এডিনবার্গ : সাহিত্যের শহর হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এডিনবার্গ [caption id="attachment_29049" align="alignnone" width="1280"]
প্রাণবন্ত শহর এডিনবার্গ। ছবি : ক্যাটারিং এডিনবার্গ[/caption] এডিনবার্গ ফোর্থের দক্ষিণ উপকূল লথিয়ানে অবস্থিত। এটি প্রায়শই ইউরোপের অন্যতম প্রাণবন্ত শহর হিসাবে বিবেচিত। স্কটিশ লোকেরা একে আউল্ড রেকি, এডিনা, উত্তরের অ্যাথেন্স এবং ব্রিটেনের অন্যন্য চোখ বলে অভিহিত করে থাকে। শহরটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে সারাবিশ্বেই বর্তমানে প্রাধান্য পাচ্ছে এডিনবার্গ। স্কটিশ সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ এই এডিনবার্গ শহর। ২৬৪ বর্গকিলোমিটারের এই শহরটিতে প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যা রয়েছে। সপ্তম থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত এটি নর্থামব্রিয়ার অ্যাংলিয়ান কিংডমের অংশ ছিল, তারপরে স্কটিশ রাজাদের রাজকীয় আবাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৪তম শতাব্দীর মধ্যভাগে স্কটল্যান্ডের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল এডিনবার্গকে। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশক পর্যন্ত এডিনবার্গ স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে স্কটিশ বিবর্তনের পর স্কটল্যান্ডের সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয় এডিনবার্গে। এডিনবার্গ সাহিত্যের শহর। ইউনেস্কো কর্তৃক এই শহরকে প্রথম সাহিত্যের শহর বলা হয়। স্কটল্যান্ডের গ্রন্থাগারগুলো সাহিত্য চর্চার কেন্দ্র। শহরজুড়ে রঙ-বেরঙের পাখির দেখা মিলবে। এগুলো যেন শহরের সৌন্দর্যের একটি অংশ। এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক উৎসব। এই উৎসবে অংশ নেয় বিশ্বের সেরা শিল্পীরা। এই আয়োজন তিন সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এবার এডিনবার্গের পর্যটন আকর্ষন গুলো জানা যাক : এডিনবার্গ ক্যাসেল : [caption id="attachment_29050" align="alignnone" width="1600"]
ছবি : ব্রিটানিকা[/caption] এডিনবার্গের মুল আকর্ষণ হচ্ছে এডিনবার্গ ক্যাসেল। একে শহরের চাবি বলা হয়ে থাকে। দুর্গটি স্কটিশের মেরি কুইন এবং বনি প্রিন্স চার্লিসহ স্কটিশ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের স্মরণে রেখেছে। এখানে স্কটল্যান্ডের মুকুটের রত্ন এবং স্টোন অফ ডেসটিনি রয়েছে যা বহু শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের রাজ্যাভিষেকের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রিন্সেস স্ট্রিট : শপিং-এর জন্য প্রিন্সেস স্ট্রিট জনপ্রিয়। অসাধারণ পরিবেশ পেতে অনেকেই এখানে ভিড় জমান। এছাড়া ফটোগ্রাফি করার জন্যও জায়গাটি সেরা। হলিরুড প্রাসাদ : ১৬৭৮ সালে প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অনেক রাজা-রানী এই প্রাসাদে বসবাস করেছে। বর্তমানে প্রাসাদটি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ক্যামেরা ওবস্কুরা : [caption id="attachment_29051" align="alignnone" width="1200"]
ছবি : উইকিপিডিয়া কমনস্[/caption] ১৮৩৫ সালে নির্মান করা হয়। এটি এডিনবার্গের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। আর্থারের আসন : আর্থারের আসনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। এটি এডিনবার্গের অন্যতম শীর্ষ পয়েন্ট। এটি শহরের একটি ঐতিহাসিক স্থান। মেরি কিং এর ক্লোজ : এটি এডিনবার্গের আলোড়ন জাগানো একটি স্থান। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন থাকে জায়গাটির প্রতি। সেন্ট গিলস ক্যাথেড্রাল : [caption id="attachment_29052" align="alignnone" width="1200"]
ছবি : উইকিপিডিয়া [/caption] সেন্ট গিলস ক্যাথিড্রাল হল এডিনবার্গের প্রধান গির্জা। ১৪ শতাব্দীর দিকে এটি নির্মান করা হয়েছিলো থাকা এবং খাওয়া : এডিনবার্গ শহরের কেন্দ্রস্থলে অনেক হোটেল রয়েছে। নিউটন, টোলক্রস এবং ব্রান্টসফিল্ডের শহরতলিতে কিছুটা কম ভিড় থাকে এবং ওল্ড টাউন, বিশেষত কাউগেট এবং হান্টার স্কোয়ারের আশপাশে মিড-রেঞ্জের প্রচুর হোটেল রয়েছে। খাবার হিসেবে যেকোনো রেস্তোরাঁতেই পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো। এখানকার ডেজার্ট খুবই জনপ্রিয়। সুমাইয়া জান্নাত এস এম
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, উইকিভয়েজ