ট্রাভেলবিডি নিউজ উইকলি : চালু হচ্ছে বিমান চলাচল, খুলছে পর্যটন কেন্দ্র

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ১ জুলাই থেকে খুলতে যাচ্ছে কুয়াকাটার পর্যটন খাত ও এর সংশ্লিষ্ট সব সেবা


করোনাকালীন এই মহামারির সময়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। ট্র্যাভেল সেক্টরে এই প্রভাব আরও বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। ভ্রমণ, বিমান যোগাযোগ সব বন্ধ থাকলেও স্বল্প পরিসরে ধীরে ধীরে কিছুটা চালু হতে শুরু করেছে এইসব খাত। সপ্তাহজুড়ে এমন সব ট্র্যাভেল নিউজ চলুন জেনে নেয়া যাক :


১ জুলাই থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে উড়োজাহাজ সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স

Turkish Airlines টার্কিশ এয়ারলাইন্স ট্র্যাভেল নিউজ

আগামী পহেলা জুলাই থেকে ঢাকা-ইস্তানবুল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে টার্কিশ এয়ারলাইন্স; ছবি : হারিয়েট ডেইলি নিউজ


 করোনায় ফ্লাইট বন্ধ রাখার প্রায় সোয়া ৩ মাস পর আগামী ১ জুলাই থেকে ফের ঢাকা-ইস্তানবুল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স। শুক্রবার (১৯ জুন) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, জুলাই মাস থেকে ঢাকা থেকে তুর্কি এয়ারলাইন্সকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২০ জুন) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র থেকে জানা যায়, ১ জুলাই থেকে ফের ঢাকা-ইস্তানবুল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স। এই উড়োজাহাজ সংস্থাকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিতে বেবিচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সে ইস্তানবুলে ট্রানজিট হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে টার্কিশ এয়ারলাইন্স।


চালু হতে শুরু করেছে অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুট

qatar-airways

কাতার এয়ারওয়েজের দোহা-ঢাকা-দোহা রুটে বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে; ছবি : মিডোল ইস্ট আইস


 প্রাথমিকভাবে, সরকার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কাতার এয়ারওয়েজের দোহা-ঢাকা-দোহা রুটে সাপ্তাহিক তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়াও কাতার এয়ারওয়েজ ১৬ জুন থেকে শুধুমাত্র ট্রানজিট যাত্রী বহন করার শর্তে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরুকরে, আর বিমান ২১ জুন থেকে লন্ডন ফ্লাইট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন, পর্যাপ্ত যাত্রী পেলে বিমান ধীরে ধীরে লন্ডনের দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে। আমিরাত এয়ারলাইন্স প্রতি শনিবার, সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুবাই-ঢাকা-দুবাই রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এদিকে কাতার এয়ারলাইন্স প্রতি মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার দোহা-ঢাকা-দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।


বিমানের অভ্যন্তরীণ রুট

ইউ এস বাংলা US Bangla ট্র্যাভেল নিউজ

ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স; ছবি : সংগৃহীত


 করোনাকালীন অভ্যন্তরীণ চার রুটে প্রতিদিন ৩২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, সৈয়দপুর ও যশোর রুটে এই ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৫টি, যশোর ৫টি, সৈয়দপুর ৪টি ও সিলেট রুটে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রত্যেক রুটেই সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ওয়ানওয়ের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে সকাল ৭টা, ১১টা ৩০ মিনিট, দুপুর ৩টা ১৫ মিনিট, সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসছে সকাল ৮টা ২৫ মিনিট, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, রাত ৮টা ২৫ মিনিট ও ৯টা ৫৫ মিনিটে।


খুলছে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্প

kuakata কুয়াকাটা ট্র্যাভেল নিউজ

নান্দনিক কুয়াকাটা; ছবি : এম জি এম ভিকি


 দীর্ঘ ৩ মাসেরও বেশি সময় পরে পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ফিরতে যাচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। হোটেল ও মোটেলসহ ট্যুরিজম খাতের বিভিন্ন বিষয় আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড চালুর অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। ১ জুলাই থেকে খুলতে যাচ্ছে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট সব সেবা। বৃহস্পতিবার কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুয়াকাটার হোটেল মোটেলসহ ট্যুরিজমের সব সেবা খোলার অনুমতি দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। হোটেল-মোটেল খুলে দেয়ার বিষয়কে সামনে রেখে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-মোটেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। পর্যটক ব্যবস্থাপনা যেন করোনা প্রতিরোধক হয় এতে কর্মীদের তা রপ্ত করানো হয়েছে। বর্তমানে কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল এর সংখ্যা ১২০টি। উল্লেখ্য, গত মার্চের ১৭ তারিখ থেকে কুয়াকাটার পর্যটন কেন্দ্রে জনসাধারণের প্রবেশ ও বিচরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন।


পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল হচ্ছে বাগেরহাটে

ষাট গম্বুজ মসজিদ Sixty_Dome_Mosque,Bagerhat

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ষাট গম্বুজ মসজিদ; ছবি : উইকিপিডিয়া


 নয়নাভিরাম সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদসহ বেশকিছু পর্যটন স্পট রয়েছে খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার ঘেরা বাগেরহাটে।প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক পর্যটক আসেন এখানে কিন্তু ছিল না শহর বা শহরের আশপাশে পর্যটন কর্পোরেশনের কোনও হোটেল বা মোটেল। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বাগেরহাটের রনবিজয়পুর গ্রামের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার মোড়ে নির্মিত হচ্ছে সাত তলা বিশিষ্ট পর্যটন মোটেল। সংশ্লিষ্টদের দাবি পর্যটন কর্পোরেশনের এই মোটেল বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘদিন পরে হলেও পর্যটন কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে শহরের মাজার মোড়ে ৩৩ শতকের বেশি জমির উপরে এই মোটেল নির্মিত হচ্ছে। সাত তলাবিশিষ্ট এই ভবনে ৩০টি কক্ষ, ৫০ আসন বিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট, অফিস রুম, অভ্যর্থনা কক্ষ, বারবি কিউ রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। পুরো ভবনের আয়তন হবে ২ হাজার ৭৬০ বর্গ মিটার। এর সঙ্গে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বাগানও করা হবে। এসব কর্মযজ্ঞে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৬ হাজার টাকা।


প্রাণ পেয়েছে প্রকৃতি-প্রাণীর অভয়ারণ্য

safari park সাফারি পার্ক ট্র্যাভেল নিউজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর; ছবি : মোসতাক আহমেদ সজীব


করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে দুনিয়া। ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষের মতোই বদলে গেছে প্রকৃতি। আর এই বদলানোর চিত্র এখন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও। দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষের আনাগোনা বন্ধ। নেই কোনও কোলাহল। মানুষের চলাফেরা না থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বন্যপ্রাণীদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। প্রাকৃতিক রূপে সেজেছে এ পার্ক। আর অবাধে বিচরণ করছে পাখিসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। যেন বন্যপ্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। গত এক মাস আগেও প্রাকৃতিকভাবে এত পাখি এ পার্কে ছিল না। করোনা ভাইরাসের কারণে পার্কটিতে মানুষের চলাফেরা বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীরা এখানে নিরাপদ আবাসস্থল মনে করছে। বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির বিচরণে মনে হয় এ যেন পাখিদেরই কলোনি। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এখন যেকোনো বন্যপ্রাণীর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক খাবারের জোগানের জন্য এসব এলাকায় প্রায় শতাধিক প্রজাতির বিলুপ্ত ও বিপন্ন জাতের বিশ হাজার উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছিল। এতেই পরিবেশ ও প্রকৃতি যেন গর্জে ওঠে। এ বর্ষায় উদ্ভিদগুলো বেড়ে উঠতে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। ফল দেওয়া শুরু করেছে নানা প্রজাতির গাছগুলো। বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাকৃতিক জলাশয় ও নালাগুলোতে মাছ শিকারে প্রতিনিয়ত আসছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। গাছে গাছে ঝুলছে পাখিদের বাসা। নিরাপদ পরিবেশে ব্যাপক প্রজননে পার্কটি এখন পাখিদের অভয়ারণ্য। গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণা সূত্রে জানা যায়, 'করোনার কারণে কয়েক মাস প্রকৃতি বিশ্রামে থেকে নতুনভাবে জেগে উঠেছে। এর মাধ্যমে এই মহামারী আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে প্রকৃতিরও বিশ্রাম প্রয়োজন। প্রাকৃতিক নিয়মে যেখানে মানুষের আনাগোনা কমবে, সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ বা বন্যপ্রাণীর আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় সেখানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী বসবাসের উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে। তাই দলে দলে তারা এটিকে অভয়ারণ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। সঙ্গে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে প্রাণ।  

এস এম ইফতেখার মাছুম   এস এম