বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত প্রাচীন শহর ও অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণ, তালিন; ছবি : লোনলি প্ল্যানেট
বাল্টিক সাগরের পাশেই অবস্থিত তালিন হচ্ছে এস্তোনিয়ার রাজধানী। মধ্যযুগের নিদর্শন এই শহরটি সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর থেকেই পুরো বিশ্ব জুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। পর্যটন সহায়ক নীতির জন্যই মূলত ইউরোপের জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশনের মাঝে এটি অন্যতম। নর্ডিক এবং বাল্টিক সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এখানে বেশ কিছু জনপ্রিয় স্থান রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব স্থান সম্পর্কে।
এস্তোনিয়ান মেরিটাইম মিউজিয়াম :
বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ৫০০ বছর পূর্বের এই স্থাপনার আকর্ষণ সী প্লেন হার্বার এক্সিবিশন; ছবি : ট্রিপ এক্সপার্ট
৫০০ বছরের পুরনো ভবনে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয় ১৯৩৫ সালে। এস্তোনিয়ার মেরিটাইম ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই জাদুঘরটিতে। এখানের মূল আকর্ষণ সী প্লেন হার্বার এক্সিবিশন। এখানে ১৮৪টি সী প্লেন প্রদর্শন করে রাখা আছে।
এছাড়াও এখানে সাবমেরিন ও প্রদর্শিত রয়েছে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেকার। একুরিয়াম, শিপ মিনিয়েচার এবং ফ্লাইট সিমুলেটরের দেখা পাবেন এখানে। প্রাপ্তবয়স্ক থেকে বাচ্চা পর্যন্ত সকলের জন্যও বেশ শিক্ষামূলক ভ্রমণ হতে পারে এখানে।
গ্লেন পার্ক এবং ক্যাসেল :
নম্মি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত গ্লেন পার্ক এবং প্রাসাদ ১৮৮৬ সালে নির্মান করা হয়; ছবি : ভিজিট স্তোনিয়া ডট কম
মধ্যযুগীয় রীতিতে নির্মিত এই গ্লেন ক্যাসেল নম্মি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে গ্লেন পার্ক। এই পার্ক এবং প্রাসাদ ১৮৮৬ সালে নির্মিত। অনেক ইউনিক সংগ্রহশালার মাধ্যমে এটিকে ডিজাইন করা হয়েছিল।
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর সবকিছুই লুট হয়েছিলো যা পরবর্তীতে কোথাও পাওয়া যায় নি। তারপরেও পার্কটিতে স্ট্যাচুর দেখা মেলে। রিলাক্স কিংবা হেটে বেড়ানো অথবা শীতে এখানে স্কি করা পর্যটকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।
বাল্টিক সংস্কৃতির সবচেয়ে পুরনো স্থাপনা তালিন টাউন হল যা ১৪০৪ সালে নির্মাণ করা হয়; ছবি : বুকিং ডট কম
তালিন টাউন হল এবং স্কয়ার :
বাল্টিক সংস্কৃতির সবচেয়ে পুরনো স্থাপনা এই তালিন টাউন হল। এর নির্মাণ কাজ ১৪০৪ সালে সম্পন্ন হয়। টাউন হলের অভ্যন্তরভাগ জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
ভেতরের দেয়ালে আপনি বাহারি রঙের কারুকাজ দেখতে পাবেন। কাঠের কারুকাজ এবং সিলিং ডিজাইনে বিভিন্ন রকমের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে সারা বছর ব্যাপীই এর প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
তালিন মিউজিয়াম অব ফটোগ্রাফি:
এক সময়ে জেলখানা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া স্থাপনাটি বর্তমানে ফটোগ্রাফি প্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে; ছবি : ফ্লিকার
১৪ শতকে জেলখানা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ভবনটি এখন ফটোগ্রাফি মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এস্তোনিয়ার ছবির বিভিন্ন ইতিহাস এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৪০ সালের ছবির দেখা মেলে এখানে।
আকারে বেশ ছোট এই মিউজিয়ামটি। ফটোগ্রাফি আপনার শখ হয়ে থাকলে এই জায়গায় ভ্রমণ মিস করা একদমই উচিত হবে না আপনার।
ইচতুস আর্ট গ্যালারি :
কয়েকশ বছরের পুরনো প্রাচীন স্থাপনার অন্যতম নিদর্শন ইচতুস আর্ট গ্যালারী; ছবি : ইচতুস আর্ট গ্যালারী
প্রাচীন নিদর্শনের জন্য শ্রেষ্ঠ এই জায়গাটি। এর অবস্থান সেইন্ট ক্যাথরিন ডমিনিকান মনাস্ট্রারিতে যা ১২৪৬ সালে নির্মিত। প্রবেশের পর ডানে ১৩ শতকের স্থাপনার দেখা পাবেন। এটি মংকদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এখানে এনার্জি পিলারও রয়েছে যা থেকে আত্মিক শক্তি বিচ্ছুরিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। বিভিন্ন ধরনের আর্ট এখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করে রাখা হয়েছে এখানে।
ক্যাথিড্রাল অফ সেইন্ট মেরি :
১৩ শতকে নির্মিত ক্যাথিড্রাল অফ সেইন্ট মেরি চার্চটিকে বিভিন্ন ধর্মীয় আর্ট ও বিখ্যাত যোদ্ধাদের প্রতিকৃতি দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে; ছবি : এটলাস অবসকিউর ডট কম
১৩ শতকে নির্মিত এই চার্চটি অন্যান্য চার্চ থেকে বেশ ভিন্ন রকমের। বিভিন্ন ধর্মীয় আর্ট দ্বারা একে ডিজাইন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণ্যমান্য এবং বিখ্যাত যোদ্ধাদের প্রতিকৃতি অংকন করা হয়েছে এই চার্চে। এখানে অবস্থিত ৬৯ মিটার উঁচু টাওয়ার থেকে পুরো শহর খুব ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।