সৌন্দর্যখ্যাত দার্জিলিং-এর মনোরম পরিবেশের বাতাসিয়া লুপ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : স্বর্গরাজ্য নামে পরিচিত এই লুপ
দার্জিলিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, বাতাসিয়া লুপ। ছবি : নর্থ বেঙ্গল ট্যুরিজম
দার্জিলিং গিয়েছেন অথচ বাতাসিয়া লুপে যাননি এরকম ভ্রমণপ্রেমীর সংখ্যা নেহায়ত খুব কম। দার্জিলিংয়ের এক নয়নাভিরাম দৃশ্য এখানে উপভোগ করা যায় যা কতটা অসাধারণ তা নিজের চোখে না দেখলে ধারণা করাটা কঠিন। দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত টয় ট্রেনে বসে গেলে বাতাসিয়া লুপে আপনাকে আসতেই হবে।হিল কার্ট রোডে অবস্থিত বাতাসিয়া লুপ দার্জিলিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। শহর থেকে দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটারের।
ট্যাক্সিতে করে সময় লাগবে মাত্র ২০মিনিট।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৭০০ ফুট উঁচুতে দার্জিলিং শহরটি। তাই বাতাসিয়া লুপ এবং রেলস্টেশন বা রেল লাইনও অনেক উপরে। এটি ভারতীয় রেলের সর্বোচ্চ রেল স্টেশন। বাতাসিয়া অর্থ বাতাসের জায়গা। লুপ মানে বাঁক।

সবুজে ছাওয়া ঘাস, পাতাবাহার-লতাবাহার ইত্যাদি। বাঁধানো পথ। চত্বরের মাঝখানে বিশাল উঁচু কালচে গোলাকার স্তম্ভ। ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে তৈরি হয়েছে এটি।
বৃষ্টি থেকে রক্ষা কিংবা বিশ্রাম নেয়ার জন্য কিছু ছাউনিও রয়েছে। বাগানের একপাশে দাঁড়ালেই দেখতে পাবেন টয় ট্রেন। এই ট্রয় ট্রেনে ওঠার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর মধ্যে চেপে বাতাসিয়া লুপ পার হওয়া। ছোট্ট খেলনা রেলগাড়িটা যখন কু ঝিক ঝিক করে হুইসেল বাজিয়ে সবুজ ঘাসে মোড়া নানা রঙের ফুলের বাগানে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে এগিয়ে আসবে দাঁড়াবে আবার পাক খেয়ে চলে যাবে, আপনি মন্ত্রমুগ্ধের মত চেয়ে থাকবেন। আর যদি আপনি ওই ট্রেনের সাওয়ারি হন তাহলে তো কোনও কথাই নেই।

১৯৫৫ সালে দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খা সৈন্যদের স্মরণে এটি খোলা হয়েছিল যারা ভারতের স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন যুদ্ধে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিল। একটি উন্নত প্ল্যাটফর্মে একটি সেনোটাপ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য একজন সৈনিকের মূর্তি রয়েছে।
লুপের বাইরে একটি ছোট বাজারের দেখতে পাবেন। যদি খুব ভোরে পৌঁছতে পারেন , ঠিক বাইরেই ভ্রাম্যমান হাটের পসার দেখবেন। যেখানে স্থানীয়রা হট সামোসাস বা সিঙ্গারা ইত্যাদি স্ন্যাক জাতীয় খাবার বিক্রি করে। বাজারের ব্যাগ, টুপি এবং অন্যান্য আলংকারিক আইটেম কেনার জন্য একটি ভাল জায়গা। রাস্তার বিপরীতে দোকান রয়েছে। কাপ, ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিক্রি করছে।
