অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শহরগুলোর যদি তালিকা করা হয়, তবে খুব সম্ভবত সিডনি শহরের নাম সবার প্রথমে থাকবে। শহরটির জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ দেয় প্রতিনিয়ত। সিডনি শহর পুরনো হলেও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অস্ট্রেলয়াকে বেশ নতুনই বলা চলে। এজন্য এই দেশটিতে ক্যাসেলের সংখ্যা খুব বেশী নয়।
তবে, এরপরেও সিডনি এবং এর চারপাশের বেশ কিছু প্রাসাদ রয়েছে যেখানে ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণ করে থাকেন। এই ক্যাসেলগুলোতে মিউজিয়ামের পাশাপাশি অন্য অনেক কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ভ্রমণের জন্য এখনও বেশ আকর্ষণীয়। চলুন জেনে নেয়া যাক এখানের বেশ কিছু ক্যাসেলগুলো এবং তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে।
ক্যামেলট ক্যাসেল :
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন প্রাসাদ গুলোর একটি ক্যামেলট ক্যাসেল। ছবি: ডেইলি টেলিগ্রাফ
অস্ট্রেলিয়ার কিরখামে অবস্থিত এই ক্যাসেলটি ঐতিহাসিক এক স্থাপনা। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৮ সালে নির্মিত এই ক্যাসেলটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পুরনো ক্যাসেলগুলোর একটি। ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের নিদর্শন এই ক্যাসেলের চারপাশ বাগান দিয়ে বেষ্টিত। বিভিন্ন উৎসব, পার্টি কিংবা ছবি তোলার জন্য এই ক্যাসেলটি বিখ্যাত।
এডিনবার্গ ক্যাসেল মূলত হোটেল এবং পাব। ছবি: ফ্লিকার
সিডনিতে অবস্থিত এটি ঠিক ক্যাসেল না। এটি একটি 'হোটেল এবং পাব'-যা প্রায় ১৮৮৫ সাল থেকে চালু রয়েছে। সিডনির সবচেয়ে বিখ্যাত এই ক্যাসেলটি যুগ যুগ ধরে শিল্পী এবং লেখকদের আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রতিনিয়ত এই ক্যাসেলটি যেন সিডনি শহরের ইতিহাস লিখে যাচ্ছে। উপরের তলায় খাবার-দাবারের জন্য রয়েছে মনোরম পরিবেশ। মুখরোচক খাবারের সাথে সাথে আড্ডা দেয়া যে কোন ভ্রমণপিপাসুদের মনে যেন ভালো লাগা হিসেবে কাজ করবে।
ডেনিসন ফোর্ট :
সিডনির হারবার আইল্যান্ডে অবস্থিত ডেনিসন দুর্গটি মূলত প্রাক্তন সেনা ঘাটি এবং এক ধরনের মার্টেলো বা ওয়াচ টাওয়ার। ছবি: টাইম আউট
সিডনির হারবার আইল্যান্ডে এই দুর্গটি অবস্থিত। ডেনিসন দুর্গটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এটি মূলত প্রাক্তন সেনা ঘাটি এবং এক ধরনের মার্টেলো বা ওয়াচ টাওয়ার।
এই টাওয়ারটিই পৃথিবীর একমাত্র সম্পূর্ণ ওয়াচ টাওয়ার। সিডনির সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশনের একটি এটি এবং নববর্ষের প্রাক্কালে এখানে সবচেয়ে জনসমাগম হয়ে থাকে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে চারপাশের সৌন্দর্য অনেক অসাধারণ।
নিউ সাউথ ওয়েলসে অবস্থিত এই ক্যাসেলটি অত্যন্ত সুন্দর। বেশিরভাগ মনে করেন যে, এই ক্যাসেলটির নামকরণ হয়েছে জমিদার হেনরি হেস্টিং উইলিংস থেকে। যদিও এই ক্যাসেলটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন তবুও ১৯৯২ সালে এটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ক্রিয়াল ক্যাসেল :
মধ্যযুগের ক্যাসেল গুলির রেপ্লিকা হিসেবে নির্মিত ক্রিয়াল ক্যাসেল। ছবি: ট্রাই বুকিং
মধ্যযুগের ক্যাসেলগুলোর রেপ্লিকা হিসেবে এই ক্যাসেলটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭২ সালে। স্থানীয় কেইথ রিয়াল এটি নির্মাণ করেন। তীক্ষ্ণ কল্পনাশক্তির জন্য তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভাবে তিনি ক্যাসেলটি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে এটি একি সাথে থিম পার্ক, হোটেল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সানশাইন ক্যাসেল :
সানশাইন ক্যাসেলটি বর্তমানে এটি জাদুঘর এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছবি: সানসাইন ক্যাসল
এই ক্যাসেলটিও ট্যুরিস্টদের মাঝে অনেক জনপ্রিয়। বর্তমানে এটি জাদুঘর এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কল্পকাহিনীর আদলে এই ক্যাসেল নির্মাণ করেন স্কটিশ এক কাপল। ১৯৭২ সালে নির্মিত এই ক্যাসেলটি শুরু থেকেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ক্যাসেলগুলো পুরনো না হলেও ভ্রমনপিপাসুদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে অবশ্যই এই ক্যাসেল গুলোতে ভ্রমণ করবেন।