মত্ত মঠ : মানিকগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মত্ত মঠ, মানিকগঞ্জ



মত্ত মঠ

ছবি : সংগৃহীত


সবুজ শস্য শ্যামল, গাছ গাছালির ছায়া ঘেরা শাশ্বত রূপের মোহনীয় এক জেলা মানিকগঞ্জ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই জেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ভাবে বেশ সমৃদ্ধ। পদ্মা, কালীগঙ্গা, যমুনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর আশীর্বাদে পূর্ণ এই জেলাটি। ১৯৮৪ সালে জেলা শহরের মর্যাদা পেলেও ১৮৪৫ সালে মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এটি ফরিদপুর ও ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও এই জেলার রয়েছে স্বকীয় অংশগ্রহণ। ঐতিহাসিক এই জেলাটি নানান প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানে সমৃদ্ধ। এখানকার তেমনি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা মত্ত মঠ (Matta Moth)। মানিকগঞ্জ জেলা সদরের প্রায় দেড় মাইল পূর্বে মত্ত গ্রামে মত্ত মঠ অবস্থিত। জেলার ঐতিহাসিক একটা নিদর্শনের একটি এই মত্ত মঠ।

মঠটি প্রায় আড়াইশ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয় বলে শুনা যায়। সেই সময় হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার এখানে শাসন করতেন। অত্যাচারী হেমসেন তাঁর নিজ পিতার শেষকৃত্য স্থানে এই মঠটি নির্মাণ করেন। শোনা যায়, মঠটি নির্মাণ করতে তিনি ইরান থেকে কারিগর নিয়ে এসেছিলেন। মঠটি প্রায় ২০০ ফুট উঁচু। স্থানীয় নিটল দীঘির পাড়ে ১৫ শতাংশ জমির ওপর মত্ত মঠ অবস্থিত। মঠটির কারুকার্য খচিত নির্মাণশৈলী অনেককেই আকর্ষণ করে। যার ফলে একবার কয়েকজন আমেরিকান পর্যটক ১৯৬৫ সালে মঠটি সংস্কারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু স্থানীয় হিন্দুদের বাঁধার মুখে সেটি আর সম্ভব হয় না। মত্ত মঠ ছাড়াও মত্ত গ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। এই গ্রামে রামকৃষ্ণ সেন এবং তার ছেলে প্রসন্ন কুমার সেনের মতো বেশ কয়েকজন প্রতাপশালী জমিদারের বসবাসের ইতিহাস পাওয়া যায়। এছাড়াও মানিকগঞ্জে যেসব পুরাকীর্তি রয়েছে তাদের ইতিহাসে এই গ্রামের গুপ্ত পরিবারের অবদানের কথাও পাওয়া যায়। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে এদের বেশ অবদানের কথা লোকমুখে প্রচলিত আছে।


ঐতিহ্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান :

প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ছাড়াও এই জেলা ঐতিহ্যগত ভাবেও বেশ এগিয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র এই একটি জেলাতেই প্রতিবছর ৫৪টি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ কৃষ্টি কালচার ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক এইসব মেলার মধ্যে 'বাহাদিয়া বৈশাখী মেলা, (বাহাদিয়া)', জয়মন্টপ মোধোর মেলা, (জয়মন্টপ) বাহাদিয়া বাজার 'মাঝি বারির মেলা'- (দিয়াবাড়ি), 'জিন্দা শাহ মেলা'- (ঝিটকা), 'বেলাল/বিল্লাল পাগলার মেলা'- (হারগঞ্জ) 'রাউথ যাত্রা মেলা'- (কাটিগ্রাম), 'পৌষ মেলা '- (আতিগ্রাম),'বাথাইমুরি মেলা'- (বাথাইমুড়ি),' বাহের পাগল মেলা'- (বাঙ্গালা),'বাহের পাগলার মেলা'- (মহাদেবপুর), 'সাধুর মেলা'- (দক্ষিণ জামশা),'সাধনোটা মেলা'- (মালুচি), 'আজিজ পাগলার মেলা'- (কচিধারা),'বরুনি মেলা'- (বাটনি) গুরুত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত। এই জেলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে আরিচা ঘাট, বালিয়াতি প্রাসাদ, তেওতা জমিদার বাড়ি, ধানকোড়া জমিদার বাড়ি।


যেভাবে যাবেন :

ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল হতে বেশ কয়েকটি বাসই এই জেলায় আসা যাওয়া করে। এর মধ্যে নীলাচল, পদ্ম লাইন, সেলফি উল্লেখযোগ্য। বাসে করে সরাসরি মানিকগঞ্জ জেলা শহরে পৌঁছবেন। জেলা শহর হতে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে মত্ত মঠ।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম