ঢেউয়ের তালে ভাসছে যে মসজিদ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভাসমান মসজিদ: আফ্রিকার প্রথম এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ



মরক্কোর ভাসমান মসজিদ

হাসান-২ মসজিদ, মরক্কো। ছবি : সংগৃহীত


ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের কথা তো শুনেছেন, পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি। কিন্তু পানির ওপর ভাসমান মসজিদের কথা কি জানেন? হ্যা, এমনই দৃশ্য দেখা যাবে মরক্কোতে। মরক্কোর সবচেয়ে বড় এই মসজিদটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহরে অবস্থিত। মসজিদটির একটি অংশ সাগরের পানির ওপর অবস্থিত, এতে করে দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন মসজিদটি সাগরের ঢেউয়ে দুলছে। অসাধারণ সুন্দর স্থাপত্যশৈলী আর সু-উচ্চ মিনারসহ এই মসজিদটি বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান তৈরি করেন। মসজিদটি গ্র্যান্ড মস্ক হাসান-২ নামেও পরিচিত। মসজিদটির নকশা তৈরি করেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ। মসজিদটি শুধুমাত্র মরক্কোরই নয়, আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সারাবিশ্ব থেকে পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা এই মসজিদে আসেন এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং পানির ওপর নিজেদের নামাজ আদায় করতে। আর তাই এই মসজিদটির নাম হয়েছে ভাসমান মসজিদ।




হাসান-২ মসজিদ, মরক্কো। ছবি : সংগৃহীত


পুরো মসজিদটিই সুদৃশ্য টাইলসে মোড়ানো। কোথাও কোথাও আবার সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো হয়েছে পিলারগুলো। মসজিদটির ভেতরে রয়েছে ৫০টি ক্রিস্টালের ঝারবাতি তাছাড়া পুরো মসজিদ প্রাঙ্গনটি সাজাতে রয়েছে ১২৪টি ঝর্ণা। মসজিদের মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার, বলা হয়ে থাকে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিনার।

ভাসমান মসজিদ- রাতের দৃশ্য

রাতের বেলায় মিনারটি থেকে আলোকরশ্মি বের হয় যা মক্কার দিকের পথ নির্দেশ করে। নন্দনশৈলীতে মোহনীয় এই মসজিদটিতে যাতে করে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছতে পারে তাই মসজিদটি ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতি তিনমিনিট পরপর খুলে যায়। প্রায় ২২ দশমিক ২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এই মসজিদটি এতই বিশাল যে এর ভেতর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গীর্জাকেও অনায়াসে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। মরক্কোর সবচেয়ে বিশাল এই মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ২০০ মিটার। ২ হাজার ৫০০ পিলারের ওপর দাড়ানো এই মসজিদটিতে একসাথে প্রায় ১ লাখ মুসুল্লি নামাজ পড়তে পারে। মসজিদটিতে নারীদের নামাজ পড়ার জন্যেও সুব্যবস্থা রয়েছে।


মরক্কোর ভাসমান মসজিদ

হাসান-২ মসজিদ, মরক্কো। ছবি : সংগৃহীত



তাছাড়া, সাগরের কোল ঘেষে মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ যাতে মসজিদটির ক্ষতি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। মসজিদটি সর্বোচ্চ ৩৩ ফুট উচ্চতার সমুদ্রের ঢেউ সামলে নিতে পারে। আর তাছাড়া মসজিদটিতে সাউন্ডপ্রুফের ব্যবস্থা রয়েছে যাতে করে সমুদ্রের ঢেউ এর গর্জন মসজিদের ভেতর পৌছাতে পারে না।  বিশাল এই মসজিদে রয়েছে লাইব্রেরী, কনফারেন্স রুম, কোরআন শিক্ষালয় ও ওজুখানা। মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও ৮০ কোটি ডলার (তৎকালীন) ব্যয়ে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৯৩ সালে। ঈদে মিলাদুন্নবী এর দিন মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় বাদশাহ মসজিদটি নির্মাণের জন্য সমুদ্রের তীরবর্তী জায়গাই বেছে নিয়েছিলেন কারণ কোরআনের একটি সূরায় বলা আছে সৃষ্টিকর্তার সিংহাসন সমুদ্রের ওপর অধিষ্ঠিত। তাই তিনি চেয়েছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা যেন এই মসজিদের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার নিজের সৃষ্টি সাগরের নীল জলরাশিও উপভোগ করতে পারে।





হাসান-২ মসজিদ, মরক্কো। ছবি : সংগৃহীত


মরক্কোতে আরো অনেক মসজিদ রয়েছে, কিন্তু তারমধ্যে ব্যতিক্রম হলো এই ভাসমান মসজিদ, কারণ এটি শুধু মুসলিমদেরই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও জন্যে একটি আকর্ষণীয় জায়গা।  

ইন্দিরা বিশ্বাস    এস এম