পলওয়েল পার্ক : রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ

কাপ্তাই লেকের কোলঘেঁষে ডিসি বাংলো রোডে পলওয়েল পার্ক


পলওয়েল পার্ক

ছবি : সংগৃহীত


পাহাড়, ঝর্ণা, হ্রদের সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা রাঙামাটি মানেই প্রকৃতির এক রূপসী কন্যা। পাহাড় এখানে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আকাশের বুকে, নীলকান্তমণির মতো জল আর মেঘের ভেলার মিতালি মন ভোলায় প্রকৃতি প্রেমীর। অপরূপ রাঙামাটির রয়েছে প্রকৃতির সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা আকর্ষণীয় সব পর্যটন স্থান। এসব স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে পলওয়েল পার্ক (Polwel Park। কাপ্তাই লেকের কোলঘেঁষে ডিসি বাংলো রোডে পলওয়েল পার্কের অবস্থান। রাঙামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর চমৎকার নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতার জন্য এটি রাঙামাটির অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্রের জায়গা করে নিয়েছে। বৈচিত্র্যময় ল্যান্ডস্কেপ, অভিনব নির্মাণশৈলী এবং নানা রকম বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্নরকম এক মাত্রা। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে পলওয়েল পার্কে।


বিনোদনের নানান আয়োজন দিয়ে সাজানো পলওয়েল পার্ক

মুখোশের আদলে তৈরী প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই পাশে দেখবেন আরেকটি মুখোশ আকৃতির টিকিট কাউন্টার। ভেতরে যেতেই দেখতে পাবেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক পরিচালিত প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। এখান থেকে বিভিন্ন ধরণের স্যুভেনির, আদিবাসীদের হাতে বোনা কাপড় ইত্যাদি কিনে নিতে পারেন। এরপাশেই শিশুদের জন্য রয়েছে কিডস জোন। শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য এখানে বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অনেক সময় ধরে বাচ্চারা রাইডগুলো উপভোগ করতে পারবে। কিডস জোনের অপর প্রান্তে চোখে পড়বে ঢেঁকিঘর আদলের একটি ভাস্কর্য। গ্রামীণ আবহ তৈরির জন্য এই ভাস্কর্যটিতে এখানে দেয়া হয়েছে।


আছে নানা ধরনের ভাস্কর্য

গ্রামের নারীদের ঢেঁকিতে ধান ভানার এই ভাস্কর্যটি অত্যন্ত সুনিপুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। কিডস জোন থেকে কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলে রাস্তার পাশে বসার জন্য অনেকগুলো বেঞ্চ পাবেন। এখানে বসে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। সামনে যতদূর দৃষ্টি যায় লেকের নীলাভ জল মিশেছে আকাশের দিগন্তরেখায়। পাহাড়গুলো যেন ঘুমিয়ে আছে আকাশের কোলে। মনোমুগ্ধকর এই প্রকৃতিতে কাটিয়ে দিতে পারবেন বিকেলটা। বেঞ্চগুলোর পেছনেই আছে কলসি কাঁখে নারীর ভাস্কর্য। তাদের কলস থেকে গড়িয়ে পড়া পানিতে তৈরি হয়েছে ঝর্ণা।


পলওয়েল পার্ক

পার্কে অবস্থিত রিসোর্ট থেকে নান্দনিক দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত


এই পার্কটির একদম শেষপ্রান্তে তৈরি করা হয়েছে দেশের প্রথম 'লাভ পয়েন্ট'। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনায় এই লাভ পয়েন্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই লাভ পয়েন্টে লাভ লক আটকে তার চাবি লেকে ফেলে দেয়ার চমৎকার প্রথাও চালু করা হয়েছে। এছাড়াও এই পার্কে মিনি চিড়িয়াখানা,ভূতুড়ে পাহাড়ের গুহা, পাহাড়ি কৃত্রিম ঝর্ণা,ক্রোকোডাইল ব্রিজ, অ্যাকুরিয়াম আছে। এখানে সুইমিংপুল রয়েছে এবং লেকের জলে নৌকা নিয়ে ঘুরারও ব্যবস্থা রয়েছে। লেকের পাড় ঘেঁষে রাখা আছে বিচ চেয়ার। এখানে বসে গোধূলির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।


খাবার ও থাকার ব্যবস্থা

রাতের কৃত্রিম আলোয় এই ঝর্ণার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়। এখান থেকে কিছুটা এগুলেই পাবেন চটপটি আর ফুসকার দোকান। আরও একটু সামনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলেই পাবেন পলওয়েল ক্যাফেটেরিয়া। মুখরোচক সব খাবার এখানে পেয়ে যাবেন। ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এগুলেই ফিশিং পিয়ার। এটি হচ্ছে একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি দেয়া হয় যাতে জাহাজ, নৌকাগুলো সহজেই সেখানে ভিড়তে এবং নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করতে পারে। এখানে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও এই পার্কে পিকনিকসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অত্যাধুনিক কটেজ রয়েছে থাকার জন্য। কটেজটির নাম পলওয়েল পার্ক কটেজ। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে আধুনিক বিনোদনের জন্য চলে যেতে পারেন পলওয়েল পার্কে।


খরচপাতি :

জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৩০ টাকা, বিভিন্ন রাইডের ফি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং সুইমিংপুলের প্রবেশ ফি ২০০ টাকা। পলওয়েল পার্ক কটেজ ভাড়া নিতে ৮ হাজার টাকা খরচ পড়বে। কটেজ বুকিংয়ের সাথে রয়েছে সকালে নাস্তা, ফ্রি সুইমিংপুল ব্যবহারের সুবিধা, ফ্রি এন্ট্রি, কার পার্কিং, ওয়াইফাই এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


যেভাবে যাবেন :

প্রতিদিন ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ এলাকা থেকে রাঙামাটির উদ্দেশে অসংখ্য বাস ছেড়ে যায়। নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা । চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙামাটি গামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাওয়া যায়। ১৫০ টাকার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি বাস পেয়ে যাবেন। এরপর রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে এই পার্কে যেতে ৫০ টাকা সিএনজি ভাড়া পড়বে।

যেখানে থাকবেন : পলওয়েল পার্ক কটেজে না থাকতে চাইলে রাঙামাটি শহরে থাকতে পারেন। শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এবং রিজার্ভ বাজার এলাকায় বেশকিছু বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। রাঙামাটির আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, পর্যটন মোটেল, রংধনু গেস্ট হাউজ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল আল-মোবা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম