ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের বহু দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম 'পাগলা মসজিদ 'নামে খ্যাত মসজিদটি



পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ



বাংলা দাপিয়ে বেরানো বার ভুঁইয়ার নাম শুনে নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বার ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর কথা আসলে সাথে সাথেই যে নামটি প্রথমে মনে আসে তা মুসলিম ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এক জনপদের নাম কিশোরগঞ্জ। প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্য সমৃদ্ধ এই কিশোরগঞ্জের বহু দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম 'পাগলা মসজিদ 'নামে খ্যাত মসজিদটি। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া নামক এলাকায় অবস্থিত। শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত তিন তলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি। শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছেই নয় বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে সব ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নরসুন্দা নদী।

পাগলা মসজিদের ইতিহাস

জনশ্রুতি আছে,বহু বছর পূর্বে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিতু এবং তাকে ঘিরে সমবেত হয় অনেক ভক্তকুল। ওই পাগলবেশি আধ্যাত্মিক পুরুষের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশেই গড়ে তোলা হয় একটি মসজিদ। যা পরবর্তীতে 'পাগলা মসজিদ 'নামে পরিচিত লাভ করে।

পাগলা মসজিদের নির্মাণশৈলী

নরসুন্দা নদীর তীরে নির্মিত এই মসজিদটি আধুনিক স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলীর অন্যতম এক নিদর্শন। তিনতলা এই মসজিদটির সুউচ্চ মিনারটি বহুদূর থেকে চোখে পরবে।পূর্বে মসজিদটি হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ির ওয়াকফকৃত ভূমির পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশ জুড়ে ছিল। যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৩ একর ৮৮ শতাংশ। ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি হাফেজিয়া মাদরাসা।সকল ধর্মের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয় এই মসজিদটি প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত আসে। মসজিদে পবিত্র পরিবেশে নামাজ আদায় করে।



পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ




মানুষের বিশ্বাস কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে এ মসজিদে কিছু দান-খয়রাত করলে তার মনের ইচ্ছা পূর্ণ হয়। সেই বিশ্বাসের দরুন এই মসজিদে ভক্তগন প্রচুর দান খয়রত করে থাকেন। ফলে মসজিদটি দেশের অন্যতম আয়কারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মসজিদটিকে বর্তমানে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদের আয় থেকে কিছু অংশ দেওয়া হয় মসজিদ ও এতিমখানায়। কিছু অংশ দেওয়া হয়বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সেবামূলক খাতে। দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক এই মসজিদটিতে যেতে আপনাকে বাস বা ট্রেন যোগে যেতে হবে কিশোরগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রিক্সা যোগে যাওয়া যাবে পাগলা মসজিদে।


ছবি - ইন্টারনেট কন্ট্রিবিউটর - মীর মাইনুল ইসলাম