বিশ্বের ৮টি সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সেরা ৮টি দর্শনীয় স্থান


সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান নায়াগ্রা ফলস। ছবি : নায়াগ্রা


 জ্ঞান আহরণ, বিস্মিত হবা নেশা কিংবা আত্মার শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভ্রমণ হচ্ছে মানব জীবনের প্রধান চাহিদাগুলোর একটি। জীবন পর্যবেক্ষণে, প্রকৃতি অবলোকনে, এবং কৌতূহল মেটাতে মানুষ ভ্রমণের আশ্রয় নেয়। শহরে, গ্রামে, জলে, হাওয়ায় কিংবা ডাঙ্গায় যারা বেড়াতে ভালোবাসেন, তারা ঘুরে বেড়ান বিশ্বের আনাচে-কানাচে। ভ্রমণ স্রেফ শখ না, জ্ঞান আহরণের অন্যতম হাতিয়ার ও। প্রকৃতি ও মানব ইতিহাসের মধ্যে একটা যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এই যোগাযোগ বন্ধ হতে পারে না। করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে সাময়িক সময়ের জন্যে, এই সংকট কেটে গেলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সাথে ভ্রমণপ্রেমী রূপ ও ফিরে আসবে। এই স্থবির সময়ে ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যে আজকে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে পর্যটক টেনে নেয়া ৮টি দর্শনীয় স্থানের গল্প।


সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

নায়াগ্রা ফলস। ছবি : সংগৃহীত

 নায়াগ্রা ফলস, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্রথম স্থানে নায়াগ্রা ফলসের নাম দেখে খুব একটা বিস্মিত হবার কথা না। উত্তর আমেরিকার বিস্ময়কর এই জলপ্রপাত সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমানায় অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত তিনটি জলপ্রপাতের বিশাল এক সেট। যেখান থেকে প্রতি মিনিটে ৬০ লাখ ঘনফুট পানি পতিত হয়। উত্তর আমেরিকার এই পর্যটন কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছরে অন্তত ৩ কোটি পর্যটকদের হোস্ট করে থাকে। অনেক জনপ্রিয় ভ্রমণ সাময়িকীর মতে এটি বিশ্বের সর্বাধিক পরিদর্শন করা পর্যটক আকর্ষণের একটি।

গিজার পিরামিড, মিশর

সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

গিজার পিরামিড, মিশর। ছবি : উইকিপিডিয়া

 অবাক করা বিষয় হলেও সত্য যে, মধ্য প্রাচ্য ও আফ্রিকার নির্জন মরুভূমি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কারও বিবেচনায় না থাকলেও বিশ্বের অনেক মানুষ মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নিদর্শন জানতে মরিয়া। মিশর প্রাচীন মানব সভ্যতার নিদর্শন ধারণ করে আছে। মরুভূমির বুকে গিজার গ্রেট পিরামিড ইউনেস্কোর অফিসিয়াল ওয়ান্ড ওয়ান্ডারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। স্থাপত্যকলার এমন শৈল্পিক সৃষ্টি হাজার হাজার বছর মানুষকে বিস্মিত করে এসেছে। তাই, যেকারো বাকেট লিস্টে গিজার পিরামিড থাকাটা অস্বাভাবিক হতে পারে না। প্রায় ২৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে নির্মিত সমাধিটি সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর ১ কোটি ৪৭ লাখ দর্শনার্থী আকর্ষন করে।


সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

মানবসৃষ্ট দীর্ঘতম স্থাপত্য। ছবি : উইকিমিডিয়া কমন্স


মহাপ্রাচীর, চীন
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানব-নির্মিত কাঠামো হিসাবে বিবেচিত, চীনের গ্রেট ওয়াল ১৩ হাজার মাইলের ও বেশি প্রসারিত। প্রতি বছর ১ কোটি পর্যটক মহাপ্রাচীর ভ্রমণ করে থাকে তবে, বেড়াতে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শরৎ। যুক্তিযুক্তভাবে মহাপ্রাচীর দেখার সবচেয়ে সুন্দর সময় এটা। যদিও চীনের মহাপ্রাচীর ও পর্যটন মরসুমেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের দেখা পায়। একেক মরসুম প্রকৃতির সাথে মহাপ্রাচীর ও একেক রকম সৌন্দর্য ধারণ করে।


রাতের আধারে জ্বলজ্বল করা আইফেল টাওয়ার। সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

রাতের আধারে জ্বলজ্বল করা আইফেল টাওয়ার। ছবি : এএফপি


আইফেল টাওয়ার, ফ্রান্স
বিশ্বের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকা করা হবে আর ফ্রান্সের নাম থাকবে না তা হতে পারে না। বিশ্বের সবচেয়ে রোম্যান্টিক শহর প্যারিসের কেন্দ্রে অবস্থিত, আইফেল টাওয়ার ভ্রমণের সর্বজনীন প্রতীক এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গগনচুম্বী আইফেল টাওয়ারের ৮১ তলা থেকে সেলফি তুলতে সারা বছরে ৭০ লক্ষাধিক পর্যটক জড়ো হয়।


অ্যাথেন্সের অ্যাক্রপলিস, গ্রীস। সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

অ্যাথেন্সের অ্যাক্রপলিস, গ্রীস। ছবি : ওয়াশিংটন পোস্ট


অ্যাথেন্সের অ্যাক্রপলিস, গ্রীস
গ্রীক শহর অ্যাথেন্সের প্রাচীন স্থাপত্যের বৃহত্তম স্মৃতিস্তম্ভ অ্যাথেন্সের অ্যাক্রপোলিস। এখানে হেলাসের দেবতাদের প্রাচীন মন্দিরগুলো অবস্থিত। অ্যাক্রপলিস শহরের উপরে উঠে একটি বিশাল চুনাপাথরের পাথরে দাঁড়িয়ে আছে। চলমান পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলো সত্ত্বেও, বছরের পর বছর এই সাইটে দর্শনার্থীদের উপস্থিত থাকে। ২০১৯ সালে প্রায় ৪০ লাখ পর্যটন ঘুরেছে এই সাইট।


ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার, ব্রাজিল। সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার, ব্রাজিল। ছবি : সংগৃহীত


ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার, ব্রাজিল
আপনি সম্ভবত যীশু খ্রিস্টের বিশাল, সাদা প্রতিরূপের নীচে লুকিয়ে থাকা মানুষের ছবি ইন্টারনেট ভেসে বেড়াতে দেখেছেন। ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার হিসাবে পরিচিত এই মূর্তিটি বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের একটি। এবং প্রতি বছর প্রায় ১৮ লাখ দর্শনার্থী যায় সেখানে। ব্রাজিলের রিও সবচেয়ে সেরা বা সবচেয়ে খারাপ দিনটি নির্ভর করে আপনি ইস্টার সানডে-কে কীভাবে দেখেন তার ওপর। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, প্রতিমাটি প্রতি ধর্মীয় ছুটির দিনে প্রায় ১৪ হাজার দর্শনার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে।


স্টোনহেঞ্জ, ইংল্যান্ড

স্টোনহেঞ্জ, ইংল্যান্ড। ছবি : ব্রিটানিকা


স্টোনহেঞ্জ, ইংল্যান্ড
অতিপরিচিত পরিচিত ঐতিহাসিক পাথরের স্মৃতিসৌধের সেটটি খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৩০০০ বছর থেকে আদ্যবদি দাঁড়িয়ে আছে। এই আইকনিক ল্যান্ডমার্ক হ'ল যুক্তরাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত সাইট এবং সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। ১৯৮৬ সালে স্টোনহেঞ্জকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় যুক্ত করার পরে, বার্ষিক দর্শনার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়েছিল যা বছরে ১৫ লাখেরও বেশি।


মাচু পিচু, পেরু

মাচু পিচু, পেরু। ছবি : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি


 মাচু পিচু, পেরু
পর্যটকরা বিশ্বের অল্প পরিচিত, অনাবিস্কৃত কিংবা সদ্য আবিস্কৃত স্থানগুলোর সন্ধান করার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে। মহাদেশটির অন্যতম স্বীকৃত আইকন মাচু পিচু যা পর্যটন সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ২০১৬ সালে ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী যাওয়ার পরে মূল্যবান ধ্বংসাবশেষটি সংরক্ষণ করতে প্রবেশ সীমাবদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

নাবিলা বুশরা   এস এম