শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : ইতিহাস ও তথ্য উপাত্ত

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর



শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর Hazrat Shah Amanat Airplane Airport

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ছবি : জাহেদ হোসেন


বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর হল চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Shah Amanat International Airport)। এর পূর্বনাম ছিল চট্টগ্রাম এম এ হান্নান বিমানবন্দর। ২০০৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরটি দেশের অন্যতম একটি আধুনিক বিমানবন্দর।

অবস্থান :

এই বিমানবন্দরটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত। এটি শহরের জিইসির মোড় থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে এর দূরত্ব ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার। কর্ণফুলী নদীর তীরে এই বিমানবন্দরটি দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন : সৈয়দপুর বিমানবন্দর : ইতিহাস ও ফ্লাইট বিস্তারিত

ইতিহাস :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ সালে এয়ারফিল্ড হিসেবে ব্রিটিশ সরকার এই বিমানবন্দরটির গোড়াপত্তন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি এয়ারফোর্সের সাপ্লাই পয়েন্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এরপর আস্তে আস্তে এটি বিমানবন্দর হিসেবে রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে এটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। এরপর ১৯৯০ মাঝামাঝিতে এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হয়। ডুবাই, সৌদি আরব ও ব্যাংককের ফ্লাইট দিয়ে এখান থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এই বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। এই কাজ শেষ হয় ২০০০ সালে যা সম্পন্ন করতে ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২০০১ সালে এই বিমানবন্দরটি নতুনভাবে তার যাত্রা শুরু করে। ২০১৩ সালের ২১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দেয়।

কার্যক্রম :

দেশের প্রায় ২১ শতাংশ যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে। বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। এছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি কার্গো ফ্লাইটও রয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এই বিমানবন্দর দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মালামালও পরিবহন হচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এমিরাট স্কাই কার্গো ও ইত্তেহাদ কার্গো।




শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম। ছবি : উইকিপিডিয়া



চলাচলকারী বিমানসমূহ :

এই বিমানবন্দর দিয়ে চলাচলকারী বিমানগুলো হল • এয়ারএরাবিয়া • মালিন্দা এয়ারলাইন্স • ফ্লাই ডুবাই, • ওমার এয়ার • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স • নভোএয়ার • রিজেন্ট এয়ারওয়েজ • ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স • সালাম এয়ার এছাড়া কার্গো এয়ারলাইন্সের মধ্যে আছে • ইত্তেহাদ কার্গো • স্কাই এয়ার • বিসমিল্লাহ এয়ারলাইন্স • ইজি ফ্লাই এক্সপ্রেস • হ্যালো এয়ারলাইন্স

যা যা আছে এই বিমানবন্দরে :

আন্তর্জাতিক মানের নতুন স্থাপনা, রানওয়ে, কন্ট্রোল টাওয়ার, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা এখানে রয়েছে। চারতলার উচ্চতাসম্পন্ন এই বিমানবন্দরটিতে একই সাথে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী উঠা-নামা করতে পারে। এই বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটি ২,২০,০০০ স্কয়ার ফুটের। যা দুটি অংশে বিভক্ত- আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ। বিমানবন্দর ভবনটি দুইতলা বিশিষ্ট। এর নিচের তলা ব্যবহৃত হয় চেক ইন, বোর্ডিং ও লাগেজ রিসিভিং এর জন্য আর উপরের তলা ব্যবহার করা হয় শুধুমাত্র বোর্ডিং এর জন্য। এই বিমানবন্দরে ২৯,০৬৩ স্কয়ার ফুটের একটি কার্গো টার্মিনালও আছে। এছাড়া এখানে আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড হোল্ডারদের জন্য একটি নতুন লাউঞ্জ তৈরি করা হয়েছে।


শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম। ছবি : ইউএনবি


আরও পড়ুন : যন্ত্র পাখির বুকে পাওয়া ভালোবাসা

এছাড়াও, এই বিমানবন্দরটিতে বিশাল গাড়ি পার্কিং এরিয়া, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ,লাগেজ ট্রলি,লাগেজ র‍্যাপিং, কার্গো সার্ভিস, হুইল চেয়ার, প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যাংকিং সেবা, শুল্ক-মুক্ত কেনাকাটা,খাবারের সুবিধা, হোটেল বুকিং সার্ভিস, নামাজের ঘর, বিশুদ্ধ পানি, ওয়াইফাই,ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম( এফআইডিএস), টিকেট সেলস কাউন্টারসহ আরও নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট এবং অন-এরাইভাল ভিসার জন্য শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভিসা কাউন্টার আছে।

এই বিমানবন্দরের আশেপাশে অনেক সংখ্যক উন্নতমানের হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্রিসা মেরিনা সিবিসি রিসোর্ট, বাংলাদেশ বাটারফ্লাই পার্ক এন্ড রিসোর্ট, হোটেল আগ্রাবাদ, সিটি ইন, এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স, এলিনা হোটেল এন্ড সুইটস, হেরিটেজ বিআর হোটেল স্যুইটস এন্ড রেস্টুরেন্ট, হোটেল হিলটন সিটি ইত্যাদি। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড় থেকে সহজেই কার বা ট্যাক্সিতে করে এই বিমানবন্দরে আসা যায়। এছাড়া এই বিমানবন্দরের পার্কিং জোনে সবসময়ই কার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের পরিবহন পাওয়া যায়।

যোগাযোগ :

এয়ারপোর্ট ম্যানেজার, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ফোন: 880 241350100

ফ্যাক্স : 880 241350101

ইমেইল : apmctg@caab.gov.bd AFTN : VGEGYDYX

PABX : +880 2 41350110 to 21  

রুবাইদা আক্তার   এস এম