সহজ পন্থায় কর্পোরেট ট্যুর ম্যানেজমেন্ট

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : জেনে নিন কর্পোরেট ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত

বড় বড় ট্যুর কোম্পানিগুলো কর্পোরেট ট্যুরের দায়িত্ব পালন করে থাকে। ছবি : বিএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজম


কর্পোরেট ট্যুরগুলো বেশিরভাগ সময়ই বছরের শেষ বা শুরুর দিকে অর্থাৎ শীতকালে বা কখনও কখনও বছরের মাঝামাঝি সময়ে হয়ে থাকে। বিভিন্ন ব্যাংক, সংস্থা, ইন্সটিটিউট প্রভৃতি যেই ট্যুরগুলো আয়োজন করে সেগুলোকে মোটাদাগে কর্পোরেট ট্যুর বলে। এসব ট্যুরের যাত্রীরা মূলত চাকুরিজীবি। সারাবছর কাজ করার সাথে সাথে অফিসের বাকিদের সাথে কিছু সময় আনন্দে কাটাতে মূলত অফিস এই ধরণের ট্যুরের আয়োজন করে। মূলত বড় বড় ট্যুর কোম্পানিগুলো এই কর্পোরেট ট্যুরের দায়িত্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্পর্কের মাধ্যমে আপনিও এই ধরণের ট্যুরের দায়িত্ব পেতে পারেন। সারা বছর কাজের চাপে থাকা মানুষগুলো কয়েকটা দিন রিল্যাক্সের জন্য এই ট্যুরে যায় কখনও কখনও পরিবার নিয়েও যায়। তাই ট্যুর ম্যানেজারের কিছুটা চাপ থাকে ট্যুরটা যাতে নির্ঝঞ্ঝাট হয় ও কোন সমস্যা তৈরি না হয়। তবে সঠিক প্রস্তুতি থাকলে কর্পোরেট ট্যুর ম্যানেজ করাটা খুব বেশি কঠিন হয় না।

১। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমত বাজেট ও লোক সংখ্যা নিশ্চিত হয়ে নেন। সেই হিসেবে ঠিক করুন আপনি বড় বাস, ছোট বাস নাকি মাইক্রোবাস রিজার্ভ করবেন। যেহেতু বড় গ্রুপ যাবে তাই আলাদা বাসে অল্প কিছু টিকিট না কেটে রিজার্ভ নেয়াটাই ভালো হবে। ট্রেনে গেলে লোক সংখ্যা বেশি হলে পুরো বগি অথবা বগির একটা অংশ কিংবা বেশ কিছু কামরা রিজার্ভ নিতে পারেন। লঞ্চের ক্ষেত্রেও এক সারির কেবিন বুকিং দিতে পারেন। তবে এসব বুকিং ও রিজার্ভেশনের কাজ আগে থেকেই করে ফেলতে হবে।

২। যোগাযোগ করে যেখানে যাবেন সেখানকার হোটেল ও অভ্যন্তরীন যানবাহন বুকিং আগে থেকেই করে ফেলতে হবে। চেষ্টা করতে হবে বাজেটের মধ্যে সেরা হোটেলের ব্যবস্থা করতে। যানবাহনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করতে হবে।

৩। যেহেতু নানান ধরণের লোক যাবে তাই খাবার দাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণত যেসব খাবার আমরা খাই সেসব খাবারের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে সেই সাথে পূর্বে অনুমতি নিয়ে কিছু স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা রাখতে পারেন কিন্তু সবাই যেহেতু নাও খেতে পারে তাই এ ব্যাপারে আগের থেকে জানিয়ে নিতে হবে।

৪। ট্যুরের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ট্যুরের আগেই জানিয়ে দিতে হবে। কখন কোথায় যাবেন তা আগে থেকে জানিয়ে রাখলে ট্যুরের সময় সহজেই ঘুরাঘুরি করা যাবে। লিস্ট করে ফেললে আপনার উপরও এক্সাপ কমে আসবে। এছাড়াও ট্যুর শুরুর আগে ও ট্যুরের বিভিন্ন সময় ট্যুরের পরিকল্পনা সবাইকে একত্র করে জানিয়ে দিতে হবে এতে বারবার সবার প্রশ্নের শিকার হওয়া লাগবে না।

৫। ট্যুরে যাতে কারও কোন সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হোটেলে রুম ভাগ করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে এক রুমে বেশি চাপাচাপি হয়ে না যায় বা রুম শেয়ারের ক্ষেত্রে কারও ব্যক্তিগত পছন্দ থাকলে সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।

৬। ট্যুরের স্পটগুলো যাতে খুব বেশি না হয়ে যায়। রিলাক্সে যতটুকু ঘুরাঘুরি করা যায় সেটুকুই ঘুরার ব্যবস্থা করতে হবে।

ছবি : ক্লিপার্ট লাইব্রেরী


কর্পোরেট ট্যুরগুলো মূলত কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সিলেট, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এসব স্পটে হয়ে থাকে। তাই এসব স্পট নিয়ে ভালো ধারণা থাকলে আপনার জন্যও ট্যুর ম্যানেজ করা সহজ হবে। কর্পোরেট ট্যুরগুলোর বাজেট সাধারণভাবে কিছুটা বেশিই থাকে। সেক্ষেত্রে ৪,০০০ থেকে শুরু করে ৭/৮ হাজার পর্যন্ত বা আরো বেশিও হয় কখনও কখনও।

 আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।