর্গিদের হাত থেকে বাঁচতেই ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের খাগড়া থেকে ৬০ ঘর কংস বণিক নাটোরের লালপুরের এই বুধপাড়ায় এসে বসতি স্থাপন করে। কালীপূজায় অর্চনার জন্য এই সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী খড়ের ঘরে একটি মন্দির তৈরি করে।

সেই খড়ের ঘরের মন্দিরটিই বর্তমান আধুনিক বুধপাড়া কালীমন্দির হিসেবে খ্যাত। প্রথমে চালু হওয়া সেই খড়ের ঘরের মন্দিরটি পাকা হয় বাংলা ১৩৩২ সনে এসে। জনৈক লাল কেনেডিয়া নামক ব্যক্তির স্ত্রী জানকী বাঈয়ের আর্থিক সহায়তায় মন্দিরটি পাকা দালানে রূপান্তরিত হয়। পাশাপাশি জমিদার পূণ্য চন্দ্র দাস মন্দিরের নামে প্রায় ১৫০ বিঘা জমি দান করে যান। তবে এই দেড়শ বিঘা জমির অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। বর্তমানে কেবল কালী মন্দির ও গোবিন্দ মন্দির চত্বরের আট বিঘা জমিই টিকে আছে। ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি দেখতে এখানে যেমন অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে তেমনি বিভিন্ন পূজা পার্বণেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে আসেন। প্রতি বছর কার্তিক মাসে এখানে কালী পূজা বেশ ধুমধামে অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উপলক্ষে মেলা ও বসে। পূজায় প্রতিদিনই এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠা বলি দেয়া হয়। এখানকার কালী প্রতিমার দেশের অন্যান্য পূজা মণ্ডপের চাইতেও বেশ আকর্ষণের হয়ে থাকে।


নাটোরের দর্শনীয় স্থান :

লালপুরে বুধপাড়া কালী মন্দির ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। নাটোরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো নিম্নরূপ : উত্তরা গণভবন (দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি), পদ্মার চর - লালপুর, গ্রীন ভ্যালি পার্ক - লালপুর, শহীদ সাগর - লালপুর, ভেল্লাবাড়ি মসজিদ - লালপুর, গোসাই আশ্রম - লালপুর, বঙ্গজল রাজবাড়ী বা রানী ভবানী রাজবাড়ী, চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি, চলনবিল, বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর জমিদার বাড়ি, চলনবিল জাদুঘর, হালতির বিল, বীরকুৎসা জমিদার বাড়ী, ধরাইল জমিদার বাড়ি, আত্রাই নদী - সিংড়া, লুর্দের রানী মা মারিয়ার ধর্মপল্লী।


যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে রাজশাহী/নাটোর/চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর বাসে চড়ে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে নামতে হবে। সেখান হতে দক্ষিণ দিকে বনপাড়া লালপুর রাস্তায় উপজেলা পরিষদে বাস বা সি এনি জি যোগে আসতে পারেন। বনপাড়া মোড় হতে উপজেলা কমপ্লেক্সের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম