পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে আয়েশ করে ট্যুর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : জেনে নিন রিল্যাক্সে কক্সবাজার ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ পর্যটন স্পট হলো কক্সবাজার। অবিচ্ছিন্ন সু-বিশাল সমুদ্র সৈকত সেই সাথে অদূরেই পাহাড়, ঝরনা, কয়েকটি দ্বীপ ও বর্তমানে যুক্ত হওয়া দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ রোডের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে কক্সবাজার সর্বদাই চাহিদার শীর্ষে। সারাবছরই পর্যটক থাকে কক্সবাজারে তবে ছুটির দিন, ঈদ বা পূজার সময় ও শীতকালে পর্যটকদের ভিড় অত্যধিক হয়ে যায়।

কক্সবাজারে যাওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস ও বিমানযোগে কক্সবাজার যাওয়া যায়। বাসের টিকিট ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত। সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা। প্রায় সব বড় বড় বাস কোম্পানির সার্ভিস আছে কক্সবাজারে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে নিয়মিত বিমান চলাচল করে। সময় লাগে ৪০ মিনিটের মত। এছাড়াও ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কয়েকটি ট্রেন আছে। ট্রেন থেকে নেমে বাস বা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায় কক্সবাজারে। সমুদ্রের টানে কক্সবাজারে। ছবি : দ্যা ফাইনানসিয়াল একসপ্রেস 

সিজনে যদি কক্সবাজার যান তাহলে আগে থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো। কক্সবাজারে দেশসেরা ফাইভ স্টার ও ফোর স্টার হোটেল আছে। এছাড়াও ভালো মানের থ্রি স্টার অনেক হোটেল আছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী অনলাইনে রিভিউ দেখে হোটেল বুকিং দিতে পারেন।

বিচের কাছাকাছি হোটেলগুলোর ভাড়া কিছুটা বেশি তবে সেক্ষেত্রে একদম বিচের সাথে সমুদ্রের পাড়ে থাকা যায়। থ্রি স্টার হোটেলের ভাড়া শুরু হয় ২,০০০ টাকা থেকে। মানভেদে প্রায় ১৫,০০০ টাকারও রুম আছে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী খুঁজে নিতে পারবেন অনেক হোটেল থেকে।

হোটেল গুলোতেই খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সেইসাথে কক্সবাজারের বিখ্যাত রেস্টুরেন্টগুলোতেও খাবার টেস্ট করতে পারেন। শালিক, পউশী, মারমেইড রেস্টুরেন্টসহ আরো বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছেন যাদের খাবার খুবই বিখ্যাত। অবশ্যই সামুদ্রিক মাছ খেয়ে দেখবেন। মাছের মধ্যে কোরাল, লইট্টা, রূপচাঁদার চাহিদা বেশি থাকে। তবে সাগরের পাংগাস মাছ পেলে খেয়ে দেখতে পারেন। এছাড়া বড় বড় রেস্টুরেন্টের ব্রাঞ্চ আছে এখানে। হোটেল থেকে সমুদ্র দেখার সুযোগ রয়েছে । ছবি : ট্রিপএডভাইজর

ঘোরাঘুরির জন্য হোটেলে যোগাযোগ করলেই গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যাবে বা নিজেও ঠিক করতে পারেন। সুগন্ধা পয়েন্টে প্রচুর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। গাড়ি নিয়ে একদিনেই হিমছড়ি, ইনানী, গোয়ালিয়া, মেরিন ড্রাইভ রোড ঘুরে আসতে পারেন। ছবি : লোকাল গাইডস কানেক্ট 

বিচের পাশেই ভালোমানের কিছু রেস্টুরেন্ট আছে সেগুলোতে সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন আইটেম খেয়ে দেখতে পারেন। লইট্যা ফ্রাই, রূপচাঁদা ফ্রাই, কাঁকড়া, স্কুইড, অক্টোপাসসহ চেনা-অচেনা অনেক ধরণের মাছ পাওয়া যায় এসব রেস্টুরেন্টে। একটু খোজ-খবর করে ট্রাই করতে পারেন এসব আইটেম। আপনার সামনেই বার বি কিউ বা ফ্রাই করে দিবে। সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবারে জীভে জল আনতে বাধ্য। ছবি : এগলো বিডি

সুগন্ধা বিচের রাস্তাতেই পাবেন প্রচুর বার্মিজ মার্কেট। এখান থেকে পছন্দমত জিনিস কিনতে পারেন। বার্মিজ মার্কেট বিখ্যাত নানান রকম আচার, চকলেট, জুতা, ছাতা, পোশাক এসবের জন্য। বার্মিজ মার্কেটের বিপরীতে বিশাল শুটকি মার্কেট। এখানে একটু খুঁজলে ভালো মানের শুটকি পাবেন। কক্সবাজার বিচে আপনি নানারকম কার্যক্রম করতে পারবেন। প্যারাসেইলিং, সি বাইকিং, বিচ বাইকিং, ঘোড়ায় চড়া, সাইকেল রাইডিং ইত্যাদি নানান ব্যবস্থা আছে এখানে। ছবি : ইউটিউব

কক্সবাজার ঘুরার আদর্শ সময় শীতকাল ও বর্ষাকাল। শীতকালের স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে অপরদিকে বর্ষাকালে দেখতে পাবেন সমুদ্রের ভরা যৌবন। উত্তাল সাগর ও বৃষ্টি অন্যরকম এক অনুভূতি দেয়। যেকোন বিপদ-আপদে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন : নিকলী-মিঠামাইনসহ গুনীজন সমৃদ্ধ এক জেলা কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।