লালন শাহ সেতু বা পাকশী সেতু, পাবনা
যমুনা সেতু, মেঘনা সেতু এবং মেঘনা গোমতী সেতুর পরে এটিই বাংলাদেশের চতুর্থ দীর্ঘতম সড়ক সেতু

পদ্মার কোলে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য, রূপসী পদ্মার ঢেউয়ের কলধ্বনি, চারদিকে সবুজের বেষ্টনী ও উত্তাল হাওয়া পর্যটকদের করে বিমুগ্ধ। এই ঈশ্বরদীতেই রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সেতু লালন শাহ সেতু। লালন শাহ সেতু ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত সেতু। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের অদূরেই এই ব্রিজটি অবস্থিত। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সাথে সমান্তরালভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটির পূর্বদিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা এবং পশ্চিমে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা। ফকির লালন শাহের নামে এই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে লালন শাহ সেতু। এই সেতু কুষ্টিয়ার সাথে ঈশ্বরদীকে সংযুক্ত করেছে। লালন শাহ সেতু অনেকের কাছে পাকশী সেতু নামেও পরিচিত। যমুনা সেতু, মেঘনা সেতু এবং মেঘনা গোমতী সেতুর পরে এটিই বাংলাদেশের চতুর্থ দীর্ঘতম সড়ক সেতু।
লালন শাহ সেতু
২০০৪ সালে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। লালন শাহ সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৮০০ মিটার এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক ১০ মিটার। পুরো ব্রিজে খুঁটি বা পিলার রয়েছে ১৭টি। প্রতি খুঁটির মাঝে ১০৯ দশমিক ৫ মিটার করে দূরত্ব রাখা হয়েছে। সেতুটির ওপরে একটি ডিভাইডারের মাধ্যমে একে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । উভয়দিকে চলাচলের সুবিধার জন্য এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই ডিভাইডার ব্যবহার করা হয়েছে । দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই সেতুর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা ও ঝিনাইদহের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ প্রসারিত হয়েছে। এছাড়াও মংলা বন্দরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে আসছে।এই সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক প্রসার হয়েছে। এই সেতুটি ঈশ্বরদীর অন্যতম একটি ভ্রমণ স্পটে পরিণত হয়েছে। পদ্মা নদীর কোলে অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে এই সেতুটি। এই সেতু থেকে পদ্মার নৈসর্গিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে। অপরূপ পদ্মার ঢেউয়ের কলতান, চারিদিকে গাছের সবুজে ছেয়ে থাকা চিরচেনা বাংলার রূপ আর নদীর মাতাল হাওয়া-এই মোহনীয় নিসর্গে চোখ জুড়াবে আপনার। এই সেতুর চারপাশের মনোরম পরিবেশ এবং নির্মল বাতাস আপনার মনকে করে তুলবে সতেজ। প্রতিদিন এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে প্রকৃতির মাঝে নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য হারাবার আশায়।
যেভাবে যাবেন :
দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে চড়ে পাবনা আসতে পারেন। পাবনা জেলা সদর থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার। ঈশ্বরদী উপজেলার একটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম হলো পাকশী। পাকশী রুপপুর প্রকল্পের পাশে এই সেতুটির অবস্থান। রেল অথবা সড়ক পথে সরাসরি ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন অথবা বাস টার্মিনালে নেমে সেখান থেকে অটোরিকশা অথবা টেম্পু চড়ে লালন শাহ সেতুতে আসতে পারেন।যেখানে থাকবেন :
পাবনায় থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য হোটেল হল হোটেল প্রবাসী ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল শিলটন, হোটেল পার্ক,প্রাইম গেস্ট হাউজ, স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, ছায়ানীড় হোটেল, মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।রুবাইদা আক্তার এস এম