লালন আদর্শের জয়গান গাইতে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধাম : মুন্সিগঞ্জ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সিয়াজদিখানের পদ্মহেম ধাম, মুন্সীগঞ্জ

ইতিহাস
প্রাচীন কালের বিভিন্ন রাজাদের শাসনামল থেকেই মুন্সীগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। এক সময় বিক্রমপুর নামে খ্যাত মুন্সীগঞ্জ দশম শতক থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিলও। ঐতিহাসিক ঘটনা সমৃদ্ধ এই জেলাটির সিরাজদিখান উপজেলার বালুর চর গ্রামে রয়েছে লালন শাহ এর বারামখানা পদ্মহেম ধাম। বাউল বাড়ি হিসেবে পরিচিত পদ্মহেম ধাম বাউল ফকিরের একটি আশ্রম। গাছগাছালি ঘেরা ও শান্ত ইছামতী নদীর তীরে সুন্দর পরিবেশে রয়েছে এই পদ্মহেম ধাম।তবে, মজার বিষয় হচ্ছে এই স্থানে বাউল ফকির লালন শাহ-এর আগমনে এই বারামখানা গড়ে ওঠেনি। লালন শাহ-এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে এবং সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় কবির হোসেন এই বারামখানা গড়ে তোলেন। আর নান্দনিক নামকরণের সার্থকতাও মেলে এখানে ভ্রমণে। কবির হোসেন পেশায় একজন সাংবাদিক। লালনের আদর্শের প্রতি ভক্তি পূর্ণ এই স্থানটি সম্পূর্ণ প্রকৃতির নির্জনতা ও ছায়ায় গড়ে তোলা। এখানে রয়েছে একটি দোতলা কাঠের বাড়ি, একটি লালনগীতি সংগীত বিদ্যালয় ও আশ্রমের প্রবেশ পথেই পাথরের তৈরি লালনের অন্যতম নিদর্শন একতারাও দেখতে পাবেন। দোতলা ঘরটি বৈঠকখানা ও আশ্রম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আশ্রমের সম্মুখেই রয়েছে বটতলা। বটতলাতে বিভিন্ন উৎসবে সংগীতের আসর বসে।

যেভাবে যাবেন :
ঢাকার খুব নিকটেই মুন্সীগঞ্জ অবস্থিত। ঢাকার আশপাশে ডে ট্যুর করতে চাইলেও এখানে ঘুরে আসতে পারবেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থান হতেই মাওয়াগামী বাসে করে মুন্সিগঞ্জ যাবেন। জেলা সদরে নেমে বাইক/সিএনজি-তে করে সিরাজদিখান হতে পদ্মহেম ধাম পৌঁছবেন। সিরাজদিখান হতে আশ্রমের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার।সাখাওয়াত হোসেন এস এম