শরতে ভ্রমণ : ব্রিটেনের চিত্তাকর্ষক দর্শনীয় স্থান

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শরৎকালে ভ্রমণ করার জন্য ব্রিটেনের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলো

ব্রিটেনে গ্রীষ্মের পরই দেখা মেলে শরতের। ব্রিটেনের পার্ক, বাগান কিংবা বনে স্ব-মহিমায় শরতের আগমনী বার্তা জানান দেয়। রঙিন হয়ে উঠে গোটা ব্রিটেন। যেনও সতেজ প্রাণ ফিরে পায় সমস্ত প্রকৃতি। চলুন জেনে নেয়া যাক শরতে ব্রিটেনের দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে।

ফাসকালি উড, পার্থশায়ার, স্কটল্যান্ড

ব্রিটেনের দর্শনীয় স্থান ফাসকালি উড, পার্থশায়ার, স্কটল্যান্ড

লেকের দু-পাশে ফসকালি ফরেস্ট; ছবি : ডে আউট উইদ দ্যা কিডস


 বিশাল বড় বড় গাছের শহর হিসেবেই পার্থশায়ার বেশি পরিচিত। প্রায় ২৫ প্রজাতিরও অধিক গাছ দিয়ে সমৃদ্ধ স্কটল্যান্ডের পার্থশায়ার। আর এই লম্বা গাছগুলো দৃষ্টিনন্দন হয়ে ধরা দেয় শরৎকালেই। বিভিন্ন রঙের পাতা দিয়ে সমৃদ্ধ এই গাছ-পালা শরতে অসংখ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই সময়টাতেই অনেকে এখানে ক্যাম্প ফায়ার করে থাকেন।

লাইম এভিনিউ, মারবোরি পার্ক, চেশায়ার, ইংল্যান্ড

লাইম এভিনিউ, মারবোরি পার্ক, চেশায়ার, ইংল্যান্ড

মার্সেই বনের মারবোরি পার্কে লাইম এভিনিউর দৃশ্য; ছবি : পিন্টারেস্ট


ইন্সটাগ্রামে ছবি আপলোড করা যদি আপনার নেশা হয়ে থাকে, তবে এই জায়গাটি আপনার জন্যই। সুন্দর এই জায়গাটি শরতে এতো মোহনীয় যে, এটি ছবি তোলার স্পট হিসেবে পুরোপুরি উপযুক্ত। মার্সেই বনের অন্তর্গত মারবোরি পার্কে সুন্দর এই লাইম এভিনিউ অবস্থিত।

আরও পড়ুন : ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট : ইউরোপ মহাদেশ (আভিজাত্যের ইংল্যান্ড)

নিউ ফরেস্ট, হ্যাম্পশায়ার, ইংল্যান্ড


ব্রিটেনের দর্শনীয় স্থান নিউ ফরেস্ট, হ্যাম্পশায়ার, ইংল্যান্ড

হ্যাম্পশায়ারে অবস্থিত নিউ ফরেস্ট এর রঙিন মূহুর্ত; ছবি : রেডইট


 প্রায় ৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই জায়গাটি নিউ ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্ক নামেই পরিচিত। বিভিন্ন প্রজাতির এই রেড উড গাছসমূহ ১৮৫০ সালে সর্বপ্রথম মানুষের নজরে আসে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো এক বেশ উপভোগ্য অভিজ্ঞতা। তবে শরতেই সবচেয়ে বেশী এই সৌন্দর্য ধরা দেয়। এছাড়াও প্রতি বছরের অক্টোবরে এখানে নিউ ফরেস্ট ওয়াকিং ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই বনে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো নাইটহুড ওক অবস্থিত যা এখানে ঘুরতে গেলে একদমই মিস করবেন না।

