বছর জুড়ে বুদাপেস্টের উৎসব

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের অবস্থান দানিয়ুব নদীর তীরে


বুদাপেস্ট ফেস্ট

ছবি : সংগৃহীত


 হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের অবস্থান দানিয়ুব নদীর তীরে। উৎসব এই শহরটির প্রাণ। শহরের মানুষ জানে কীভাবে পুরো বছরজুড়ে নানা উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের মাতিয়ে রাখা যায়। আয়োজনে থাকে অনেক রকমের খাবার,পানীয়, থাকে নাচ-গানের আয়োজনও। চলুন জেনে নিই বুদাপেস্টের নানা উৎসবের গল্প :

বুদাপেস্ট ফেস্ট :রোজালিয়া ফেস্টিভাল

প্রতি বছর মে মাসের গরমের ছুটিতে এই ফেস্টিভালের আয়োজন করা হয়। এটা হাঙ্গেরীয়রদের একমাত্র ইভেন্ট, যেখানে সেলিব্রেশন করা হয় শুধু রোজ ওয়াইন, শ্যাম্পেইন আর স্পার্কলিং ওয়াইন দিয়ে। বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক সিটি গার্ডেনের রোজ গার্ডেনে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবে পুরো বুদাপেস্ট একত্রিত হয়ে আনন্দ করে। বিভিন্ন স্বাদের খাবারের দোকান ও ওয়াইন গ্রহণসহ আয়োজন থাকে জ্যাজ কনসার্টের। শুধু বড়দের জন্য উৎসব নয়, ছোটদের জন্যও আনন্দ গ্রহণের নানা সুযোগ থাকে।


বুদাপেস্ট ফেস্ট

ছবি : সংগৃহীত


 

বুদাপেস্ট ফেস্ট : সিজেট ফেস্টিভাল

প্রতি বছর আগস্ট মাসে বুদাপেস্টে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত হয় সিজেট ফেস্টিভাল। দানিয়ুব নদীর তীরে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নাচ-গানে ভরপুর এই ফেস্টিভালে অন্তত হাজারখানেক পারফর্মার উপস্থিত থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ এ উৎসবে যোগ দেয়।

বুদাপেস্ট সামার ফেস্টিভাল

বুদাপেস্টের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মার্গারেট আইল্যান্ড। এখানেই আয়োজন করা হয় বুদাপেস্ট সামার ফেস্টিভালের। প্রতি বছর জুন, জুলাই, আগস্ট মাসের দিকে বিশ্বের শীর্ষ ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত শিল্পী এবং ব্যালে ড্যান্সারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় উৎসব। আইল্যান্ডের খোলা জায়গায় থাকে অপেরা, ব্যালে আর ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীতের ব্যবস্থাও।




ছবি : সংগৃহীত


 

বুদাপেস্ট ক্রিসমাস মার্কেট

বুদাপেস্টের সেন্ট স্টিফেনের রাজপ্রাসাদের সামনে এই ক্রিসমাস মেলার আয়োজন করা হয়। নভেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত এই এলাকার পুরোটাই পরিপূর্ণ থাকে নানা ধরনের উপহারসামগ্রী, খেলনা, হাতে বানান জিনিস, প্রচুর পরিমাণ হাঙ্গেরীয়ান খাবার আর পানীয়তে। এই উৎসবের আকর্ষণীয় আয়োজন হচ্ছে মৃদু গানের ছন্দে স্কেটিং করার সুযোগ। এ শহরের মূল ক্রিসমাস মার্কেট ভরোস্মার্টি স্কয়ার। সেখানে উৎসবের সময় নানা ধরনের অফার দেয়া হয়। ১০০টিরও বেশি দোকানের দায়িত্বে থাকেন জুরিবোর্ড। প্রতিটি জিনিসের মান যেন সঠিক থাকে সেজন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়।

বুদাপেস্ট ফেস্ট : ওয়াইন ফেস্টিভাল

প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গরমের শেষের দিকে ওয়াইন প্রস্তুতকারীদের জন্য বুদাপেস্ট আদর্শ একটি জায়গা হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল থেকে এক গ্লাস করে ওয়াইন নিয়ে নানা স্বাদের হাঙ্গেরীয়ান খাবারের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে পান করতে পারেন। চারদিনব্যাপী এ ফেস্টিভালে বিনোদনের নানা আয়োজন করা হয়। ফোক মিউজিক আর নাচ থাকে ওয়াইন ফেস্টিভালের মূল আকর্ষণ।




ছবি : সংগৃহীত


 

বুদাপেস্ট ফিশ ফেস্টিভা

হাঙ্গেরীয়বাসী তীব্র শীতে উষ্ণতার জন্য পাপড়িকা ও নদির মাছ দিয়ে বানানো ‘হ্যালজেল’ নামে একটি স্যুপ খায়। মার্চ মাসের শুরুর দিকে তিনদিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়। ঝাল এই খাবারটিসহ প্রচুর পরিমানে মাছ নিয়ে এই উৎসব করা হয়। বুদাপেস্টের বিখ্যাত টাওয়ার হিরোস স্কয়ারে এ সময় নানা ধরনের কন্টেস্ট, ওয়াইন টেস্টিং, ফোক মিউজিক এবং বাচ্চাদের জন্য নানা ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়।

বুদাপেস্ট ফেস্ট : দানিয়ুব কার্নিভাল

জুন মাসে দানিয়ুব নদির তীরে মার্গারেট আইল্যান্ডের খোলা জায়গায় সপ্তাহব্যাপী দানিয়ুব কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় আন্তর্জাতিক অনেক সঙ্গীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পী। নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে হাঙ্গেরীয় সংস্কৃতি মিলিয়ে উৎসবের আয়োজন করা হয়। দানিয়ুবের ভরোস্মাটি স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় 'কার্নিভাল প্যারেড'।


বুদাপেস্ট ফেস্ট

ছবি : সংগৃহীত


 

ফেস্টিভাল অফ ফোক আর্টস

বুদাপেস্টের এই ফেস্টিভাল প্রায় শত বছর পুরনো। প্রতি বছর আগস্ট মাসে হাতে বানানো জিনিস নিয়ে বুদা ক্যাসেলে এই ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনার্থীরা এখানে এসে সরাসরি দেখতে পারেন কীভাবে হাতে কাপড় বানানো হয়, কাঠে খোদাই করা বা ছবি আঁকানো হয়। যারা এখানে অংশ নেন তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই কাজগুলো করে আসছেন। ফেস্টিভালে থাকে ফোক গান আর নাচের আয়োজন। হাঙ্গেরীয় খাবার আর পানীয়র বিপুল সমাহার থাকে এ সময়।  

নাবিলা বুশরা   এস এম