যখন একাই দিতে হবে ট্যুর
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সলো ট্যুর ম্যানেজমেন্ট নিয়ে জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। ছবি : পিন্টারেস্ট
গ্রুপ ট্যুরের ঝক্কি-ঝামেলা, ধরাবাঁধা প্ল্যান, নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুরাঘুরি, রুম শেয়ার করে থাকা এসব অনেকেরই পছন্দ না। ঝামেলাহীন, ভিড়ভাট্টা মুক্ত ট্যুর অনেকেই করতে চান, আবার অনেকেই একা ঘুরতে পছন্দ করেন। কিন্তু একটা ভয় মনের মধ্যে কাজ করে যে একা ট্যুর করে আদৌ ঠিকমত ঘুরাঘুরি সম্ভব কিনা বা কোনো সমস্যা হয় কিনা। প্রথমত সলো ট্যুর অনেকেই করে থাকেন। বাংলাদেশ বলেন বা দেশের বাইরে বলেন সলো ট্যুর কোন সমস্যাই না যদি আপনি মানিয়ে নিতে পারেন। দেশের মধ্যে সলো ট্যুরের জন্য আদর্শ স্থান হলো কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ ইত্যাদি। সাজেক, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, টাংগুয়ার হাওড় প্রভৃতি স্থানে যেহেতু চাঁদের গাড়ি বা লেগুনাতে যাতায়াত করতে হয় সেক্ষেত্রে সলো টুরিস্টরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। এসব সমস্যা কাটিয়ে কীভাবে স্বাচ্ছন্দে সলো ট্যুর দিতে পারেন তাই আছে আজকের লেখায়।
১। কোথায় যাবেন ঠিক করে নিন, বাজেট কত আপনার তাও ফাইনাল করে নিন। অবশ্যই হাতে কিছু এক্সট্রা টাকা রাখুন সেফটির জন্য।
২। আপনার বাজেট বেশি হলে সলো ট্যুরে কোন সমস্যাই হবে না কিন্তু যদি লো বাজেট ট্যুর দেন তাহলে আপনার অবশ্যই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা থাকতে হবে।
৩। যেখানে যাবেন সেখানকার থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন। হোটেল, কটেজ ইত্যাদির রেট কেমন জানুন। আগে থেকে বুকিং দিতে পারেন কিন্তু খরচ কমাতে চাইলে সরাসরি দামাদামি করা ভালো। এক্ষেত্রে মূল স্পট থেকে কিছুটা ভেতরের দিকের কটেজ বা হোটেলগুলো দেখতে পারেন, এক্ষেত্রে দামাদামি করাটা সহজ হয়।
৪। লোকাল ট্রান্সপোর্ট নিজে রিজার্ভ করলে খরচ অনেক পড়বে তাই সাধারণ মানুষ যেগুলো ব্যবহার করে তাই ব্যবহার করুন। যেমন : সাজেকে প্রতিদিনই সেখানকের অধিবাসীদের নিয়ে অনেক চাঁদের গাড়ি যায়। আপনি সেরকম কোন গাড়িতে উঠে বসতে পারেন। ফলে আপনার খরচও কমে গেল আবার সহজে চলে যেতেও পারলেন।
ছবি : সংগৃহীত
৫। হোটেল বা রিসোর্ট-এ সিঙ্গেল রুম নিবেন তবে খোঁজ করতে পারেন শেয়ার বেসিসে রুম আছে কিনা। এই ব্যবস্থা অনেক জায়গায় থাকে। তাতেও আপনার খরচ কমে আসবে। তবে নিরাপত্তার বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
৬। যেহেতু একাই ট্যুর দিচ্ছেন তাই যতটা পারুন লোকাল খাবার খেয়ে দেখতে, লোকাল সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে।
৭। যেখানে যাবেন সেখানকার পুলিশ বা থানার নাম্বার সাথে রাখুন। আপনি যেহেতু একা যাচ্ছেন যেকোনো বিপদে তাদের সাহায্য যাতে নিতে পারেন।
৮। বড়-ভারী ব্যাগ বহন না করে ছোট-হাল্কা ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে আপনার চলাচলে সুবিধা হবে। হোটেল বা রিসোর্ট পরিবর্তন, লোকাল পরিবহনে যাতায়াত সবক্ষেত্রেই ছোট ব্যাগ সুবিধা দিবে।
৯। তবে সলো ট্যুর দেয়ার আগে আপনার শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিবেন কারণ একা যাচ্ছেন সেক্ষেত্রে অসুস্থ হয়ে পরার সম্ভাবনা থাকলে একা না যাওয়াটাই উত্তম।
১০। সর্বোপরি, আপনাকে দামাদামিতে দক্ষ হতে হবে নাহলে খরচ বাড়বে, হোটেল বা যানবাহনে মানিয়ে নিতে হবে।
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা। ছবি : ট্রিপলিট
সলো ট্যুরের এক আলাদা আনন্দ আছে। নিজেকে মুক্ত পাখির মত মনে হয়। কারও কাছে জবাবদিহিতা নেই, নেই গ্রুপের বাকিদের ম্যানেজের দায়িত্ব। কিছুটা সাহস করে বের হয়ে যেতে পারেন সলো ট্যুরে। খারাপ লাগবে না।
আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।