রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি, ময়মনসিংহ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ময়মনসিংহ শহরের প্রাচীন জমিদার বাড়ির মধ্যে অন্যতম গৌরীপুর লজ

Ramgopalpur-Zamidar-Bari-Mymensingh-রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি (1)

রামগোপালের জমিদার বাড়িতে এখনো দেখা পাওয়া যায় প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত এই প্রবেশদ্বারের; ছবি : সংগৃহীত


পুরানো জমিদার বাড়ি সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে ময়মনসিংহ শহরের গৌরীপুরের রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি হতে পারে কোন এক ছুটির দিনের জন্য আদর্শ স্থান। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ শহরে বেশ কিছু প্রাচীন জমিদার বাড়ির মধ্যে অন্যতম এই গৌরীপুর লজ। ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা কে তা না জানা গেলেও ১৮৫০ শতকের দিকে এই জমিদার বাড়ি স্থাপিত হয় বলে ধারণা করা হয়।

তবে, ১২৬২ বঙ্গাব্দে উত্তরাধিকার সূত্রে গৌরীপুরের রামগোপালপুরের জমিদার কালী কিশোরের পুত্র কাশী কিশোর রায় চৌধুরী পিতৃ সম্পত্তির অধিকারী হন। কাশী কিশোরের অধীনে মূল জমিদার বাড়ির স্থাপত্যশৈলীতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। পরবর্তীতে কাশী কিশোরের ছেলে রাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় নির্মাণ করেন বিদ্যাপীঠ, রঙিন কাঁচের কারুকার্যের প্রাসাদ, কৃষ্ণ মন্দির ও প্রাসাদের প্রধান সুরঙ্গ পথ। এছাড়াও যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ব্রিটিশদের কাছ থেকে 'রাজা' উপাধি ও 'অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট' পদ লাভ করেন। তিনি পিতার নামে তৈরি করেন 'কাশী কিশোর কারিগরি বিদ্যালয়'। যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এই গৌরীপুর ও আশেপাশের এলাকার জমিদারদের ইতিহাস নিয়ে রচনা করেন 'বারেন্দ্রবাহ্মণ জমিদার' গ্রন্থ।

আরও পড়ুন : ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বিপিন পার্ক

এই জমিদার বংশেরই একজন জমিদার হরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী যিনি ছিলেন তবলা সাধক। ওই সময়ে তিনি সংগীত নিয়ে ইংরেজি ভাষায় একটি গ্রন্থ 'দ্য মিউজিয়াম অব ইন্ডিয়া' লিখেন। এছাড়াও তিনি তবলা বিষয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন। তার আমলেই বিখ্যাত সংগীত সাধক মোহাম্মদ আলী খাঁ, দিল্লীর ওস্তাদ মসিদ খাঁ ও ওস্তাদ দবির খাঁ সহ অনেকেই এই জমিদার বাড়ির সংগীত দরবারে আমন্ত্রিত হতেন। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের পরে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির মধ্য দিয়েই এই জমিদার বাড়ির জমিদারির সমাপ্তি ঘটে এবং বাকি বংশধরের পাড়ি জমান ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। কালের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন এই জমিদার বাড়ি পুরোপুরি অক্ষত অবস্থায় টিকে না থাকলেও এখনো টিকে আছে দুইটি প্রবেশদ্বার, দেয়াল এবং বাড়ির ভগ্নাংশ। এছাড়াও এই বাড়ির প্রাচীন মন্দিরে এখনো নিয়মিত পূজার আয়োজন হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : মুক্তাগাছার রাজবাড়ি : ময়মনসিংহের প্রাচীন জমিদার বাড়ি

ময়মনসিংহ শহরের আরও দর্শনীয় স্থান

প্রাচীন আমলের কীর্তি হিসেবে এখানে আরও দাঁড়িয়ে আছে মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি, আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল, শশীলজ ইত্যাদি। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, ময়মনসিংহ জাদুঘর, পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদ, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদিও ভ্রমণপিপাসু মানুষের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। মুক্তাগাছার বিখ্যাত মণ্ডা জিভে স্বাদও এনে দেবে যে কারও।

যেভাবে যাওয়া যাবে :

ঢাকা থেকে খুব সকালে বাস কিংবা ট্রেন ধরে পৌঁছনো যাবে ময়মনসিংহ। এনা, আলম এশিয়া, শামীম এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি এসি এবং নন এসি বাস রয়েছে এই পথে। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছনো যায় ময়মনসিংহ শহরে। এরপরে বাস বা সিএনজি'তে কিশোরগঞ্জগামী রোড ধরে আসতে হবে রামগোপালপুর বাজারে। এখানে স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই জমিদারবাড়ির দেখা মিলবে খুব সহজে।

বি:দ্র: যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট না করা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় থাকা আমদের কর্তব্য।  

জোহরা মহসীন   এস এম