বারো মাসের তেরো পার্বণে চমৎকারভাবে সাজানো হয় মন্দিরগুলো
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : হিন্দুধর্মের আদর্শ ও ধর্মবিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়গুলো সব সময়ই গুরুত্ব পেয়েছে মন্দিরগুলোতে
কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির। ছবি : উই হিন্দু
আত্মার পরিতৃপ্তির সাথে অন্য কোন তৃপ্তির তুলনা করা যায় না। আত্মার পরিতৃপ্তি কিংবা মনের খোরাক সাধন হয় স্রষ্টাকে ডাকার মাধ্যমে, স্রষ্টার জন্য একাগ্র চিত্তে প্রার্থনা করার মাধ্যমে।
ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো স্রষ্টার আরও নিকটবর্তী হয়ে ধর্মীয় মনোভাবের প্রতি নিজের মনকে উৎসর্গ করার সুয়োগ করে দেয়। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো নিজেদের ধর্ম শিক্ষার সাথে সাথে আমাদের একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের জন্য আলাদাভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। নিজের দেশ সম্পর্কে জানা যেমন প্রয়োজন তেমনই আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সম্পর্কেও জানা উচিত। মন্দির ভ্রমণের আজকের এই শেষ ধারাবাহিক পর্বে তেমনই কিছু মন্দির সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।
বড় কালীবাড়ি মন্দির :
ময়মনসিংহে অবস্থিত বড় কালীবাড়ি মন্দির ময়মনসিংহের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও পূজোনীয়। এখানে মূলত কালী পূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রতিবছর বিশেষ দিন ছাড়াও অন্যান্য দিনগুলোতে ভক্তরা এখানে আসেন।
জগন্নাথ মন্দির হান্ডিয়াল :
পাবনায় চাটমোহর উপজেলায় অবস্থিত জগন্নাথ মন্দির। পাবনা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিনে বিখ্যাত মন্দিরটি অবস্থিত। এটি ১৫৫০ সালে তৈরি করা হয়েছিল। মন্দিরটি নির্মাণ করেন ভবানীপ্রসাদ। মন্দিরে এক দরজা বিশিষ্ট ছোট মন্দির। এখানে টেরাকোটা শিল্পের অনন্য উদাহরণ পাওয়া যায়। আশেপাশে বেশ সুন্দর গাছগুলো দেখতে পাওয়া যায়। একটি শক্ত ভিটের উপর পুরো মাঠ তৈরি হয়েছিল। মন্দিরে তীর্থস্থান হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
যশোরেশ্বরী কালী মন্দির :
ছবি : ভ্রমণ গাইড
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির। যশোরেশ্বরী শব্দের একটি আলাদা অর্থ রয়েছে। এর অর্থ যশোরের দেবী। এটি নির্মাণ করেছিলেন আনারি নামের একজন ব্রাহ্মণ। তিনি প্রায় ১০০টি দরজা নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে লক্ষণ সেন ও প্রতাপাদিত্য মন্দিরটিকে সংস্কার করেন।
এখানে শুধুমাত্র প্রতিমার মুখমণ্ডল দেখতে পাওয়া যায়। বাকি সম্পূর্ণ অবয়ব মকমল কাপড়ে ঢাকা। প্রতিমার মাথায় রয়েছে খুব সুন্দর একটি সোনার মুকুট, গায় ঝলমলে অলংকার। প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন যশোরেশ্বরী কালী মন্দির পূজা করতে চান।
চন্দ্রনাথ মন্দির :
চন্দ্রনাথ মন্দির এর পূর্ব নাম ছিল সীতাকুণ্ড মন্দির। এটি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপর অবস্থিত। সীতাকুণ্ডের অপরূপ সৌন্দর্য পৃথিবীতে বিখ্যাত। এরকম বিখ্যাত একটি জায়গায় পাহাড়ের উপরে মন্দিরটি বেশ আকর্ষণীয়।
ছবি : সংগৃহীত
আপনি যদি পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, সেই সাথে বহু বছরের পুরনো মন্দির দেখতে চান তাহলে যেতে হবে চন্দ্রনাথ মন্দিরে। মন্দিরটি আটশত বছরের পুরনো। এখানে প্রতি বছর শিবরাত্রি পূজো হয়। বাংলায় ফাল্গুন মাসের কয়েকদিন ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয় চন্দ্রনাথ মন্দিরে।
কালভৈরব মন্দির :
ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস্
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত কালভৈরব মন্দির। ভারতীয় উপমহাদেশের যতগুলো কালভৈরব মন্দির রয়েছে তার মধ্যে এই মন্দিরটি সবথেকে উঁচু। মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ বৃহৎ আকৃতির কালভৈরবের মূর্তি। প্রতিবছর ফাগুন মাসে এখানে চারদিনব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠান হয়। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসে।
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম :
ছবি : এনটিভি
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার একটি বিখ্যাত জায়গা বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম। এখানে দক্ষিণস্থ উঠানে বাবা লোকনাথের সমাধিস্থল রয়েছে। বাবা লোকনাথের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও জ্ঞান, সত্যের জগতে মানুষ নিজেকে নিয়োজিত করতে অনেকে এখানে আসে। মন্দিরের আশেপাশে এলাকাগুলো বেশ সুন্দর। বাবা লোকনাথের সমাধি স্থলে সবসময়ই ভক্তদের ভিড় জমে থাকে। ধর্মের প্রতি মানুষের আনুগত্য সত্যিই বেশ লক্ষণীয়।