মাদুরাই : হাজার বছরের পুরনো শহর
মাদুরাই ভারতের একটি ঐতিহাসিক ও প্রাচীনতম শহর

প্রায় ৯ হাজার বছর পূর্বে শুরু হওয়া মনুষ্য বসবাস একের পর এক সভ্যতা পেরিয়ে আজকের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ভারত হয়ে উঠেছে। নানা রাজার শাসন ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ ভারতের ইতিহাস ও স্থাপনায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেয়। তারপর সুসংগঠিত ও স্বাধীন ভারত হয়ে উঠে সাংস্কৃতিক বৈচিত্রতা ও ইতিহাসের মূর্ত এক প্রতীক। মাদুরাই (Madurai) ভারতের তেমনই একটি ঐতিহাসিক ও প্রাচীনতম শহর। ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের আজ জানবো কয়েক সভ্যতার ইতিহাস গায়ে জড়িয়ে এখনও মাথা উঁচু করে থাকা এই শহর নিয়ে। প্রত্যেকটি প্রাচীন শহরের আছে নিজস্ব রূপ, মাধুর্য আর চিত্র। তামিল নাড়ুর সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত মাদুরাই তেমনই নিজস্বতা গড়ে তুলেছে প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে মানুষের বসবাসের শুরু হওয়া থেকে।
ইতিহাস
মাদুরাই এই ইতিহাসে জড়িত আছে অনেক শাসকের নামই। পান্ডিয়া রাজ্যের অধীন থেকে শুরু হয়ে সর্বশেষ ব্রিটিশ দিয়ে শাসিত হয় এই রাজ্যটি। দীর্ঘ এই সময় ধরে নানা রাজার শাসন মাদুরাই এর সৌন্দর্যকে ম্লান করতে পারেনি মোটেও। বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম এক আকর্ষণীয় গন্তব্য এই মাদুরাই।তামিলনাড়ুর তৃতীয় বৃহত্তম মহানগর
তামিল নাড়ু রাজ্যের দক্ষিণে অবস্থিত মাদুরাই ভারতের ২৬তম বৃহত্তম ও তামিলনাড়ুর তৃতীয় বৃহত্তম মহানগর। এছাড়াও তামিলনাড়ুর কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে মাদুরাই দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই হলেও মাদুরাই কে এর আত্মা হিসেবেই গণ্য করা হয়। ভাইগাই নদী এই শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে। বিশ্বের মনুষ্য বসবাসের যোগ্য শহরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর মাদুরাই। ভাইগাই নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত মীনাক্ষী মন্দির বা মীনাক্ষী আম্মান মন্দির বা মীনাক্ষী সুন্দরেশ্বর মন্দির দেখতেই এখানে মূলত পর্যটকদের ভিড় হয়। ঠিক কবে নির্মিত হয়েছে সেই তথ্য না থাকলেও খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় থেকে শহরটিতে মীনাক্ষী মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়৷ ঐতিহাসিক এই মন্দিরের গঠন ও এখানে অনুষ্ঠিত চৈত্রী তিরুবিলা উৎসবে দেশ বিদেশের পর্যটকদের আগমন ঘটে। এছাড়াও তিরুমালাই নায়েক রাজপ্রাসাদ ও এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম। রয়েছে ভারতের টি গান্ধী সংগ্রহশালার একটি গান্ধী মেমোরিয়াল জাদুঘর সহ কাজিমার বড় মসজিদ, থিরুপ্পারামকুনরাম মন্দির, কোদাল আজগার মন্দির সহ অনেক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা।এছাড়াও সাংস্কৃতিক নানা উৎসব ও এখানে পালিত হয় বছর জুড়ে। দশ দিন ব্যাপী চিত্তিরাই উৎসব , কার ফেস্টিভাল, ফ্লোট ফেস্টিভাল সহ বেশ কয়েকটি ধর্মীইয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এখানে পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। জুঁই বাগানের খ্যাতির জন্য মাদুরাই 'মাদুরাই মল্লী' নামে পরিচিত। কোডাইকানাল পাহাড়ের পাদদেশে এবং মাদুরাইয়ে সকালের ফুলের বাজারে কেনাবেচা হয় ফুলের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার কৃষক ফুল বিক্রি করেন। এছাড়াও এখানে রয়ছে একটি পার্ক। এছাড়াও মাদুরাই তার জীবন যাত্রার দিক থেকেও বেশ পরিচিত। রাত্রিকালীন জীবন্ত জীবন যাপন মাদুরাইকে 'থোঙ্গা নাগরাম' বলা হয় যার অর্থ 'যে শহর কখনও ঘুমায় না'। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাজার বছরের সভ্যতার ইতিবৃত্ত আর বৈচিত্র্যতা এই শহরকে পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত করেছে। এছাড়া চিকিৎসা পর্যটনেও এটি এগিয়ে রয়েছে। কৃষি প্রধান মাদুরাই এর উত্তর পশ্চিমে রয়েছে দুটি পাহাড়। পাহাড় দুটির নাম ক্রমান্বয়ে সিরুমালাই ও নাগামালাই। সড়ক পথ, রেল পথ ও বিমান বন্দর এর সমন্বয়ে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাই গড়ে উঠেছে মাদুরাইতে।
সাখাওয়াত হোসেন এস এম
