সৌন্দর্যে ভরপুর নান্দনিক সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মেঘনা নদীর উপর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, কিশোরগঞ্জ। ছবি : ট্রি ফর মেনকাইন্ড

 প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর হাওর-নদীবেষ্টিত জেলা কিশোরগঞ্জ। এই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে প্রমত্তা মেঘনা নদী। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা অবসরের জন্য ঘুরে আসতে পারেন মেঘনা নদীর আশেপাশের স্থানগুলো। এই নদীর ওপর নির্মিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু হতে খুব সহজেই চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নান্দনিক সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারনে এই সেতুটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব ও আশুগঞ্জের মধ্যে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেঘনা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। স্থানীয়দের কাছে সেতুটি 'ভৈরব ব্রিজ' নামেও পরিচিত। পূর্বে এই সেতুটির প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু। ২০১০ সালে তা পরিবর্তন করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু করা হয়। সেতুটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাথে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Syed-Nazrul-Islam-Setu ছবি : ভ্রমণ গাইড


পূর্বে মেঘনা নদীর উপর কোনো সেতু ছিলনা। তখন ফেরি পারাপার ছিল যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা। তাই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে এবং ২০০২ সালে তা শেষ হয়। প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি স্থাপন করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৯ দশমিক ৬০ মিটার। এতে ৭টি ১১০ মিটার স্প্যান এবং ২টি ৭৯ দশমিক ৫ মিটার স্প্যান ব্যবহার করা হয়েছে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর ঠিক পাশেই ঐতিহাসিক রাজা ৬ষ্ঠ জর্জ রেল সেতু বা ভৈরব রেল সেতু অবস্থিত। ১৯৩৭ সালে নির্মিত এই রেলসেতুর অপর নাম হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলসেতু। মেঘনার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই জোড়া সেতুর মনোরম দৃশ্য সহজেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। বর্তমানে ভৈরব রেলসেতুর পাশে আরো একটি রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

মেঘনা নদীর চারপাশের নৈসর্গিক শোভা দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এখানে ভীর জমায়। এই সেতুর উপর দাঁড়িয়ে বিশাল মেঘনা নদীর অপার্থিব সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। নদীর অকৃত্রিম বাতাস, বিশাল জলরাশির ঢেউ খেলা, মুক্ত আকাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য যে কারও মন ভরিয়ে দিতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্ত হাওয়ায় কর্মব্যস্ত দিনের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই এই স্থানটি বেছে নিয়েছেন। এছাড়া নদীর ঢালে বিছানো পাথরের উপর বসে মনোরম পরিবেশে পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠেন অনেকে। সেতুর সাথে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক বাতি এই সেতুটিকে এক ভিন্ন রূপ ও বৈচ্যিত্রতা এনে দিয়েছে। দিনের শেষে রাত নেমে আসলে সেতুর সমস্ত বাতিগুলো জ্বলে উঠে। ফলে সন্ধ্যার পর সেতুটিকে দেখতে অন্যরকম সুন্দর দেখায়।

কীভাবে যাবেন : ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলি থেকে কিশোরগঞ্জগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায়। এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য নাবিল পরিবহন, অনন্যা পরিবহন, একতা সার্ভিস, ঈশা খাঁ গেইট লক ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনাকে ভৈরব শহরের দূর্জয় মোড়ে নামতে হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সিলেট-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ট্রেনে ভৈরব রেলস্টেশনে নেমে রিক্সা ভাড়া করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু যেতে পারবেন।