কালভৈরব মন্দির : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনা
চব্বিশ ফুট উচ্চতার মূর্তিটিকে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মূর্তি বলা হয়

কালভৈরব মন্দির বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত অন্যতম ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য খুবই পরিচিত একটা স্থান হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এখানে আছে পুরনো দিনের অনেক স্মৃতি, অনেক দর্শনীয় স্থানসমূহ। হাতে একটা দিন সম করে ঘুরে দেখে আসতে পারেন। মন্দিরটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো একটি মন্দির। শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দিরের দালানটির প্রায় অনেক অংশ নষ্ট হয়ে গেছে, এই মন্দিরটি সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ দান করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর প্রতিষ্ঠার পূর্বে মেড্ডা ছিল তিতাস তীরবর্তী বাজার। দূর্গাচরণ প্রথমে তিতাস পঞ্চবঢী মূলে মূর্তিটি স্থাপন করে পূজার্চনার ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনী মূর্তিটি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। মন্দির পরিচালনায় একটি-পরিচালনা কমিটি রয়েছে। এছাড়াও, পূজা-অর্চনা, নিত্যকর্মসহ অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদনের জন্য পুরোহিত ও তার পরিবার মন্দিরের অভ্যন্তরে অবস্থান করেন। মন্দিরের ভেতরে শ্রী শ্রী কালভৈরবের বিগ্রহটি লোহার ফটকে সর্বদাই তালাবন্ধ থাকে। এর সামনে রয়েছে দান বাক্স। যে-কেউই সাধ্যমত অর্থ প্রদান করতে পারেন যা মন্দির রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হয়।
শ্রী শ্রী কালভৈরব মূর্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডায় অবস্থিত শ্রী শ্রী কালভৈরব মূর্তিটি। চব্বিশ ফুট উচ্চতার মূর্তিটিকে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মূর্তি বলা হয়।ডানপাশে কালী মূর্তি ও বাঁপাশে পার্বতী দেবীর মূর্তি রয়েছে। মূর্তিটির পাশে ছিল শ্রী শ্রী কৈলাশ্বেশ্বর শিবলিঙ্গ, যা ১১২ বছরের পুরনো। মন্দিরের ডান পাশে শিবলিঙ্গ মন্দির। মন্দিরের বাম পাশে নতুন করে শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির ও শ্রী শ্রী শনিদেবের বিগ্রহ মন্দির রয়েছে। সুবিশাল এই বিগ্রহটির উচ্চতা ২৮ ফুট।যোগাযোগ ব্যবস্থা :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি মহাসড়করন সাথে যুক্ত, একটি হল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, যেটি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ এবং অপরটি হল কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক। সরাইল উপজেলার বিশ্বরোডে দুটি হাইওয়ে রোড মিলিত হয়েছে। সেখান থেকে বাসে কিংবা টেম্পোয় মেড্ডা এলাকার পূর্বদিকে এ মন্দিরের অবস্থান। খাবারের সুব্যবস্থা নেই। নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হয়।সাব্বির হোসেন এস এম