চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : পাহাড়ের কোলে অপূর্ব সুন্দর এক বিদ্যাপীঠ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ক্যাম্পাস ট্যুরিজমে অনন্য দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ শিক্ষাঙ্গন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় Chittagong University (3)

এমন সবুজে মোড়া ক্যাম্পাস ট্যুরিজমে অনন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন


 শহরের যান্ত্রিকতা ও দূষণ থেকে দূরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ চারণভূমি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়টি পুরোপুরি যেন সবুজের আচ্ছাদনে আবৃত হয়ে আছে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই শিক্ষাঙ্গনটি একই সাথে প্রকৃতি ও পাঠদানের এক অনন্য সেতু তৈরি করেছে। কি নেই ক্যাম্পাসটিতে? একদিকে যেমন চলছে পড়াশোনা অন্যদিকে জীব- জন্তু, পাহাড়, ঝর্ণা সবকিছুই রয়েছে চবি ক্যাম্পাসে। বিশাল পাহাড়ের মাঝখানে চবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের রাস্তায় হাটতে হাটতে হঠাৎই আপনার চোখে পড়ে যাবে হরিণ, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ। পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত চবি ক্যাম্পাসে আছে ঝুলন্ত সেতু, ট্র্যাকিং স্পট চালন্দা গিরিপথ, ঝর্ণা, জাদুঘর, উদ্ভিদ উদ্যান, ফলের বাগান কি নেই ক্যাম্পাসটিতে! আয়তনে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই ক্যাম্পাসে এত কিছু দর্শনীয় আছে যে তা ঘুরে দেখে শেষ করাও চাট্টিখানি কথা নয়। প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে আবির্ভূত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন : হৃদয় জুড়াবে বাকৃবির চিরসবুজ ক্যাম্পাস

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর হাটহাজারিতে পাহাড়ি ও সমতল ভূমির ওপর ১৭৫৩ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে বাংলার ষড়ঋতুতে প্রতিটি ঋতুর বদল টের পাওয়া চবি ক্যাম্পাসে। গ্রীষ্মে হঠাৎ জীর্ণ আকাশ কালো করে পাহাড়ের বুকে নেমে আসে কালবৈশাখী, বর্ষায় বৃষ্টির ধারায় গাছ-পালার জবুথুবু অবস্থা, শরতে সর্বত্র কাশফুলের শুভ্রতা কিংবা বসন্তে গাছে ফুল আর পাখির সুমধুর সুরে প্রতিটি ঋতু নিজস্ব চেহারায় ধরা দেয় চবি ক্যাম্পাসে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। তারই কয়েকটির কথা আজ বলা হবে।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় Chittagong University (3)

হাজারো আনন্দ উচ্ছ্বল মুহূর্তের সাক্ষী শাটল ট্রেন, নান্দনিক প্রাকৃতিক পরিবেশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করেছে; ছবি : সংগৃহীত



শাটল ট্রেন

চবি ক্যাম্পাসের অন্যতম বিশেষত্ব হলও এর শাটল ট্রেন। চবি'র প্রাণ বলা হয় শাটল ট্রেনকে। গান, আড্ডা, ছন্দ, বাদ্যযন্ত্র সবই হয় শাটলকে ঘিরেই। চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে চাইলেই হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যায় প্রকৃতিকে। বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র চবি ক্যাম্পাসেই পাওয়া যায় শাটল ট্রেন। আর তাইতো শিক্ষার্থী থেকে পর্যটক সবাই শাটল ট্রেনের প্রেমে পড়ে যায়।

চবি ঝর্ণা

পাহাড়ি ঝর্ণার দেখা মেলে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে। জলের খেলা ও ঝর্ণার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে অনেকেই এখানে ভিড় করে থাকে।

চবি ঝুলন্ত সেতু

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর স্বাদ পাওয়া যায় চবিতেও। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কাছে চবির ঝুলন্ত সেতুর দেখা পেতে অনেকেই আসেন।

আরও পড়ুন : মুক্তবাংলা : ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্বারক

চালন্দা গিরিপথ

পাহাড়ের ভিড়ে বহুদিন আড়ালে ছিল চালন্দা গিরিপথ। কলা অনুষদের ঝুপড়ি থেকে ১ ঘণ্টার দূরত্বের চালন্দা গিরিপথ বর্তমানে অন্যতম দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের মধ্যদিয়ে গিরিপথ ধরে হাঁটলে পাহাড়ি বিভিন্ন ফসলের দেখা মিলবে।

ঝুপড়ির আড্ডা

বিভিন্ন অনুষদ ও হলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কিছু দোকান। এগুলোকে ডাকা হয় ঝুপড়ি বলে। ঝুপড়ির তলেই জমে ওঠে চবির আড্ডা, গল্প, গান। হরেকরকম ভর্তা ও মজাদার খাবারের দোকান এসব ঝুপড়িগুলো সারাদিনই মুখরিত থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায়।

স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ

স্বাধীনতা যুদ্ধে চবির নিহতদের স্মরণার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথেই এই ভাস্কর্যটির অবস্থান। ভূমি থেকে স্তম্ভের মূল বেদী পর্যন্ত চারটি ধাপ, যা বাংলাদেশের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। স্মৃতিস্তম্ভটির স্থপতি অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবির।  

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম