ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বিপিন পার্ক

ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল উদ্যানের কাছেই ৮নং ওয়ার্ডে জুবলী ঘাটে এ বিপিন পার্কের অবস্থান



বিপিন পার্ক

ছবি: সংগৃহীত


ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাছে কোথাও থেকে স্বল্প সময়ে ঘুরে আসলে মন্দ হয় না। যান্ত্রিক-জীবনে অবকাশের অভাবে নির্মল বিনোদনের সুযোগ তেমন হয় না। শিশুরাও শহুরে বদ্ধ জীবনে উন্মুক্ত পরিবেশে ছোটাছুটির সুযোগ পায় না। তাই পরিবারের সবাই মিলে ময়মনসিংহের বিপিন পার্ক থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ছায়া ঘেরা এই পার্কটির পাশেই রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নির্মল পরিবেশের সাথে এই পার্কে পাবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল উদ্যানের কাছেই ৮নং ওয়ার্ডে জুবলী ঘাটে এ বিপিন পার্কের অবস্থান। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই বিপিন পার্ক। ময়মনসিংহ শহরের অন্যতম আনন্দ বিনোদনের কেন্দ্র এই বিপিন পার্ক ময়মনসিংহের রাজনৈতিক ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই পার্কটি ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ডাঃ বিপিন বিহারী সেনের স্মৃতি বহন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে।


বিপিন পার্ক

ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্কটি। ছোট এই পার্কটি বেশ ছিমছাম হলেও এর স্থাপত্যশৈলী দারুণ নজরকাড়া। স্টিলের পাইপ দিয়ে দেয়া হয়েছে সীমানা প্রাচীর। রয়েছে পাকা স্ল্যাবের হাঁটার পথ। এই পার্কটিকে গড় তোলা হয়েছে ‘থিমপার্ক’ হিসেবে। পার্কের মাঝখানে বসানো হয়েছে ঝরনা। এখানে রয়েছে ৯ ফুট উঁচু তিনটি দেশি প্রজাতির ডলফিন এর ভাস্কর্য। ফাইবারের তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দিয়ে পার্কটিকে আরো আকর্ষণীয় করা হয়েছে। এ পার্কে এলে ব্রহ্মপুত্র নদও দেখা হয়ে যাবে আপনার।

পাশাপাশি নদের বুকে ভেসে বেড়ানো পালতোলা নৌকা আর নদের ওপারের চরের মানুষের জীবন-জীবিকার চিত্র মুগ্ধ করবে। ব্রহ্মপুত্রের ঝিরিঝিরি বাতাস আর নদের পাড়ের সৌন্দর্য আপনার প্রাণ জুড়াবে। সব বয়সী দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নির্মল আনন্দে মেতে উঠতে ছুটির দিনগুলোতে এ বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। বছরের অন্যান্য ছুটির দিন গুলোসহ নানান উৎসবে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকে এই পার্ক।


বিপিন পার্ক

ছবি: সংগৃহীত


 এই পার্কটি অতীতের নানান ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী। এই পার্কটি স্বাধীনতার আগে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের জন্য ব্যবহার করা হতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানীসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমাবেশে বিপিন পার্ক জনসমুদ্র হয়ে উঠত। ময়মনসিংহ জেলার ভাষা আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিল এখান থেকেই। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব আন্দোলনেই এই পার্ক ছিল মিছিল আর জনসভায় মুখর। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে এক ছাত্র সমাবেশ হয়েছিল এই বিপিন পার্কে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মুসলিম ছাত্রলীগের জেলা কমিটির নেতৃত্বে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে যে মিছিল হয়েছিল সেই মিছিল শেষে এই বিপিন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় এক ছাত্র সমাবেশ। এছাড়াও ২৫শে মার্চ মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে বিপিন পার্কে এক ছাত্র-জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এমন সব আন্দোলনেই বিপিন পার্ক ছিল সূতিকাগার।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে সড়ক পথে ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিবহনের বাস রয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাসে চড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহে পৌঁছাতে পারবেন। মহাখালী ছাড়াও কমলাপুর বিআরটিসি টার্মিনাল থেকে ঢাকা-নেত্রকোনা রুটের গাড়িতেও ময়মনসিংহে আসা যায়। এখানে ভাল পরিবহনের মধ্যে রয়েছে এনা ট্রান্সপোর্ট। ভাড়া পড়বে ২২০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে সৌখিন পরিবহন। ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা। এছাড়া চাইলে ট্রেনেও ময়মনসিংহ আসতে পারেন। ঢাকা থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে চড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছাতে পারেন। এগুলো সব আন্তঃনগর ট্রেন। এরপর ময়মনসিংহ শহরে নেমে রিক্সা, ইজিবাইক কিংবা অটোরিকশায় চড়ে পৌঁছে যেতে পারবেন বিপিন পার্কে।

যেখানে থাকবেন :

ময়মনসিংহে থাকার জন্য নানা ধরনের হোটেল রয়েছে। আপনার পছন্দমতো যেকোনটিতে থাকতে পারেন। এখানকার কিছু উল্লেখযোগ্য হোটেল হল : হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল মুস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হেরা, হোটেল সিলভার ক্যাসেল, হোটেল খাঁন ইন্টারন্যাশনাল, নিরালা রেস্ট হাউস, হোটেল ঈশা খাঁ, হোটেল উত্তরা, তাজমহল ইত্যাদি।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম