কক্সবাজার বিমানবন্দর : তথ্য ও উপাত্ত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কক্সবাজার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়



কক্সবাজার বিমানবন্দর

১৯৫৬ সালে কক্সবাজারে বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়; ছবি : রেজওয়ান


কক্সবাজার বিমানবন্দর কক্সবাজার শহরের মাঝে অবস্থিত একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। ১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিমানবন্দরটি দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হয়। কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে থাকার কারণে এই বিমানবন্দরের অধিকাংশ যাত্রীই পর্যটক। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ এই বিমানবন্দরটি পরিচালনা করছে।

অবস্থান

কক্সবাজার শহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত। আর ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। এই বিমানবন্দরটি মোট ৯৪১ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত।

ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধ বিমান উঠা-নামার জন্য প্রথম কক্সবাজার বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিল। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার পর এই বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি বহু বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিমানবন্দরটির সংস্কার সাধন করে। এই সংস্কারের পর এখানে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল শুরু হয়। এ সময় কিছু দিনের জন্য এখানে পিআইএর বিমান চলাচল শুরু হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই এই ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এই ফ্লাইট আবার চালু হয়ে আবারো বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : তথ্য ও উপাত্ত

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিমানবন্দরটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পরে এর সংস্কার করে ১৯৭২ সালে ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের মাধ্যমে এখানে বিমান চলাচল শুরু হয়। সেসময় এই ফ্লাইট চলাচল করত সপ্তাহে একদিন। এছাড়া সেসময় অফ-সিজনে এখানকার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকতো। ২০০৯ সালে মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্তে এক সৈন্য সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সেসময় যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য বিমানবন্দরটির কিছুটা আধুনিকায়ন করা হয়। ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত এই বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের প্রথমে সপ্তাহে দুটি এবং তারপর সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চলাচল করত।

কার্যক্রম এই বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী বিমান ও কার্গো বিমান চলাচল করে। এই বিমানবন্দরের বেশিরভাগ যাত্রীই পর্যটক ও স্থানীয়। আর কার্গো বিমানগুলোতে মূলত চিংড়ি পোনা পরিবহন করা হয়। এই বিমানবন্দরটিতে বর্তমানে চারটি বেসরকারি বিমানসংস্থা তাদের ফ্লাইট নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে। এই বিমানবন্দর থেকে তাদের ৯-১০টি বিমান দৈনিক আসা-যাওয়া করছে। এর মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ বিমানও রয়েছে। এ ছাড়াও এখান থেকে ৫-৬টি কার্গো বিমানও আসা-যাওয়া করে। এই কার্গো বিমানগুলো এখানেই অবস্থান করে এবং এদের রক্ষণাবেক্ষণও এখানে করা হয়।


কক্সবাজার বিমানবন্দর

কক্সবাজার বিমানবন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় এয়ার ফিল্ড। ছবি : ফ্লিকার


 

চলাচলকারী বিমানসমূহ

এই বিমানবন্দরে চলাচলকারী বিমানগুলো হল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড। এছাড়া কার্গো এয়ারলাইন্সের মধ্যে আছে স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স,ট্রু এ্যাভিয়েশন,হ্যালো এয়ার এবং ইজি এয়ার লিমিটেড।

যা যা আছে এই বিমানবন্দরে

এই বিমানবন্দরটিতে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ২০০ ফুট চওড়া রানওয়ে রয়েছে। এই রানওয়ে দিয়েই বোয়িং ৭৩৭-এর মতো বিশাল বিমানসহ আরও অন্যান্য বিমান ওঠানামা করছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর এই বিমানবন্দরটি হলও দ্বিতীয় এয়ার ফিল্ড। এখানে এয়ারলাইন্স বেজ স্টেশন রয়েছে। এই বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা রয়েছে। এখানে উন্নত গাড়ি পার্কিং সুবিধা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, ভিআইপি লাউঞ্জ, লাগেজ ট্রলি, কার্গো সার্ভিস, হুইল চেয়ার, প্রাথমিক চিকিৎসা, নামাজের ঘর, বিশুদ্ধ পানি, ওয়াইফাই, টিকেট সেলস কাউন্টারসহ আরও নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

আরও পড়ুন : সুগন্ধা বিচ: কক্সবাজারের দর্শনীয় বিচ পয়েন্টগুলোর একটি

নিকটবর্তী হোটেলসমূহ

এই বিমানবন্দরের আশেপাশেই অনেকগুলো ভালো মানের হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : পাম রিভেয়েরা, হোটেল শামস প্লাজা, হোটেল এশিয়া, হোটেল কক্স ইন, হোটেল কোয়ালিটি হোম,লাইটহাউজ ফ্যামিলি রিট্রেট, সিভিউ এপার্টমেন্ট, হোটেল দেলোয়ার প্যারাডাইজ, সি ওয়েলকাম রিসোর্ট, হিল টাওয়ার হোটেল এন্ড রিসোর্ট ইত্যাদি।

যোগাযোগ

এয়ারপোর্ট ম্যানেজার, কক্সবাজার, বাংলাদেশ মোবাইল: 01708167294

টেলিফোন: +880341-52353

ফ্যাক্স: +880341-64479

ইমেইল: apmcox@caab.gov.bd  

রুবাইদা আক্তার   এস এম