অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করুন সিকিম-দার্জিলিং ভ্রমণ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দ্যে ভারতের সিকিম-দার্জিলিং ভ্রমণ
এমন রুপ কে না দেখতে চায়। ছবি : ট্যুর জিনি
আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকলে ভালো। পরিকল্পনা দুইরকম হতে পারে পরদিন গ্যাংটক শহর ঘুরে দেখতে পারেন অথবা চলে যেতে পারেন সাংগু লেক কিংবা নর্থ সিকিম। তবে একদিন বেশি থাকলে আপনার খরচ বাড়বে। তাই রাতেই কোন এজেন্সিতে বুকিং দিয়ে দিন নর্থ সিকিমের জন্য। নর্থ সিকিম ছাড়াও আরও কিছু স্পট আছে যাওয়ার মত কিন্তু সবচেয়ে বিখ্যাত এই এলাকা।এজেন্সি ছাড়া এসব এলাকায় ভ্রমণ করা যায় না কারণ আলাদা করে পারমিশন লাগে। এম জি মার্গসহ আশেপাশের রাস্তায় প্রায় সবখানেই প্রচুর ট্রাভেল এজেন্সি পাবেন। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে নিবেন নর্থ সিকিমে নিয়ে কেমন হোটেলে রাখবে নাহলে ঠান্ডায় কষ্ট হবে। ডকুমেন্ট এজেন্সিকে বুঝিয়ে দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে এসে পরুন।
পৃথিবীর বুকে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আরেক নাম সিকিম। ছবি : জাগোনিউজ২৪
পরদিন সকালে আগে আগেই উঠে পরুন। ১০ টার দিকে নর্থ সিকিমের গাড়ি ছাড়বে। এর আগেই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিন, এরপর চাইলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিতে পারেন। নর্থ সিকিমে অনেক জিনিসই পাবেন না। যেহেতু নর্থ সিকিমে একদিন থাকতে হবে তাই প্রয়োজনীয় জামা কাপড় ও জিনিসপত্র একটা ছোট ব্যাগে নিয়ে নিন ও আপনার বড় ব্যাগ এজেন্সিতে রেখে যেতে পারেন আর আপনার মূল ব্যাগ যদি সহজেই বহনযোগ্য হয় তাহলে তা নিয়ে নিতে পারেন। ১০ টায় রওনা করবে গাড়ি। নর্থ সিকিমের এই প্যাকেজে ৪ বেলার খাবার, হোটেলে থাকা ও বেশ কিছু স্পট দেখা যায়। গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম প্রায় ৬-৭ ঘন্টার রাস্তা। যাওয়ার পথের দৃশ্য অসাধারণ। মাঝে লাঞ্চ টাইমে ড্রাইভার রেস্টুরেন্টে থামাবে সেখানে প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত লাঞ্চ করতে পারবেন। যেতে যেতে বাটারফ্লাই ফলস, তিস্তা ভিউ পয়েন্ট-এ থেমে চা বা কফি খেতে খেতে এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
রাতের সিকিমের ঝলমলে রুপ। ছবি : টুইটার
সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছে যাবেন লাচুং। সেখানেই রাতে অবস্থান। হোটেলে ব্যাগ-জিনিসপত্র রেখে ফ্রেশ হতে হতেই নাস্তার ডাক আসবে। লাচুং-এর তাপমাত্রা গ্যাংটক থেকে অনেক কম। তাই সাথে অবশ্যই মোটা কাপড় রাখবেন, তাতেও না মানালে হোটেলের আশেপাশের দোকানে ভারী কাপড়/জ্যাকেট ভাড়া পাওয়া যায় তা নিতে পারেন। লাচুং ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখানে তাই নিয়ম মেনে চলাফেরা করা ভালো। বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু নির্দেশনা লেখা আছে তা অবশ্যই মেনে চলবেন। নাস্তা করে লাচুং গ্রামটা ঘুরে দেখতে পারেন। অন্ধকারে দূর থেকে ভেসে আসা নদীর সৌন্দর্য অপার্থিব অনুভূতি দেয়। এরপর রাতে খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন কারণ ভোরে রওনা দিতে হবে। ভোর ৪ টার মধ্যে উঠে প্রস্তুত হয়ে নিন। ভোরে জানালা খুলে যেই দৃশ্য দেখবেন তাতে মনে হবে কোন শিল্পীর আঁকা ছবির ভেতর এসে বসে আসেন, রাতের অন্ধকারে এই সব দৃশ্য দেখতে পারেননি। গন্তব্য ইয়ামথাং ভ্যালি ও জিরো পয়েন্ট। হোটেলে নাস্তা দিবে বের হওয়ার আগে। জিরো পয়েন্টে প্রচুর ঠান্ডা তাই চাইলে আরো ভারী কাপড় ও গ্লাভস নিয়ে নিতে পারেন। আর জেনে নিন স্নোফল হচ্ছে কিনা তাহলে সেভাবে প্রস্তুতি নিন।
ছবি : সিকিম টুরিজম
প্রথমেই জিরোপয়েন্ট চলে যান। যাওয়ার রাস্তায় গাড়ি পাহাড় বেয়ে উঠতেই থাকবে যেন অনন্তের পথে যাত্রা। পৌঁছানোর পর সাথে সাথে গাড়ি থেকে না নেমে কিছুক্ষণ এখানকার তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিন নাহলে অতিরিক্ত ঠান্ডায় শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘুরতে পারে। আশেপাশের টং দোকানে গরম গরম চা, কফি, মমো সহ নানান রকম খাবার পাওয়া যায়। এসব খাবার শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। জিরো পয়েন্ট ঘুরা শেষ হলে ফেরার পথে থামুন ইয়ামথাং ভ্যালিতে। জিরো পয়েন্টের রুক্ষ অবস্থা দেখার পর ইয়ামথাং এর সৌন্দর্য আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। এরপর হোটেলে ফিরে লাঞ্চ করে নিন এবং যাত্রা শুরু আবার গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। আগের মতই প্রায় ৬ ঘন্টা লাগবে ফিরতে তবে এবার যেহেতু সাইট সিইং-এর প্রয়োজন নেই তাই কিছুটা সময় কম লাগবে।
গ্যাংটক ফিরতে রাত হয়ে যাবে। আগে থেকেই সাংগু লেকের জন্য বুকিং দিয়ে দিতে পারেন অথবা পরদিন গ্যাংটক শহর ঘুরে রিল্যাক্স করতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে খরচ বাড়বে তাই পরদিন সাংগু লেক যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে খোঁজ নিন সাংগু লেকের সাথে সাথে বাবা মন্দির, নাথুলা পাস এসব জায়গায় যাওয়া যাবে কিনা কারণ প্রায়ই বিদেশীদের এসব স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। পরবর্তী পর্বগুলোতে বাকি ট্যুর প্ল্যান সম্পর্কে বলা হবে। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।