রিচমন্ড পার্ক, লন্ডন

ব্রিটেনের দর্শনীয় স্থান richmon-park-london-রিচমন্ড পার্ক, লন্ডন

রিচমন্ড পার্কে রঙ বেরঙের উদ্ভিদের সমাহারের সাথে দেখা পাবেন হরিণেরও; ছবি : গুডফন ডট কম


লন্ডনে অবস্থিত এই রিচমন্ড পার্ক শরতে হেঁটে অথবা সাইকেলে ঘুরে দেখা বেশ আনন্দের। এখানকার প্রাচীন ওক গাছগুলি কমলা রঙের। নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কের চেয়েও এটি তিন গুন বড় এবং ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত। এখানে অল্প কিছু বন্য প্রাণীর দেখা মেলে। এই পার্কটিতে বর্তমানে ৬৩০টি হরিণ মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়।

আরও পড়ুন : য়নাভিরাম সৌন্দর্যের নিদর্শন ভার্জিনিয়া ওয়াটার লেক

বডনেন্ট গার্ডেন, ওয়েলস

বডনেন্ট গার্ডেন, ওয়েলস

হরেক রকম বৃক্ষের মুগ্ধকর এমন রূপ প্রতিবছর পর্যটকদের টেনে নিয়ে যায় এই স্থানে। ছবি : ন্যাশনাল ট্রাস্ট ডট কম


বড় পাহাড়, উপত্যকা, ঝর্না মিলিয়ে উডল্যান্ড বন অসংখ্য পর্যটককে প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে। তবে শরতে অর্থাৎ অক্টোবরে এটি ভ্রমণ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বাহারি রঙের পাতায় সমৃদ্ধ এই বন শরতে হেঁটে উপভোগ করা ভ্রমণপিয়াসুদের নিকট বেশ জনপ্রিয়।

বেডগেবারি ন্যাশনাল পাইনটাম এবং বন, কেন্ট, ইংল্যান্ড

ব্রিটেনের দর্শনীয় স্থান Bedgebury Pinetum-বেডগেবারি ন্যাশনাল পাইনটাম এবং বন, কেন্ট, ইংল্যান্ড

গার্ডেন অফ ইংল্যান্ড খ্যাত বেডগেবারি ন্যাশনাল পাইনটামে শরতে গাছগুলি কমলা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি রঙে ফুটে উঠে; ছবি : সংগৃহীত


 'গার্ডেন অফ ইংল্যান্ড' নামেই এটি বেশি জনপ্রিয়। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রজাতির সরলবর্গীয় গাছের দেখা এখানেই পাবেন। এখানকার পাইন গাছ ক্যালিফোর্নিয়া, স্কটল্যান্ড এবং তাইওয়ান থেকে আনা হয়েছে। শরতে গাছগুলি কমলা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি রঙ্গে পরিবর্তিত হয়। যা পুরো বনকেই উৎসবের আমেজ এনে দেয়। বন প্রেমীরা সাধারণত এখানে ভ্রমণ কিছুতেই মিস করেন না।

স্টুরহেড, ওয়াইল্টশায়ার, ইংল্যান্ড

স্টুরহেড, ওয়াইল্টশায়ার, ইংল্যান্ড

কয়েকশ বছরের গাছগাছালির দেখা পাবেন স্টুরহেডে; ছবি : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি


১৮ শতকের এই বাগানটি লেক, পুরনো উপাসনালয় এবং অসংখ্য গাছ-গাছালি দিয়ে সমৃদ্ধ। এই বাগানটি সর্বপ্রথম উন্মুক্ত করা হয় ১৭৪০ সালে। বিভিন্ন প্রজাতির এই গাছগুলি বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। শরতে বিভিন্ন রঙের পাতার সমাহারে লেকের পানিতে প্রতিচ্ছবি তৈরি হয় যা দেখতে বেশ মনোমুগ্ধকর। অক্টোবরেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক পর্যটকের সমাবেশ হয়ে থাকে এখানে।

রুবাইদা আক্তার   এস এম