ডেস্টিনেশন শোতে কথা বলছেন বক্তারা ছবিঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
ট্রাভেলারকী ডেস্টিনেশন শো ট্রাভেলারকী টিভি আয়োজিত একটি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে আরও আয়োজক হিসেবে আছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং ট্রাভেল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত এই অনুষ্ঠানটি ১১ জুলাই (শনিবার) অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন ট্রাভেলারকী-এর সিইও ডাল্টন জহির।
এখন থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি শনিবার ট্রাভেলারকী ডেস্টিনেশন শো অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অথবা জাতীয় পর্যায়ে ভ্রমণকারী, ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসবেন এবং তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। উপস্থাপক এবং অতিথিরা দেশ-বিদেশের নানা জায়গা নিয়ে কথা বলবেন। এছাড়াও বিখ্যাত জায়গা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, হোটেল ও রিসোর্ট, যাতায়াত, বিমানযাত্রা, খাবার এবং জীবনযাত্রা নিয়েও আলোচনা হবে।
উদ্বোধনী আয়োজনের অতিথিরা ছবিঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
১১ জুলাই ট্রাভেলারকী ডেস্টিনেশন শো ওপেনিং প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন ট্রাভেল বাংলাদেশের সিইও আহসান রনি, বিডি ইনবাউন্ডের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইকরাম, ট্রিয়াব এর প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দীন আহমেদ, টোয়াব এর প্রেসিডেন্ট রাফিউজ্জামান, গবেষক, লেখক ও ভ্রমণ ব্যক্তিত্ব জামিউল আহমেদ, এফএইচপি ফ্যামিলির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাউথ কোরিয়ার অনোরারি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনোরারি কনসাল জেনারেল, ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ ছবিঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ বলেন, 'ট্যুরিজম বোর্ডে আসার পর আমি বলব না এখানে আমাকে কোনো চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতে হচ্ছে। এই জায়গায় কাজ করাটা আসলে খুবই আনন্দের। সরকারি বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেছি আমি। কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ড একদম আলাদা। খুব আনন্দের আর সৃজনশীলতার জায়গা এটি। বলতে পারেন, আমরা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করি। বিশ্বের দরবারে দেশের ইমেজ আরও সুন্দর করে তুলে ধরি। তবে, এই সেক্টরটার গুরুত্ব এখনও আমরা হয়তো সেভাবে বুঝতে পারছি না। যার কারণে তেমন কোনো মাস্টারপ্ল্যান এই সেক্টর নিয়ে আমাদের হাতে এসে এখনও পৌঁছায়নি।
বাংলাদেশের পর্যটনখাতকে আরও সুন্দরভাবে পরিচিত করে তুলতে হলে নতুন নতুন আরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ট্রাভেল বাংলাদেশের সিইও আহসান রনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করার জন্য "ট্রাভেল বাংলাদেশ" নামে ২০১৭ সাল থেকে একটা প্ল্যাটফর্ম শুরু করি। এটা কোনো এজেন্সি নয়, এটা একটা ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে ট্রাভেল সম্পর্কিত সকল তথ্য বাংলা, ইংরেজি এবং ভিডিও ভার্সনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের নিজেদের টিম দ্বারাই এসব কাজগুলো করা হয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাটা এবং ইউএনডব্লিউ থেকে বিশ্বে ট্রাভেল রিলেটেড সব ধরনের স্টার্ট আপের মধ্যে আমরা টপে চলে এসেছিলাম। এই বছর বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের সব ধরনের স্টার্ট আপের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল ট্রাভেল বাংলাদেশ। আমরা চাই ট্রাভেল কোম্পানিগুলোকে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গাকে আরও প্রমোট করতে। সামনে হয়তো ট্রাভেল সেক্টরের থ্রি ম্যাপিং নিয়ে আসব আমরা। চেষ্টা করছি নতুনভাবে নতুন নতুন আরও বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য।'
