ঐতিহাসিক দয়ারামপুর জমিদার বাড়ি বা শরৎচন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি, নাটোর
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দয়ারামপুর জমিদার বাড়ি-টি বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনস্থ

ইতিহাস
দিঘাপতিয়া জমিদারের উত্তরসূরিরাই দয়ারামপুর জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। দিঘাপতিয়া রাজবংশ বাংলার রাজ বংশের মধ্যে অন্যতম একটি। দিঘাপতিয়া জমিদারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দয়ারাম। বাংলার রাজবংশের মধ্যে অন্যতম দিঘাপতিয়ার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ছিলেন রাজা রামজীবন রায়ের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী ও দেওয়ান। এক সমইয় এই রাজ্যের একজন সম্মানিত এবং পরাক্রমশীল ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি। নাটোর রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এই রাজা রামজীবন রায়। রাজা রামজীবন রায় ১৭৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তরুণ রাজা রাম কান্তরায়কে রাজ্য বুঝিয়ে দিলেও দেওয়ান দয়ারাম রায়কে তার অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করেন।তরুণ রামকান্তের রাজ্য পরিচালনায় অভিজ্ঞতা না থাকায় দয়ারাম রায়ই রাজকার্য পরিচালনা করতেন। এবং নিজ কার্য এবং নিষ্ঠা গুণে দয়ারাম রায়ের হাত ধরে নাটোর রাজ বংশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটে। একসময় রাজা রাম কান্তরায়ের মৃত্যুর পর দয়ারামের সাথে রাজ্যের হাল ধরেন রাম কান্তের স্ত্রী রাণী ভবানী রায়। রাণী ভবানী রায় নায়েব দয়ারামের ওপর খুব সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাঁর উপহার স্বরূপ তিনি দয়ারাম রায়কে দিঘাপতিয়া পরগণার মালিকানা দিয়ে দেন। দয়ারাম দিঘাপতিয়ায় বর্তমান উত্তরা গণ ভবন নামে খ্যাত তৎকালীন দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন। দয়ারাম রায়ের উত্তরসূরি দিঘাপতিয়া রাজা প্রমথনাথ রায়ের (১৮৪৯-১৮৮৩) জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রমদানাথ রায় ১৮৯৪ সালে রাজ্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
তার তিন ছোট ভাই ছিলেন কুমার বসন্ত কুমার রায়, কুমার শরৎকুমার রায় এবং কুমার হেমেন্দ্রকুমার রায়। তিন অনুজের জন্য তিনি বড়াল নদীর তীরে নন্দীকুজায় 'দিঘাপতিয়া জুনিয়র রাজ দয়ারামপুর এস্টেটস' স্থাপন করেন। দয়ারাম রায়ের নামানুসারে এই এলাকার নাম হয় দয়ারামপুর, আর বাড়ীর নাম হয় 'দয়ারামপুর জমিদারবাড়ী'। বর্তমানে যেটি 'কাদিরাবাদ সেনানিবাস।'
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, তুহিন এলিট এর বাসে করে নাটোর যেতে পারেন। নাটোর জেলা সদরে এসে মাদ্রাসার মোড় থেকে রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে পিটি আই মোড়ে যেতে হবে। পিটি আউ মোড় থেকে সি এন জি বা অটোতে দয়ারামপুর যেতে পারেন। এখানে কাদিরাবাদ সেনানিবাসেই দয়ারামপুর রাজবাড়ীটি অবস্থিত।সাখাওয়াত হোসেন এস এম