বাগান : মিয়ানমারের মন্দিরের শহর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মন্দিরের শহর বাগান- প্যারাসুটে বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ



মিয়ানমারের মন্দিরের শহর- প্যারাসুটে বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ

মন্দিরের শহর, বাগান, মিয়ানমার। ছবি : সংগৃহীত


 মিয়ানমারের মান্দালয় অঞ্চলের একটি প্রাচীন জনপদ হলো বাগান।  বাগানকে বলা হয় মন্দিরের শহর। কিন্তু মন্দিরের শহরতো ভারতের বেনারস বা কম্বোডিয়ার অ্যাংকট ওয়াটকেও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু মিয়ানমারের বাগান শহরের বিশেষত্ব হলো মন্দির বলা হলেও এগুলো আসলে বৌদ্ধদের উপাসনার জন্য নির্মিত প্যাগোডা। ধারণা করা হয়, মন্দিরগুলো নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে তৈরি করা। সেসময় এখানে ১০ হাজার মন্দির থাকলেও সময়ের বিবর্তনে বাগানে এখন রয়েছে দুই হাজারের মতো মন্দির। ২০১৯ সালে বাগান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাগান মিয়ানমারের প্যাগান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদি আপনার লক্ষ্য থাকে মিয়ানমারের শুধুমাত্র একটি পর্যটন স্থান ঘুরে দেখার, তবে আপনার সেই তালিকায় প্রথমেই রাখুন বাগানের নাম। প্রত্নতত্ত্, স্থাপত্যকলা, ইতিহাস, সৌন্দর্য এসবকিছুই পাবেন বাগানে। বাগানের সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য রয়েছে প্যারাসুটের সুবিধা। এতে করে ওপর থেকে বাগানের মন্দিরগুলোর সুশোভিত দৃশ্য মন কেড়ে নেবে আপনার।


মন্দিরের শহর

মন্দিরের শহর, বাগান, মিয়ানমার। ছবি : সংগৃহীত


সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের দৃশ্য বাগানের সাথে উপভোগ করতে চাইলে রয়েছে প্যারাসুটের ব্যবস্থা।  যেহেতু বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য মন্দির রয়েছে তাই যাতায়াতের জন্য সাইকেল বা গাড়ির সাহায্য নিতে পারবেন।

মন্দিরের শহর বাগান- দেখার মতো যা যা আছে

মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ করা :

বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির ফলে মন্দিরগুলোর অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু আজও প্রায় ২ হাজারের মত মন্দির অক্ষত রয়েছে বাগানে। বাগানের বেশকিছু মন্দির নির্মিত হয়েছিল সাধারণ জনগণ এমনকি মধ্যবিত্তদের দ্বারাও। মন্দির নির্মাণকে তারা পূন্যকাজ হিসেবে মনে করতেন। তাই সকলেই চেষ্টা করতেন নিজেদের যোগ্যতায় মন্দির নির্মাণ করতে। তবে, প্যাগান রাজা কর্তৃক নির্মিত মন্দিরগুলো স্থাপত্যকলায় সেরা ও সৌন্দর্যমন্ডিত। বাগান পুরাতত্ত্ব জোনের ভেতরেই এর অধিকাংশ মন্দির দেখা যাবে। তাই কষ্ট করে ২০০০ মন্দির ঘুরতে হবে না। তবে সময় বাচাতে বাগানের সেরা মন্দিরগুলো আগে দেখে নিতে পারেন। টিকেট কেটে বাগানের পুরাতত্ত্ব জোনে প্রবেশ করতে হবে। যেহেতু মন্দিরগুলো বৌদ্ধদের উপাসনার স্থান, তাই যাবার আগে জুতা খুলে প্রবেশ করতে হবে এবং মার্জিত পোশাক পরিধান করতে হবে।

মন্দিরের শহর 'বাগান' এ প্যারাসুটে ভ্রমণ :

বাগানের মন্দিরের দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় ওপর থেকে। আর প্যারাসুটের মাধ্যমে এই দৃশ্য উপভোগের মতো সুযোগ আর নেই। এতে করে প্রায় ২,০০০ ফুট ওপর থেকে আপনি বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ের মাঝে গেলে আপনি প্যারাসুটের মাধ্যমে বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।


মন্দিরের শহর

ইরাবতী নদী, মিয়ানমার। ছবি : সংগৃহীত


 

ইরাবতী (Irrawaddy) নদীর তীরে সূর্যোদয় উপভোগ :

প্যারাসুটে করে বাগান ঘুরে দেখার সামর্থ্য যদি আপনার না হয় তবে মন খারাপের কিছু নেই। কারণ মন্দিরগুলোর সিঁড়ি পার করে ছাদ থেকে দেখা মেলে ইরাবতী নদীতে সূর্যোদয়ের মোহনীয় দৃশ্য।

সাইকেলে করে বাগান ভ্রমণ :

যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তবে দুই চাকার সাইকেলে করে আপনিও বের হয়ে যেতে পারেন বাগান ভ্রমণে। বাগান শহরের আশেপাশে প্রায় সর্বত্রই ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যায়, আর ভাড়াও কম। তাই কষ্ট করে পায়ে হেটে এক মন্দির থেকে আরেক মন্দির না গিয়ে চাইলে সাইকেলে করে বাগানের রহস্যময় সৌন্দর্য উদঘাটন করতে পারেন।

বার্মিজ খাবারের স্বাদ গ্রহণ :

যেহেতু বাগানের স্থাপত্যকলা দেখতে বিশ্বজুড়ে পর্যটক এখানে আসে, তাই এখানে খাবারে বিশ্বের সকল ধরণের খাবারের স্বাদ পাবেন। বার্মিজ খাবার ছাড়াও এখানে পাবেন চাইনিজ, থাই, ভারতীয়, তিব্বতীয়সহ নানান এলাকার খাবার।


মন্দিরের শহর এলাকার বার্মিজ খাবারের স্বাদ গ্রহণ

ছবি : সংগৃহীত


 যেভাবে যাবেন মন্দিরের শহর 'বাগান' এ : আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরে ইয়াঙ্গুন থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নিয়াউং ইউ বিমানবন্দরে নামলে ট্যাক্সিতে ২০ মিনিট লাগে বাগানে পৌঁছাতে। বিমানে সরাসরি মান্দালয় হয়েও বাগানে যাওয়া যায়। ইয়াঙ্গুন থেকে ট্রেনে করেও বাগানে পৌছানো যায়। প্রতিদিন রাতে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি বাগানে মিয়ানমার ট্রেন চলাচল করে। এতে করে বাগান পৌছতে  সময় লাগে ১৮ ঘণ্টা। এছাড়াও মান্দালয় থেকে ট্রেন ধরে আট ঘণ্টায় বাগানে পৌঁছানো যায়। নদীপথেও বাগানে পৌছানো যাবে। মান্দালয় থেকে নদীপথে ৯ঘণ্টায় প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাগানে পৌঁছাতে পারবেন।  


ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম