এডিনবার্গ ক্যাসেল, স্কটল্যান্ড। ছবি : প্লানেটওয়ার ডট কম
মায়াময় সৌন্দর্যের সুন্দর এক প্রতিচ্ছবি স্কটল্যান্ড। দেশটি বেশ ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং অ্যাটলান্টিক মহাসাগর, আইরিশ এবং উত্তর সাগর বেষ্টিত। শহর, বন্দর, গ্রাম কিংবা মেঘে ঢাকা পাহাড়, লেক অথবা বিশাল পাহাড়ি উপত্যকা সবকিছুতেই যেন আপনি মুগ্ধ হতে থাকবেন।
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গ, তবে স্থানীয়দের কাছে এর নাম এডিনবরা। তবে রাজধানী হলেও চিরাচরিত অন্য দেশের রাজধানী শহর হতে এটি অনেক ভিন্ন।
কোলাহলবিহীন, শান্ত শিষ্ট এক নগরী। তাই বলে শহরটির বয়স কিন্তু কম না। প্রায় ১,৩০০ বছরের পুরনো এই শহর স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মাঝে একটি। ইউরোপের দ্বিতীয় জনপ্রিয় পর্যটন শহরও এটিই।
এডিনবার্গ ক্যাসেল (Edinburgh Castle) সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে এতটাই বিস্তৃত একে যেন পরিপূর্ণ এক ইতিহাসের বই বলা যায়। দুর্গটি এডিনবার্গ শহরের ঠিক কেন্দ্রে শহরটি অবস্থিত। যে কারণে শহরের যে অংশেই আপনি থাকেন না কেন, এটি চোখে পড়বেই।
ইতিহাস
রোমান সাম্রাজ্যের আক্রমণ হতে রক্ষার জন্য দুর্গটি নির্মিত হয় 'দ্বাদশ শতাব্দীতে'। প্রচণ্ড শক্তিশালী যোদ্ধা দ্বারা দুর্গটি সুরক্ষিত ছিল। ৬ বছর আগের এক গবেষণায় এখানে ২৬টি সুরক্ষাবহ পাওয়া যায়।
এগুলো প্রায় ১,১০০ বছরের পুরনো। যা থেকে অনুমান করা হয় যে দুর্গটি গ্রেট ব্রিটেনের অন্যতম নিরাপদ জায়গা এবং আক্রমণের জন্য বিশ্বের যে কোনো জায়গার চেয়ে বেশ সুবিধাজনক।
এডিনবার্গ ক্যাসেল, স্কটল্যান্ড। ছবি : এদিনবার্গ ক্যাসেল ডট স্কট
এডিনবার্গ দুর্গ
দুর্গটি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ৪৩০ ফুট উঁচু। ৩৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে সৃষ্টি হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গড়ে ওঠা পলি শিলা স্তরের উপর দুর্গটি দাঁড়িয়ে আছে।
দুর্গটি যদিও অনেক পুরনো কিন্তু এর প্রথম দিকের ইতিহাস সম্পর্কে খুব একটা ধারনা পাওয়া যায় না। একাধারে এটি রাজপ্রাসাদ এবং পরবর্তীতে এটি সেনা-ঘাটি এবং বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্কটিশ এবং ব্রিটিশ দের মাঝেও দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনেক বছর যুদ্ধ হয়েছে।
ষোড়শ শতাব্দীর যুদ্ধে দুর্গটির বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো একমাত্র সেন্ট মার্গারেট চ্যাপেল ছাড়া। এ জন্য বলা হয়ে থাকে এটিই সবচেয়ে পুরনো এবং প্রাচীন যা দ্বাদশ শতাব্দী থেকে টিকে আছে। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে গ্রেট হলের নিচে ক্যাসল ভল্ট গুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
দুর্গটি নিয়ে মজার একটি বিষয় আছে। স্কটল্যান্ডের রাজার রাজমুকুট এই দুর্গেই হারিয়ে যায়। প্রায় ৯০ বছর দুর্গটি থেকেই পুনরায় রাজমুকুটটি উদ্ধার করা হয়।
এডিনবার্গ ক্যাসেল, স্কটল্যান্ড। ছবি : ট্রাভেল ট্রায়েঙ্গেল ডট কম
এডিনবার্গ ক্যাসেলে আপনি ইউরোপের প্রাচীন রত্নগুলোর এক সংগ্রহশালা দেখতে পাবেন। এছাড়াও গোপন কক্ষ, রান্না সামগ্রীসহ তৎকালীন অস্ত্রসামগ্রীর এক সংগ্রহশালাও সেখানে রয়েছে।
এখানে আপনি ২ মাইল লম্বা মোনস মেগ নামক অস্ত্রের দেখা পাবেন। বিচিত্র ব্যাপার হচ্ছে ১৮৬১ সাল থেকে ওয়ান ও’ক্লক নামক বন্দুকটি থেকে প্রতিদিন গুলি বর্ষণ করা হয়!
উনিশ শতকের শুরুতেই স্কটল্যান্ড একে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত দেয়। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দুর্গটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণ পিপাসুরা একে দেখতে ছুটে আসেন। স্কটল্যান্ড-ইংল্যান্ড যুদ্ধ, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধ, জ্যাকবের উত্থান সহ ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দুর্গটি এখনো স্ব-গৌরবে এর অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাচ্ছে। স্কটল্যান্ড ভ্রমণে প্রাচীন এই স্থাপনাটি অবশ্যই দেখে আসবেন।