এক নজরে ইতালির বিখ্যাত সব জাদুঘর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিশ্ব ঐতিহ্য আর শিল্পে ইতালি সবার থেকে এগিয়ে

বিশ্ব ঐতিহ্যে ভরপুর দেশ ইতালি।

বিশ্ব ঐতিহ্যে ভরপুর দেশ ইতালি। ছবি : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
ইতিহাস বলে, রোমান সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন যেখানে, সেখানে ইতাহাস আর ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য মিলে মিশে একাকার, দেশটির নাম ইতালি। পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সভ্যতার সূতিকাগার নামে খ্যাত দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইতালি। ক্রীড়া, শিল্প, ঐতিহ্য, খাবার সবকিছুর এক অপার সম্ভার যেন এই দেশ। সভ্যতার ধারক বাহক এদেশে রয়েছে বিখ্যাত সব সংগ্রহশালা। ইতালির উল্লেখযোগ্য কিছু জাদুঘর এবার দেখে আসা যাক।

উফিজি গ্যালারী : উফিজি গ্যালারী, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জাদুঘর। ফ্লোরেন্সে অবস্থিত এই প্রাসাদটি ষোড়শ শতকের অন্যতম নিদর্শন। যেকোনো স্থাপত্যপ্রেমির মন সহজে আকৃষ্ট করার মত পশ্চিমা শিল্পের কয়েকটি বিখ্যাত নিদর্শন রয়েছে এই প্রাসাদে। এদের মধ্যে লিওনার্দোর 'অ্যানোনেশন' (খ্রিস্টীয় ১৪৭২-৭৫) স্যান্ড্রো বোটিসেলির 'প্রেমেভেরা' (খ্রিস্টীয় ১৪৮২) এবং পাওলো উসেসেলোর ট্রিপটিচ 'সান রোমানোর যুদ্ধ' (খ্রিস্টীয় ১৪৩৫) অন্যতম। উফিজি শিল্পকলা জাদুঘর দর্শন। ছবি : উফিজি শিল্পকলা জাদুঘর দর্শন। ছবি : রোভ ডট মি

এছাড়াও কারাভাগিও, তিতিয়ান, মাইকেল এঞ্জলো, রাফেল, সিমাবু, ডুসিও এবং পিয়েরো দেলা ফ্রান্সেস্কা মতো প্রসিদ্ধ ইতালিয়ান শিল্পীদের কাজও রয়েছে। আপনি যদি রেনেসাঁর শহরে জন্ম গ্রহণ না করেও সে শহরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করতে চান তাহলে উফিজি আপনার মনোবাঞ্ছনা পূরণ করতে ব্যর্থ হবেনা। প্রাসাদের গ্যালারিটিতে সেসময়ের অনেক বড় বড় শিল্পের নির্দশন রয়েছে।



ছবি : লোনলি প্লানেট
যেন উফিজি জার্মান, ডাচ এবং ফ্লেমিশ স্হপতি আলব্র্যাচট ডুরের, রেমব্র্যান্ড এবং স্যার পিটার পল রুবেন্সের শিল্প দিয়ে তৈরি এক টুকরো শহর। এই প্রাসাদ এতটাই জনপ্রিয় যে আগাম টিকেট কাটলে তবেই পাবেন দর্শনের সুযোগ।

এখানে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে তাই যথাসম্ভব সকাল সকালে সেখানে গিয়ে পৌঁছনোই ভালো। আপনি যে চিত্রকর্মীদের নিয়ে আগ্রহী তাদের একটি তালিকা তৈরি করে প্রথমেই সেগুলো দেখে ফেলবেন। যাতে সময়ের অভাবে সেগুলো বাদ না পরে।


ন্যাপলস জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। ছবি : সংগৃহীত

ন্যাপলসে জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর : ন্যাপলসে জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরটি ইতালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। এটি কেবল গ্রীক এবং রোমানদের পুরাতাত্ত্বিক নির্দশন নয়, বরং বহু প্রাচীন রাজকীয় সম্পদ অক্ষত আছে। মিশরীয় এই সংগ্রহশালাটি ইতালির অন্যতম সেরা জাদুঘরের একটি যা খ্রিস্টপূর্ব ২০০ থেকে শুরু হওয়া রোম ও মিশরের সম্পর্কের সাক্ষী হয়ে আছে।

