প্রাসাদের শহর রাজস্থানের জনপ্রিয় উৎসব পুষ্করের মেলা
ছবি : সংবাদ প্রতিদিন
রাজস্থানকে বলা হয় প্রাসাদের শহর। তবে, একই সাথে রাজস্থানকে উৎসবের শহর বললেও ভুল হবে না। ১২ মাসে ১৩ পার্বণের মতো প্রতি ঋতুতে বিভিন্ন রকমের পালা-পার্বণে মেতে থাকে রাজস্থানীয়রা।
দুর্গ, প্রাসাদ আর উটের এই ধূসর শহর যেন রঙিন হয়ে ওঠে এই উৎসবের রঙে। উৎসবের শহর হলেও উৎসব ছাড়া যেন শহরটি নির্জীব হয়ে থাকে, আর উৎসবের ছোঁয়া পেলেই যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রাজস্থানের একটি জনপ্রিয় উৎসব হলো পুষ্করের মেলা। বলা হয়, এই মেলা দেখতে নাকি মর্ত্যে নেমে আসেন তেত্রিশ কোটি দেবদেবী।
পুরো ভারতবর্ষে প্রায় ছয়টির মতো ব্রহ্মা মন্দির রয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রাচীন ব্রহ্মা মন্দির হলো পুষ্করের ধারের এই ব্রহ্মা মন্দিরটি। রামায়ণ, মহাভারতসহ বিভিন্ন প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে পুষ্করের এই মন্দিরের কথা বলা আছে।
মহাভারত অনুসারে পুষ্কর ভারতের প্রাচীনতম তীর্থস্থানগুলোর মাঝে অন্যতম৷ প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় ১০ দিনব্যাপী এর মেলা ও পুণ্যস্নান চলে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই পুষ্কর মেলা।
রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী পুস্কর মেলায় সজ্জিত উট। ছবি : গেটি ইমেজ
কথিত আছে, বজ্রনাভ নামের এক অসুরকে পদ্মের আঘাতে হত্যা করেন ব্রহ্মা। সেসময় পদ্ম থেকে কিছু পাপড়ি ছিঁড়ে পড়ে মর্ত্যে। যেখানে এই পদ্মের পাপড়ি পড়ে সেখানে তৈরি হয় হ্রদ যেটি আজকের পুষ্কর।
কার্তিকী একাদশী থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা এর মাঝেই পুষ্করের সৃষ্টি। এই পূন্যতিথিতেই তাই প্রতিবছর বসে পুষ্করের মেলা। চন্দ্র তিথি অনুযায়ী হিন্দুধর্মের যাবতীয় পালা পার্বণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় বলে প্রতিবছর পুষ্কর মেলার তারিখে ভিন্নতা দেখা যায়। তাই যাবার আগে অবশ্যই তারিখ দেখে যেতে হবে।
মেলায় থাকে নাচ-গানের আসরও। ছবি : সংগৃহীত
পুস্কর মেলা - পূণ্যস্নান
মেলার শুরুটা হয় কার্তিকী একাদশীতে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে। জনশ্রুতি আছে, মেলার এই পুণ্যস্নানে সামিল হয় দেবতারাও। তাই পবিত্রতা ও গুরুত্বের দিক দিয়ে এটি ধর্মপ্রাণ হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ তাই পাপ মোচনের আশায় পুষ্করে ডুব দিয়ে পবিত্র হৃদয়ে মেলায় যোগ দেয়। তারা বিশ্বাস করেন এসময় পুকুরে স্নান করলে কঠিন অসুখ সেরে যায়।
উটের মেলা
পুরো রাজস্থান তো বটেই, পুষ্কর মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো উট। তাইতো একসাথে বলা হয় পুষ্করের উটের মেলা। প্রায় ৫০ হাজার উটের মেলা বসে এখানে। বলা হয়ে থাকে দেশের অন্যতম 'ক্যাটল ফেয়ার' এটি। শুধুমাত্র দেশের নয়, পুরো বিশ্বের মাঝে অন্যতম বৃহত্তম উটের মেলা এই পুষ্কর মেলা।
পুস্কর মেলায় বসে উটের হাঁট। ছবি : সংগৃহীত
উট ছাড়াও গরু, ঘোড়া কেনাবেচাও হয় এই মেলায়। উটের বেচাকেনা ছাড়াও উটের ফ্যাশন শো, উটকে সুন্দর করে সাজানোর প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন রকম খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে রাজ্যের বাইরে উট বিক্রি ও উট হত্যা করা নিষিদ্ধ করে দেয়ায় এখন মেলায় উটের উপস্থিতি কম দেখা যায়।
আনন্দের পসরা :
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মেলার আয়োজন হলেও আনন্দ, মজা ও আমোদ-প্রমোদে মুখরিত থাকে মেলা। তাই মেলার শুরুতেই আকাশে ফানুশ উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়।পাঁচদিন ব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন সময় আকাশে রঙিন ফানুশ উড়িয়ে দেয়া হয়। থাকে নাচ- গানের ব্যবস্থা।
আয়োজন করা হয় বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতার, যেমন-পুরুষদের জন্য থাকে সবচেয়ে বড় গোঁফের প্রতিযোগিতা, উটের দৌড়, মহিলাদের দৌড়, উট সাজানোর প্রতিযোগিতা, জলভরা কলসি নিয়ে হাটা ইত্যাদি নানা রকম প্রতিযোগিতায় মেলা সেজে ওঠে আনন্দের পসরায় ।