তাইপিং মালয়েশিয়ার পেরাক নামের রাজ্যে অবস্থিত। পেরাক রাজ্যের রাজধানী আইপোহ। আইপোহ থেকে পেরাকের দূরত্ব ৩০ মাইল। ১৮৭৬ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত পেরাকের রাজধানী ছিলো এই তাইপিং। পরে আইপোহতে রাজধানী সরিয়ে নেয়া হয়।
তাইপিং মালয়েশিয়া উপদ্বীপের সবচেয়ে আর্দ্র শহর। তাইপিং-এর বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৪,০০০ মিলিলিটার, যেখানে বাকী মালয়েশিয়ার গড় বৃষ্টিপাত হলো ২,০০০ মিলিলিটার থেকে ২,৫০০ মিলিলিটার। এরকম অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণেই এখানকার মাটি খুব উর্বর ও নানা রকম ফুল-ফলে সমৃদ্ধ। বিশ্বের টেকসই শহরগুলোর তালিকায় তাইপিং ৩ নম্বরে রয়েছে। এখানে নানা রকম পর্যটণ আকর্ষণ রয়েছে।
লেক গার্ডেন-মালয়েশিয়ার প্রথম উদ্যান :
মালয়েশিয়ার প্রথম উদ্যান লেক গার্ডেন। ছবি : আফার মিডিয়া
ব্রিটিশ শাসনামলে গড়ে তোলা হয় এই তাইপিং, এর নাম লেক গার্ডেন। ১৮৮০ সালে গড়ে ওঠা এই বাগানটি আগে ছিল টিনের খনি। বর্তমানে এখানে কৃত্রিম লেক, জগিং ট্র্যাক, বসার জায়গা রয়েছে যাতে উদ্যানে আগত দর্শকরা এখানে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে পারে।
বিশালাকারের রেইন ট্রি :
বিস্ময়কর রেইন ট্রি। ছবি : দ্য স্টার
তাইপিং লেক গার্ডেনের দক্ষিণ দিকে এই বিশাল আকারের রেইনট্রির অবস্থান। একজন ব্রিটিশ অফিসার ১৮৯৮ সালে এই গাছটি রোপণ করেছিলেন যা বর্তমানে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
তাইপিং চিড়িয়াখানাতে নাইট সাফারি :
তাইপিং-এর এই চিড়িয়াখানা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১,২০০ এর ওপর জীবজন্তু রয়েছে। ওরাংওটাং, রিনো, কুমিরই রয়েছে ১৪০ প্রজাতির। বিলুপ্তপ্রায় কমলা চুলের প্রাইমেটদের এখানে যত্নের সাথে রাখা হয়েছে। এটা মালয়েশিয়ার একমাত্র চিড়িয়াখানা যেখানে রাতের বেলা প্রবেশ করা যায়।
তাইপিং এর কলোনিয়াল যুগের ক্লক টাওয়ার :
ব্রিটিশ শাসনামলের ক্লক টাওয়ার। ছবি : পিন্টারেস্ট
১৮৮১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এই ক্লক টাওয়ারটি তৈরি করা হয় যা সম্পূর্ণ কাঠের। মালয়েশিয়ার ব্রিটিশ স্থাপত্যের দারুণ এক নিদর্শন এই টাওয়ারটি। তবে, এক দশক পরে এটি সিমেন্ট দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিলো। বর্তমানে এটি একাধারে ক্লক টাওয়ার, পুলিশ ষ্টেশন ও দমকল বাহিনীর অফিস। এখানে একটি টুরিস্ট তথ্যকেন্দ্র আছে যা পর্যটকদের বিভিন্ন তথ্য ও মানচিত্র সরবরাহ করে থাকে।
মালয়েশিয়ার প্রথম রেলওয়ে ষ্টেশন :
১৮৮৫ সালে তাইপিং থেকে কুয়ালালামপুরে যে রেল লাইন গড়ে তোলা হয়েছিলো তখনই এখানে একটি রেলওয়ে ষ্টেশন গড়ে তোলা হয়। ব্রিটিশ টিন এর খনির মালিকরা এখানকার খনি থেকে মালয়ে (মালয়েশিয়ার তখনকার নাম) টিন পাঠানোর জন্য এই রেল লাইন ও ষ্টেশনের প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বর্তমানে এই পুরনো রেল ষ্টেশনটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে যাতে একটি গ্যালারী ও ক্যাফে রয়েছে। একটু সামনেই নতুন রেল ষ্টেশন তৈরি করা হয়েছে ২০১৪ সালে।
তাইপিং এর গর্ব : 'প্রথম ৩৩'
তাইপিং এ মালয়েশিয়ার প্রথম দিকের অনেক কিছুই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা নিয়ে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়েছে 'প্রথম ৩৩'। পুরনো টিনের খনির শহরটিতে মালয়েশিয়ার প্রথম বাগান, রেলওয়ে ষ্টেশন, রেলওয়ে পথ,কোর্ট হাউজ, জেলখানা, যাদুঘর, ক্লক টাওয়ার, হিল স্টেশন্সহ মোট ৩৩টি ব্যাপার প্রথম হয়েছিলো। তাইপিং-এর পুরনো রেলওয়ে ষ্টেশনের গ্যলারিতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে বেশ গর্বের সাথেই।
মালয়েশিয়ার প্রথম পাহাড়ী গন্তব্য :
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ম্যাক্সওয়েল বা 'বুকিত লারুত' পাহাড় এর ছোট্ট এক গ্রামে মালয়েশিয়ার প্রথম পাহাড়ি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলে ১৮৮৪ সালে । সমুদ্রতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩,৩৯৯ ফুট উপরে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এখানে তাদের জন্মভূমির গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া খুঁজে পেতেন।
মালয়েশিয়ার প্রথম জাদুঘর : পেরাক জাদুঘর
মালয়েশিয়ার প্রথম জাদুঘর 'পেরাক জাদুঘর'। ছবি : তাইপিং ফটো গ্যালারি
১৮৮৩ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম জাদুঘর “পেরাক জাদুঘর” গড়ে তোলা হয়। এখানকার গ্যালারিগুলোতে প্রাণী বিদ্যার নিদর্শনসহ প্রাচীনকালের বিভিন্ন রকম নিদর্শন আছে।
কারাবন্দীদের উপহার দোকান :
মালয়েশিয়ার তাইপিং কারাগারের বন্দীরা যেসব দ্রব্য প্রস্তুত করে তা বিক্রি হয় এই দোকানে। বিভিন্ন হস্তশিল্প ও কাঠের কাজের জিনিস এখানে মেলে। এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারাবন্দী পরবর্তী জীবনে বন্দীদের জন্য এক বিশাল ভরসা।