যোগ্যকার্তা : প্রিয়জনদের সাথে ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় স্থান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক নগর হিসেবে খ্যাতি রয়েছে যোগ্যকার্তার

প্রিয়জেনদের সাথে ভ্রমণের যথার্থ একটি স্থান যোগ্যকার্তা। ছবি : দা ক্রাওডেড প্লানেট

ইন্দোনেশিয়ার একটি শহর যোগ্যকার্তা বর্তমানে ভ্রমনপ্রেমীদের কাছে একটি পরিচিত নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি ভ্রমনের পাশাপাশি সুন্দর এই শহরটির চোখধাঁধানো মুগ্ধতা উপভোগ করতে প্রতি বছর ভিড় জমায় অনেক পর্যটক। একা কিংবা পরিবার বা খুব প্রিয়জনদের সাথে ছুটি কাটাতে ইন্দোনেশিয়ার এই শহরটি ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শহরটির আয়তন প্রায় ৩২ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার। যোগ্যকার্তা ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র শহর যেখানে এখনও রাজতন্ত্র দ্বারা শাসিত। ইতিহাস আর সংস্কৃতিতে পূর্ণ এই শহরটিতে স্থানীয়রা সংগীত, নাটক, সাহিত্য, কবিতাসহ চর্চা করে বিভিন্ন শিল্পের।

এজন্য ইন্দোনেশিয়ানরা এই শহরটিকে সাংস্কৃতিক নগরী নামেও ডেকে থাকে। ইন্দোনেশিয়ান শিক্ষার কেন্দ্র হিসাবে খ্যাত, যোগ্যকার্তায় রয়েছে দেশেটির উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় ইনস্টিটিউট, রয়েছে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য একে শিক্ষার্থীর শহরও বলা হয়ে থাকে। 'দ্যা ভিশন টু পারফেক্ট সোসাইটি'-এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত এই যোগ্যকার্তা শহরটি। ঐতিহ্যে ভরপুর এই শহরটিতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে স্থানীয়দের তৈরি করা অলংকার, মুখোশ। জাভানিজ নৃত্য কিংবা পুতুলনাচ, নাটকে মেতে থাকে পুরো শহরটি।

যোগ্যকার্তা শহরে ভ্রমণের স্থানসমূহ :

ইন্দ্রায়ন্তী সৈকত :

পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে ইন্দ্রায়ন্তী সৈকতে। ছবি : ইন্দ্রায়ন্তী ব্যাকপেকার্স গাইড

শহরটির অন্যতম আকর্ষনের জায়গা ইন্দ্রায়ন্তী সৈকত। সোনালী পরিষ্কার বালির আমন্ত্রণে সেখানে ভিড় জমায় পর্যটকেরা। উপকূলের ধারেই রয়েছে ছোট ছোট ইন্দোনেশিয়ান ক্যাফে এবং স্টল। যেখানে সন্ধান মেলে সু-স্বাদু সব খাবারের।

সোনো-বুদোইও জাদুঘর : যোগ্যকার্তা হল জাদুঘরে আচ্ছাদিত একটি শহর এবং এর মধ্যে অন্যতম সেরা সোনো-বুদোইও জাদুঘর, যেখানে সংগ্রহে আছে জাভানিজ আর্ট।

ক্রেটন :

রয়্যাল সুলতান প্যালেস। ছবি : ট্রিপক্যানভাস

 রয়্যাল প্যালেসের অপর নাম ক্রেটন। সুলতান এবং তাঁর পরিবার এখানেই থাকেন।

প্রোগো নদীর তীর : নদী ভ্রমনের স্বাদ নিতে এই নদীটির পাড়ে ভিড় করে পর্যটকেরা।

গেম্বিরা লোকা চিড়িয়াখানা :