ডেস্টিনেশন শোতে কথা বলছেন বক্তারা ছবিঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
বিডি ইনবাউন্ডের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইকরাম বলেন, 'এই মুহূর্তে ডেস্টিনেশন শো-টা খুবই জরুরি। কোভিড পরবর্তী সময়ে ডেস্টিনেশন বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সকল পর্যটন এলাকা একসাথে খুলে দেয়া যাবে না। সুন্দরবন, সেন্টমার্টিনের মত কিছু জায়গায় যেখানে অনুমতি নিয়ে যেতে হয় সেখানে কিছু নিয়মের দরকার আছে, হোটেল রিসোর্টগুলোও কিছু কিছু করে খুলতে হবে সামাজিক দূরত্ব মেনে। এগুলো নিয়ে অবশ্যই রিসার্চের ব্যাপার আছে।'
টোয়াব এর প্রেসিডেন্ট রাফিউজ্জামান বলেন, 'আমাদের পর্যটন খাত অনেক উন্নত। অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা না করে নিজেদের কাজকেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
কোভিড পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের আরও বেশ কিছু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে।'
ট্রিয়াব এর প্রেসিডেন্ট খাবির উদ্দীন আহমেদ বলেন, 'কোভিডে সকল কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কোনো আয় ছিল না। তবু আমাদের কর্মীকে বেতন দিতে হয়েছে। কারণ এখানে তাদেরও জীবন জীবিকার বিষয় আছে। এভাবে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নয়। তাই ধীরে ধীরে করে কিছু জায়গা চালু করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে ডেস্টিনেশন শো-টা চালু করা খুবই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।'
গবেষক, লেখক ও ভ্রমণ ব্যক্তিত্ব জামিউল আহমেদ বলেন, 'ডেস্টিনেশন শো এর মত একটা অনুষ্ঠান আমাদের জন্য এ মুহূর্তে খুবই জরুরি।
যেহেতু লেখালেখি আমি পছন্দ করি তাই ভ্রমণ নিয়ে কোথায় কী হচ্ছে এই মুহূর্তে, কোন সংস্থা কী কাজ করছে এইসব বিষয় আমাকে নখদর্পণে রাখতে হচ্ছে। তবে শুধু লিখে গেলেই হবে না, এগুলো মেনে কাজ করার ব্যবস্থাও নিতে হবে। নিউ নরমালে হুট করে যাব এ কথা সহজেই বলা যায় না। কারণ একেক দেশে করোনার তাণ্ডব একেকভাবে হচ্ছে। তবে সব দেশেই জীবন জীবিকার জন্য যুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন দেশ পর্যটন নিয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈশ্বিকভাবে পর্যটন নিয়ে হয়ত আমরা কিছু সমস্যায় পড়তে পারি। তবে একে সময়ের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। এ কারণে আভ্যন্তরীণ ট্যুরিজমের উপর আমাদের জোর দিতে হবে।
ডেস্টিনেশন শোতে কথা বলছেন বক্তারা ছবিঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ এফএইচপি ফ্যামিলির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাউথ কোরিয়ার অনোরারি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, 'অনেক ট্রাভেল করতে হয় বলে অভিজ্ঞতাও যেমন আছে, খারাপ লাগার কিছু বিষয়ও আছে। খুব কাছাকাছি জায়গায় যেতে হলেও একটা প্যাকেজিং-এর প্রয়োজন, এমন মনে হয় আমার। কারণ নিরাপদে পৌঁছতে হবে এই বিষয়টাও কিন্তু ট্র্যাভেলের একটি অংশ।'
বিশেষ অতিথি অনোরারি কনসাল, জেনারেল পিপলের ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া বলেন, 'জার্মানিতে বিভিন্ন দেশের অনেকেই এই মুহূর্তে অবস্থান করছেন। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্যুরিজম খুলে দেয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে টেলিভিশন, পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে সবাইকে জানানো হচ্ছে, পরিবার নিয়ে জার্মানিতে কোথায় এই মুহূর্তে আপনি যেতে পারবেন। বাংলাদেশে যদি এই মুহূর্তে ট্যুরিজম নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়া হয় তবে অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ট্যুরিজমের ওপর একটা চাপ আসবে। তাই আমার মনে হয়, সরকারকে যেভাবেই হোক এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।'