বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম দেশ লিচেনস্টাইন এর অন্যতম সুন্দর বেলজার্স গ্রাম। ছবি : এগোডা ডট নেট
ক্যাম্পিং করতে গিয়ে একটা কথা হয়তো কমবেশি সবাই শুনেছেন বৃহৎ মানেই সুন্দর; কিন্তু ক্ষুদ্র বিষয়াদিও আরও বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে।
এই লেখায় আপনাদের সেসব দেশের গল্প বলা হবে যেগুলো আকারে ছোট দেশ কিন্তু সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই হোক বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছোট এই দেশগুলো আপনাকে মুগ্ধ করতে কার্পণ্য করবে না।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকের নিজস্ব অনেক কারণ থাকে কোন একটি বিশেষ দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে, যেমন- খাবার, স্থাপত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ইত্যাদি। অনেক সময় পর্যটকের এই কারণের লিস্টে থাকে আয়তন। আজ সেই ছোট আয়তনের সুন্দর দেশগুলোর কথা বলা হবে।
লিচেনস্টাইন এর ভাদুজ ক্যাসেল। ছবি : কাপলস কোঅর্ডিনেট ডট কম
বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম দেশ লিচেনস্টাইন একমাত্র দেশ যেটি আল্পস পর্বত মালার ভেতর রাইন নদীর উপত্যকায় অবস্থিত। ১৬০ বর্গকিলোমিটারের ত্রিভুজাকৃতির এই দেশটি সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝে অবস্থিত। শুধুমাত্র ক্ষুদ্র দেশই নয়, জিডিপি অনুযায়ী এটি বিশ্বের ধনী দেশগুলোর তালিকাতেও রয়েছে।
দেশটিতে গরমের সময়ে হাইকিং বা শীতের সময়ে স্কি করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশটিকে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। তাছাড়া দেশটির ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপত্যও আপনাকে মুগ্ধ করবে।
মেসিডোনিয়া :
মেসিডোনিয়ার অন্যতম পর্যটন স্থান ও ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের ওহ্রিদ লেক। ছবি : শাটারস্টক
ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর দেশগুলোর মাঝে অন্যতম মেসিডোনিয়ার আয়ের মূল উৎসই আসে পর্যটনখাত থেকে। ইউরোপের ঋতুর দেশ বলা হয় মেসিডোনিয়াকে। নির্মল বায়ু, দুষণমুক্ত শহর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এসব মিলেই দেশটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যের লীলাভূমি।
ইসলামিক ঐতিহ্য ও খ্রিস্টান সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে মেসিডোনিয়াতে। মেসিডোনিয়ার অন্যতম পর্যটন স্থান হলও ওহ্রিদ লেক। ইতিহাস ও স্থাপত্যের জন্য ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সান ম্যারিনোর গুয়াইতো টাওয়ার। ছবি : দ্যা টেলিগ্রাফ
প্রায় ৬১ বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে পৃথিবীর ৫ম ক্ষুদ্রতম দেশ হচ্ছে সান ম্যারিনো। পৃথিবীতে খুব কমই দেশ রয়েছে যার অবস্থান অন্য একটি দেশের ভেতর।
সান ম্যারিনো তাদের মাঝে একটি। পাহাড়ে বেষ্টিত এই দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ২ মিলিয়ন পর্যটক পাড়ি জমায়। এর রাজধানী তিনটি টাওয়ারে পরিবেষ্টিত।
টাওয়ার তিনটি হলও গুয়াইতা, চেস্তা ও তরে ডেল মনতেল যা তৈরি হয়েছিলো এগারোশো শতাব্দীতে। বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো দেশ সান ম্যারিনো। দেশটির জিডিপির প্রায় ৫০ ভাগ আসে পর্যটন খাত থেকে।
মোনাকো :
যাদের রাতের ব্যস্ত জীবন ভালো লাগে তারা অবশ্যই মোনাকো যাবেন। ছবি : মাই বাকেট লিস্ট ইভেন্ট
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের থেকেও ছোট মাত্র দুই বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ মোনাকো। তিনপাশে ফ্রান্স ও একপাশে ইতালি দ্বারা বেষ্টিত পুরো মোনাকো দেশ ভ্রমণ করতে আপনার লাগবে মোটে ৫৬ মিনিট।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো আছেই, এর সাথে আছে ক্যাসিনো। সমুদ্র সৈকত ও ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত মোনাকো। যাদের রাতের ব্যস্ত জীবন ভালো লাগে তারা অবশ্যই মোনাকো যাবেন। মোনাকো যেন রাতেই জেগে ওঠে।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ ও ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের ভ্যাটিকান সিটি। ছবি : এমাজন এডব্লিউএস
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটি। ১১০ একরের এই দেশটিতে স্থানীয় জনগণের চাইতে পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। ভ্রমণপিপাসুদের তীর্থস্থান বলা হয় ভ্যাটিকান সিটিকে। বিশ্বের মধ্যে পবিত্রতম জায়গা হিসেবে ১৯৮৪ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
এর সাথে সাথে ছোট দেশ হিসেবে পর্যটন নগরী হিসেবেও এর সুখ্যাতি আছে। ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভ্যাটিকান পরিপূর্ণ। দেশটির আয়ের মূল অংশ আসে পর্যটন খাত থেকে।