ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক : গাইবান্ধা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গাইবান্ধার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক



ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক(Dreamland Educational Park)

ছবি : সংগৃহীত


বর্তমান নাগরিক জীবনে নির্মল বিনোদনের জায়গা দিন দিন কমে আসছে। যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা অবকাশ নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসলে মন্দ হয় না। পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে নির্মল আনন্দের জন্য যেকোন বিনোদন কেন্দ্র হতে পারে উপযুক্ত স্থান। আর তাই বর্তমানে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের বিনোদন কেন্দ্র। দেশের উত্তরের জেলা গাইবান্ধাতেও গড়ে তোলা হয়েছে তেমনই একটি বিনোদন কেন্দ্র। নাম তার ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক (Dreamland Educational Park)।

শিশুসহ সব বয়সীদের বিনোদনের জন্য চমৎকার একটি পার্ক এটি। বিনোদনের পাশাপাশি শিশুরা এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পারবে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে এই পার্কটি অবস্থিত। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা এই পার্কটি ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নির্মল বিনোদনের এই পার্কটি গাইবান্ধার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। আকর্ষণীয় এই পার্কটিতে দর্শনার্থীদের জন্য নানা রকম আয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক শোভায় ঘেরা এই পার্কটিকে নানান স্থাপনা দিয়ে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়েছে।


পার্কের সুদৃশ্য

এই পার্কের সুদৃশ্য প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে বেশ কিছু সরু রাস্তা। রাস্তার দুই ধার জুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রং ও গন্ধের অসংখ্য ফুল গাছ। যার মধ্যে রয়েছে অর্কিড আর ক্যাকটাসও। নানান ফুলের সুবাসে রাস্তাগুলো মৌ মৌ করে। বসার জন্য কিছুদূর পরপর দেয়া আছে বেঞ্চ আর শেড। পার্কটিতে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলে এই শেডগুলোতে বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। এখানে বসে বর্ষায় রিমঝিম বৃষ্টি উপভোগ করা যায়। এছাড়া এখান থেকে পুরো ড্রিম ল্যান্ডের সৌন্দর্য এক নজরে চোখে পড়ে। পার্কের মাঝখানে আছে চমৎকার একটি পুকুর। এই পুকুরটির আছে সুন্দর শান বাঁধানো ঘাট। এর চারপাশ ঘিরে আছে বাহারি গাছের সমাহার, নানা রঙের ফুল পুকুরটিকে করেছে মনোরম।

গাছগাছালির শোভার ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের ভাস্কর্য। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিদের চমৎকার ভাস্কর্য। এখানে মোট ২৫৫ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। আরও আছে হয়েছে ইতিহাসে ঘৃণিত ব্যক্তি ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, মোস্তাক আহমেদের ভাস্কর্যও। এই ভাস্কর্যগুলো দেখে শিশুরা ইতিহাসের অনেক কিছু শিখতে পারবে।


ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক(Dreamland Educational Park)

ছবি : সাব্বির হোসেন


১৭৫৭ সালের বাংলার খ্যাতিমান নবাব সিরাজউদ্দৌলার রণক্ষেত্র পলাশীর প্রান্তরের মানচিত্র দেখতে পাবেন এখানে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্য শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ আছে। আরও আছে বাংলাদেশের সুদৃশ্য একটি মানচিত্র। এখানে বাচ্চাদের জন্য আরও রয়েছে বিভিন্ন জীবজন্তুর ভাস্কর্য। শিশুরা এসব জীবজন্তুর পিঠে চড়ে খেলতে পারবে। এছাড়া তাদের জন্য একটি শেডে বিভিন্ন খেলনা রাখা হয়েছে খেলার জন্য। এছাড়া এই পার্কটিতে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান আছে। প্রতি বছর এই পার্কটিতে গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক মানুষ শিক্ষা সফর ও পিকনিকের জন্য আসেন। পিকনিক আয়োজনের সকল ব্যবস্থা আছে এখানে। এই পার্কটিতে জনপ্রতি টিকিটের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এসি, নন-এসি বাস ছাড়ে। এদের মধ্যে আছে শ্যামলী পরিবহন, আল-হামরা পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, অরিন ট্রাভেলস ইত্যাদি। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে চড়েও গাইবান্ধা যেতে পারেন। গাইবান্ধা শহর থেকে পলাশবাড়ীর দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। বাস, সিএনজি ,অটোরিকশা বা টেম্পোতে করে শহর থেকে পলাশবাড়ী যেতে পারেন।  


রুবাইদা আক্তার   এস এম