সেমাই মেশিন, এই মেশিন দিয়েই বানানো হয় ঐতিহ্যবাহী চালের সেমাই; ছবি : সংগৃহীত
নোয়াখালিতে এই চালের সেমাই বিশেষ করে দুই ঈদ তো আছেই এছাড়াও শবে বরাতে, শবে কদরে বা মেহমান আসলে এই সেমাই রান্না করতো গ্রামের মানুষ। ছোটবেলায় দেখতাম আশে পাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ বিশেষ করে রোজার ঈদের এক মাস পূর্ব থেকে শুরু করে মাসজুড়ে একজনের পর একজনে নিতেন সেমাই মেশিন। কারণ পুরো পাড়ার মধ্যে ১টা কিংবা ২টা সেমাই মেশিন ছিল কেবল।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এ সেমাইর কদর। কেউ এত কষ্ট করে এখন আর সেমাই বানাতে চায় না। তবে এই সেমাইয়ের স্বাদ ভিন্ন এবং সুস্বাদুও বটে।
পানি এক দুই লিটার বা পরিমাণমত
চালের গুড়ো পরিমাণমত
লবণ সামান্য
তেজপাতা (ঘ্রাণের জন্য দেওয়া যেতে পারে)।
মেশিন দিয়ে বের হয়ে আসা সেমাই; ছবি : বিডি নিউজ ২৪
প্রণালী
কমপক্ষে দুইজন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়ে এই সেমাই তৈরি করতে। প্রথমে একটি পাতিলে পানি নিয়ে চুলায় দিয়ে ফোটাতে হবে। তাতে লবণ, তেজপাতা দিন। এরপর চালে গুঁড়ো দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভাল ভাবে হলে নামিয়ে হাল্কা গরম থাকতে থাকতে খামির তৈরি করুন।
তারপর সেমাই মেশিনে তেল লাগিয়ে একটা টেবিলের সাথে আটকাতে হবে। মুখে আটার খামির দেবে একজন। অন্যজন উপরের কলের ধরা দিয়ে ঘোরাবে। এটার নীচে চালুনি আছে। চালুনি দিয়ে সেমাই বের হয়ে আসবে। বারবার গুঁড়ি ছুঁড়ে মারতে হবে। না হলে সেমাই একটার সাথে আরেকটা লেগে যাবে। এরপর কড়া রোদে দুইদিন শুকিয়ে এয়ার টাইড পটে ভরে রাখুন। দুই বছরেও কিছু হয় না এই চালের সেমাইয়ের।
রান্না পদ্ধতিউপকরণ:
দুধ এক লিটার অথবা ডিপ্লোমা গুড়ো দুধ ১ কাপ এর সাথে চার কাপ পানি গুলিয়ে নিতে হবে;
নারিকেল দুই কাপ;
চিনি দেড় কাপ অথবা স্বাদ বুঝে;
তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, কিচমিচ,বাদাম পরিমাণ মতো।
রান্না
দুধ চুলায় ভাল করে ফুটলে এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা দিন। এরপর চিনি দিন। ভালোভাবে সব কিছুক্ষণ ফুটান। এরপর নারিকেল দিন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিমাণ মতো সেমাই দিয়ে ফুটান। সেমাই একটু নরম হলে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা করে বাদাম, কিশমিশ, চেরিফল ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।