প্রাণের শহর ঢাকার বিশেষ যে স্থানগুলোতে জনসমাগম বেশি হয়
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঢাকা শহরে দর্শনীয় স্থানের যেন শুরু আছে তবে শেষ নেই
শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যান। ছবি : ভ্রমণ গাইড
একেক জনের কাছে জীবনের অর্থ একেক রকম। কারও কাছে জীবনের মানে হলো কর্মচঞ্চল হয়ে ছুটে চলা, কারও কাছে দুবেলা দুমুঠো ভাতে খেতে পারার মাঝেই অর্থবহ সব ভালো লাগা লুকায়িত, আবার কারও কাছে খোলা আকাশের পানে হারিয়ে যাওয়াই জীবন কিংবা ব্যস্ত শহরের মাঝে জেগে ওঠা আলো যেন ভিন্নধর্মী জীবনের খোঁজ মিলিয়ে দেয়। ব্যস্ত শহরের মাঝে জেগে ওঠা আলো! হয়তোবা পাঠক ভাবছেন এমন জীবনের স্বাদ কিভাবে পাওয়া যায়? আসলে এমন জীবনের স্বাদ পাওয়া যায় শহরের কোলাহলের মাঝে বুক চিড়ে জেগে ওঠা ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাঝে, কিংবা নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতিকে লালন করে নির্মিত হওয়া সৌধের তরে আরও নানান কিছু রয়েছে। ঢাকা শহরের তেমনই বিশেষ কিছু জায়গা ও বিনোদন কেন্দ্র নিয়ে আজকের পর্বটি সাজানো। এছাড়াও চলুন জেনে আসা যাক ঢাকার বিশেষ কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে :
তারা মসজিদ :
ছবি : পিন্টারেস্ট
পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত তারা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। সাদা মার্বেল দিয়ে সম্পূর্ণ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। সাদা মার্বেলের ওপর নীল রঙের তারাগুলো যেন সব সময়ই জ্বলজ্বল করছে। এটি প্রতিষ্ঠা করে হয়েছিল আঠারো শতকে। ব্যক্তি এটি মূলত মির্জা গোলাম নামের একজন ধনাঢ্য পীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ১৮৬০ সালে মারা যান। পরে ১৯২৬ সালে আরেকজন ব্যবসায়ী আলিজান বেপারী এই মসজিদটি পুনরায় সুন্দরভাবে তৈরি করেছিলেন। অনেকটা মুঘলদের আদলে এই মসজিদটি তৈরি হয়েছিল। তারা মসজিদ তিন গম্বুজবিশিষ্ট ছিল, বর্তমানে এটি পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ৩৩ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য ৭০ এবং প্রস্থ ২৬ ফুট।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা :
ছবি : কর্পোরেট স্ট্যান্ডার্ড
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে একটি বিশেষ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫০ সালে জীবজন্তুর প্রদর্শন মেলা হিসেবে হাইকোর্ট চত্বরে একটি জীবজন্তুর প্রদর্শন এলাকা করা হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে পরবর্তীতে এটি মিরপুরে স্থানান্তর করা হয়। এর আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। এখানে ১৩ হেক্টরের দুটি লেক রয়েছে। এখানে প্রায় ১৯১ প্রজাতির ২৮৫০টি প্রাণী ও পাখি রয়েছে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ :
ছবি : ভ্রমণ গাইড
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকার সাভারে অবস্থিত। স্বাধীনতার যুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল। এটি নকশা করেছিলেন সৈয়দ মাইনুল হোসেন। এখানে দশ জন শহীদদের কবর রয়েছে। প্রায় ৮৪ একর জায়গার ওপর জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত। স্মৃতিসৌধ পরিবেষ্টন করে আছে আরও ২৪ একর জায়গা। সম্পূর্ণ স্মৃতিসৌধ এলাকাতে বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ। এখানে আসলে এক স্নিগ্ধ প্রশান্তির অনুভূতিতে মন ছুঁয়ে যায়। জাতীয় স্মৃতিসৌধের সাতটি ত্রিভুজাকৃতি মিনার তৈরি করা হয়েছে। মিনারের প্রতিটি আলাদা আলাদা অর্থ বহন করে। সেগুলো হলো : বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছাপ্পান্নর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। স্মৃতিসৌধের উচ্চতা ১৫০ ফুট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার :
ছবি : ভ্রমণ গাইড[/caption]
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার ভাসানী থিয়েটার নামেও পরিচিত। ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত এটি। এখানে ৫ দশমিক ৪ একর জায়গার ওপর কৃত্রিম নভোমন্ডল তৈরি করা হয়েছে। এই নভোমন্ডলের নকশা করেন আলী ইমাম। এটি প্রতিষ্ঠা কাজ শুরু করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে এবং এর উদ্বোধন করা হয় ২০০৩ সালে।
সম্পূর্ণ নভোথিয়েটার তৈরির জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ১২০ কোটি টাকা। নভো থিয়েটারের সামনে দুই পাশে সাতটি করে মোট ১৪টি ফ্রি হাইট রোমান কলাম আছে। মূল ডোম এর উচ্চতা ৪০ ফুট। নভোথিয়েটারের মাটির নিচে দুই তলায় পৃথিবীতে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের ছবি রয়েছে, সাথে তাদের সম্পর্কে বিশদ বিবরণ সেখানে দেয়া আছে।
ঢাকা নিউ মার্কেট :
ঢাকা নিউ মার্কেট। ছবি : সংগৃহীত
আজিমপুরের উত্তর দিকে অবস্থিত ঢাকা নিউ মার্কেট। যারা সুলভ মূল্যে নিজেদের যাবতীয় জিনিস কিনতে চান তারা যেতে পারেন ঢাকার নিউমার্কেটে। এখানে আপনার প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই পাবেন কিন্তু অত্যন্ত সুলভ মূল্যে। তবে সুলভ মূল্যে হলেও যে গুনাগুন খারাপ তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ঢাকায় এলে অবশ্যই নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে যায়। নিউ মার্কেট তৈরি করেছিলেন নুরুল আমিন। ১৯৫২ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৫৪ সালে। এখানের সম্পূর্ণ জায়গা প্রায় ৩৫ একর। নিউমার্কেটের নিকটে একটি মসজিদ রয়েছে যাকে বলা হয় বিমান মসজিদ।