বেইজিং শহরের কাছাকাছি অন্যতম বৃহৎ এবং বিখ্যাত ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন সামার প্যালেস। ছবি : ইজি ট্যুর চায়না
আয়তনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে প্রথম দেশ চীনে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্থান।
এই পর্যটন স্থান সমূহের মাঝে চীনের রাজপ্রাসাদগুলো ভ্রমণপিপাসুদের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। চীনের রাজপরিবারের ইতিহাস যেন বিশ্বখ্যাত। আর চীনের হাজার বছরের রাজকীয় ইতিহাস জানার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম তাদের রাজপ্রাসাদগুলো।
প্রাসাদগুলোর নির্মাণশৈলী এবং এর অভাবনীয় সৌন্দর্য অবাক করার মত। রাজপরিবারের ইতিহাসের সাথে এই রাজপ্রাসাদগুলোও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই প্রাসাদ ভ্রমণ করতে আসেন। জানার চেষ্টা করেন এর ইতিহাস সম্পর্কে। চীনের ইতিহাস গভীরভাবে উপলব্ধির জন্য এই প্রাসাদগুলোতে ভ্রমণ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই। চলুন জেনে নেয়া যাক চীনের বিখ্যাত কিছু রাজপ্রাসাদ এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে।
'ইম্পেরিয়াল প্যালেস মিউজিয়াম' নামে খ্যাত ফরবিডেন সিটি, চীন। ছবি : ফ্লিকার
বেইজিং শহরের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত এটি ভ্রমণ পিপাসুদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয়। এটি অবশ্য 'ইম্পেরিয়াল প্যালেস মিউজিয়াম' নামেও পরিচিত। এটি যেন তৎকালীন রাজকীয় ক্ষমতার এক প্রতীক। পুরো কমপ্লেক্সটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের আখ্যা পাওয়া এবং শক্ত দেয়ালের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
৭০০ বছরের পুরনো এই প্রাসাদটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং ভালোভাবে সংরক্ষিত কাঠের তৈরি রাজপ্রাসাদ। প্রাচীন এই প্রাসাদটির কেন্দ্রে রয়েছে বিশাল তিনটি হল। প্রথম হলটি ব্যবহার করা হতো রাজার অভিষেক উপলক্ষে। এখানেই দেখা মেলে রাজকীয় ভাবে সাজানো রাজসিংহাসন যা “ড্রাগন থ্রোন” নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সাজানো।
পরবর্তী হলটিতে 'কিং সাম্রাজ্যের' সেডান চেয়ারসহ বিভিন্ন নিদর্শন এবং পরবর্তী হলে রাজকীয় ভোজনালয়। ২৫০ টন মার্বেল পাথর দিয়ে কৃত্রিম ভাবে তৈরি মেঘ এবং ড্রাগন এই ভোজনালয়ের আকর্ষণ বাড়িয়েছে বহুগুণে। এই প্রাসাদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা “ট্রেজার গ্যালারি” এবং রাজকীয় বাগান। বিচিত্র ফুলের সমারোহে সমৃদ্ধ এই বাগানটি যা মুগ্ধতা যেন বাড়িয়েই দেয়।
তিব্বতীয় ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন পঞ্চম দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর উঁচুতম প্রাচীন স্থাপত্য পটালা প্যালেস। ছবি : ফ্লিকার
পঞ্চম দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর উঁচুতম প্রাচীন স্থাপত্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৭৫০ মিটার উঁচু এই প্রাসাদ ১৬৪৫ সালে নির্মিত হয়।
তিব্বতীয় ইতিহাসের অনন্য এই নিদর্শন দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন এখানে। প্রাসাদটিতে ১,০০০ এর অধিক রুম রয়েছে এবং এর চারপাশে পাথুরে দেয়াল দ্বারা আবৃত।
প্রাসাদটি দু-ভাগে বিভক্ত। 'রেড প্যালেস' এবং 'হোয়াইট প্যালেস'। লাল প্রাসাদটি বৌদ্ধধর্ম সংলগ্ন পড়াশোনা কিংবা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হত।
বর্তমানে এখানে বেশ কিছু দালাইলামার সমাধি রয়েছে। সাদা প্রাসাদটি প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হত। পুরো পটালা প্যালেসের বিভিন্ন স্থাপত্য তিব্বতীয় ইতিহাস এবং এর মানুষদের গল্প জানান দেয়। ব্রোঞ্জ দ্বারা নির্মিত রেড প্যালেসের ছাদ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।
সম্রাট কিনগ্লং নির্মিত সামার প্যালেস, বেইজিং। ছবি : সংগৃহীত
সামার প্যালেস :
বেইজিং শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরেই এই প্যালেসটি অবস্থিত। এটিও অন্যতম বৃহৎ এবং বিখ্যাত ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন। সম্রাট কিনগ্লং প্রাসাদটি ১৭৫০ সালে নির্মাণ করেন যদিও ১৮৬০ সালে এটি ধ্বংস হয় এবং পরবর্তীতে ১৯০০ সালে একে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বলা হয়ে থাকে রাজকীয় পরিবার গ্রীষ্মে এখানে বাস করতেন। সে থেকেই হয়ত প্যালেসটি সামার প্যালেস নামে পরিচিত।
এখানে অনেক সুন্দর বাগান রয়েছে যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে প্রতিনিয়ত। এখানে অবস্থিত লেকে নৌকা চালানো মিস করা উচিত নয় একদমই। টুরিস্টদের অন্যতম সুন্দর এক অভিজ্ঞতা এটি । কারুকার্যময় দেয়াল এবং প্রবেশদ্বার গুলি অবাক করার মত। যা মুগ্ধতার মাত্রা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সামার প্যালেস, বেইজিং। ছবি : লোনলি প্লানেট
বেশিরভাগ ভ্রমণপিপাসুর মনেই যেন চায়না সম্পর্কে জানার এক অদম্য আগ্রহ থাকে। আর খুব ভালোভাবে চায়না সম্পর্কে জানতে হলে এই প্যালেসগুলিতে ভ্রমণ হতে পারে অত্যন্ত ভালো একটি মাধ্যম। একিই সাথে ইতিহাস এবং সৌন্দর্যের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই স্থাপত্যগুলি নিশ্চিতভাবে আপনার চীন ভ্রমণে সুন্দর এক অভিজ্ঞতার গল্প হয়ে থাকবে।