গেম্বিরা লোকা চিড়িয়াখানা। ছবি : করিনা ট্যুর

 ইন্দোনেশিয়ার উদ্ভিদ-প্রানীদের দেখা পেতে গোন্বিরা লোকা চিড়িয়াখানা সবচেয়ে পরিচিত একটি জায়গা।

বিদিওম্বো বিচ : ওয়াইড স্যান্ড বিচে মাছ ধরা আর সমুদ্র উপভোগের  জন্য বিখ্যাত।

আফফান্দি জাদুঘর :

শিল্পীপ্রেমিকরা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন আফফান্দি জাদুঘরে। ছবি : ট্রাভেল নোট

ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিকে অনেকাংশে ধারণ করে আছে এই জাদুঘরটি।

উলেন সেন্টালু জাদুঘর : যোগ্যর্কাতার অন্যতম সেরা জাদুঘর হল উলেন সেন্টালালু জাদুঘর, যা জাভানিজ সংস্কৃতি সম্পর্কে সমস্ত কিছু জানার দুর্দান্ত জায়গা।

তামান শারি জলপ্রাসাদ :

প্রাচীন পুল, তামান শারি জলপ্রাসাদ। ছবি : সংগৃহীত

 বিখ্যাত ক্র্যাটন বা রয়্যাল প্যালেসের পাশাপাশি তমন শারির দর্শন ছাড়া যোগ্যকার্তায় ভ্রমন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দুর্গটি রয়্যাল প্যালেসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং এখানে সুলতান এবং তার পরিবারের উপভোগের জন্য পুল, স্রোত এবং রাজকীয় ভবন তৈরি করা রয়েছে।

যোগ্যকার্তা দেখার জন্য সেরা সময় : যোগ্যকার্তা বছরের যেকোনো সময় দেখার জন্য দুর্দান্ত জায়গা। যোগ্যকার্তার তাপমাত্রা বছরের বেশিরভাগ সময় গরম এবং আর্দ্র থাকে। তবে ভ্রমনের সেরা সময় হিসেবে এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস ধরা যেতে পারে। জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে সামান্য বৃষ্টি হয় এবং পর্যটকেরা এসময় কম ভ্রমনে আসেন। অক্টোবর বছরের উষ্ণতম সময়। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

থাকা এবং খাওয়া: থাকার জন্য যোগ্যকার্তায় সহজেই পাওয়া যায় হোটেল। গ্রান্ড অস্টেন, গ্যালারি প্রবীরতমন, মেলিয়া পুরোসনি, ইবিস স্টাইলসসহ আরও রয়েছে অনেক থাকার মতো হোটেল। সেখানে লোকাল হোটেলের পাশাপাশি বিলাসবহুল হোটেলও রয়েছে। পর্যটকেরা নিজেদের সুবিধা মতো সহজেই থাকার সুবিধা গ্রহন করতে পারে। খাবারের জন্যও রয়েছে অনেক কফিশপ এবং রেস্তোরাঁ। ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে পর্যটকেরা কফি খেতে ভুলে যান যেনো। এছাড়া স্থানীয় খাবারগুলো তো রয়েছেই। তার মধ্যে ক্রেচেক, আইয়াম গোরেন কালাসন, সেগো কুচিং, কিপো, রনড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

যেভাবে যাবেন : যাবার জন্য প্রথমেই পাড়ি জমাতে হবে ইন্দোনেশিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে জাকার্তা, বালি থেকে যোগ্যকার্তায় বিমানের সিডিউল রয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী বড় শহরগুলোর মধ্যে নিয়মিত ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর যোগ্যকার্তায় চলাচলের  জন্য এন্ডং মোটরসহ আরও যানবাহন  রয়েছে।

ভ্রমন সতর্কতা :

  • ভিন্ন দেশ ভ্রমণে নিজের ভদ্রতা বজায় রাখুন।
  • মন্দির বা উপসনালয়গুলো ভ্রমণে পোশাকের ব্যপারে সচেতন হোন।
  • যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন
  
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, ক্রেজি  ট্যুরিস্ট