ফার্নেসের অ্যান্টিক সংগ্রহের মাঝে আছে বিভিন্ন মাস্টারপিস। সম্ভবত ২০০ খ্রিস্টপূর্বে মার্বেল স্থাপত্যবিদ দল 'দ্য ফার্নেস বুল'-এর সেরা নির্মাণ আছে এই সংগ্রহতে। যা একইসাথে ড্রিস নিয়ে গ্রিক রূপকথার স্বরূপ প্রকাশ করে।

মিশরীয় সভ্যতার অনেক ঐতিহ্যে সংরক্ষিত আছে ইতালির এই তুরিন

মিশরীয় সভ্যতার অনেক ঐতিহ্যে সংরক্ষিত আছে ইতালির তুরিন জাদুঘরে। ছবি : উইকিপিডিয়া


 এই জাদুঘরের সবচেয়ে গর্বের বিষয় অবশ্যই এর মোজাইকের সংগ্রহ। কারণ এখানে পম্পেই এবং হারকুলেনিয়ামের বিভিন্ন ঘরোয়া জিনিস সংরক্ষিত রয়েছে। আর এই দুই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের থেকে আনা মোজাইক এর রং এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের জন্য যেকাউকে মুগ্ধ করতে সক্ষম। সর্বাধিক আকর্ষণীয় প্রদর্শনী হলো ‘গেজেনটো সেগ্রেটো’ (সিক্রেট মন্ত্রিপরিষদ), এতে পুঁপেই এবং হারকিউলনেয়ামে মূর্তি, মোজাইক, ফ্রেস্কো এবং এমনকি গৃহস্থালী সামগ্রীর আকারে সুস্পষ্ট ইরোটিকা পাওয়া যায়।

তুরিন মিউজিয়াম : কায়রোতে যে সকল সংগ্রহশালায় মিশরীয় প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে তার মধ্যে তুরিন মিউজিয়াম অন্যতম। এটি সেখানকার একমাত্র জাদুঘর যেখানে মিশরীয় শিল্প ও সংস্কৃতির একটা বিরাট অংশকে মানুষের সামনে তুলে ধরছে। আঠারোশো শতকে নির্মিত এই জাদুঘর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহতম মিশরীয় সংগ্রহশালা।



মিশরীয় সাম্রাজ্যের অনেক প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে এই জাদুঘরটিতে। ছবি : পিন্টারেস্ট
১৯০০ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই সংগ্রহশালার খোঁজ পায়। খননের পর থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ঐতিহ্য ধারণ করা নিদর্শনগুলোর প্রত্নতাত্ত্বিকদের অধীনে রয়েছে। ফলস্বরূপ স্মৃতিস্তম্ভের প্রস্তর মূর্তি, টেক্সটাইলস, স্টেলা, পাপরিং মমিগুলি সহ সম্পূর্ণ জাদুঘর পুনঃর্নির্মাণ করা হয়।

মস্কো ফেরারি :



ছবি : সংগৃহীত
আপনি যদি গাড়িপ্রেমিক হন, তাহলে এই জাদুঘরটি আপনার আসক্তিটাকে বাড়িয়ে দিবে আরো কয়েকগুণ। বিশ্বের বিখ্যাত মোটর রেসিং এবং স্পোর্টস-কারের সম্ভার ফেরারী মিউজিয়াম। ছয় তলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরটির স্থাপত্য নির্মাণ করেছেন সেরেগিও পিনিনফারিনা।

মুসেই ভ্যাটিকানা, রোম :



ষোড়শের শতকের জাদুঘর মুসেই ভ্যাটিকানা, রোম। ছবি : সংগৃহীত
নাম শুনে মনে হতেই পারে এটি ভ্যাটিকান সিটির কোনো জাদুঘর। কিন্তু না, রোমে অবস্থিত ষোড়শের শতকের অন্যতম নিদর্শন এই জাদুঘর। রোমান ক্যাথলিক চার্চ সহ ইতিহাসের পাতায় রোমান ধর্মীয় সভ্যতায় যা কিছুর নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় যেমন : পৌরাণিক ভাস্কর্য থেকে রেনেসাঁর শিল্প এবং মাইলেঞ্জেলোর অতুলনীয় ফ্রেসকোসসহ সিসটাইন চ্যাপেল প্যাঁপল গাড়ি , সবকিছুরই দেখা মিলবে এই জাদুঘরে।