আইফেল টাওয়ার : ভালবাসার শহরের আকাশচুম্বী টাওয়ারের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : আইফেল টাওয়ার : এই টাওয়ার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন ফরাসী বুদ্ধিজীবীরা


আইফেল টাওয়ারটি একবার হলুদ ছিল
ফ্যাশনেবল শহর হিসেবে প্যারিসের জগতজোড়া খ্যাতি, এমনকি এই খ্যাতি ধরে রাখতে আইফেল টাওয়ারকেও স্টাইল ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে রাখতে হয়। কয়েক দশক ধরে আইকনিক এই টাওয়ারকে বর্ণালী রঙে রাঙিয়ে চেহারা পরিবর্তন করেছে। ১৮৮৯-এ এটি উন্মুক্ত হবার পরে, আইফেল টাওয়ারটি লালচে-বাদামী বর্ণে রাঙানো হয়। এর ঠিক এক দশক পরে টাওয়ারটিকে হলুদ রঙে রাঙানো হয়েছিল। বর্তমান স্টাইলটি গৃহীত হওয়ার আগে টাওয়ারটি হলুদ-বাদামি এবং চেসনাট বাদামি রঙ করা হয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৬৮ সালে বিশেষভাবে বাদামী রঙ করা হয়েছিল। প্রতি সাত বছর পর পর চিত্রশিল্পীরা আইফেল টাওয়ারের তারুণ্য ধরে রাখতে ৬০ টন পেইন্ট প্রয়োগ করা হয়।
ফরাসী বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য নির্মিত হয়েছিল
বাস্তিল দুর্গের পতনের ১০০ বছরের বার্ষিকী এবং ফরাসী বিপ্লবের সূচনার স্মরণে ১৮৮৯ সালে এক্সপোজিশন ইউনিভার্সেলে-এর আয়োজকরা তাদের আয়োজিত বিশ্বমেলায় একটা নকশা তৈরির জন্য একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা করেছিলেন। ১০৭টি প্রস্তাবের মধ্যে তারা স্থপতি স্টিফেন সৌভেষ্ট্রে এবং ইঞ্জিনিয়ার মরিস কোচলিন এবং এমিল নউগিয়েরের সাথে আইফেলের জমা দেয়া নকশাটি নির্বাচন করেছেন।চার দশক ধরে এটিই ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম কাঠামো
১৯৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার উন্মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার হিসেবে পরিচিত ছিল ৫৫৫ ফুট উচ্চতার ওয়াশিংটন মনুমেন্ট। ৯৬৮ ফুট উচ্চতার আইফেল টাওয়ার উদ্বোধন হওয়ার পর বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপত্যের তকমা দখল করে নেয়। প্রায় চার দশকের শীর্ষ স্থান হারায় নিউ ইয়র্কের ক্রিসলার ভবনের কাছে, এক হাজার ৪৬ ফুট উচ্চতার এই ভবনটি ১৯৩০ সালে নির্মিত হয়েছিল।
আইফেল টাওয়ার এক সময় বিশ্বের বৃহত্তম বিলবোর্ড ছিল
১৯২৫ থেকে ১৯৩ সালের মধ্যকার সময়টাতে প্যারিসে সন্ধ্যা নামলেই আইফেল টাওয়ার আলোকিত হতে লক্ষাধিক বাল্বের সাহাযে। টাওয়ারের তিনটি অংশের সাথে প্রায় আড়াই লাখ রঙিন বাল্ব যুক্ত করে ফরাসী অটোমোবাইল সংস্থা সিট্রোনের ১০০ ফুটের উল্লম্ব বর্ণগুলো আলোকসজ্জার মাধ্যমে ভেসে উঠতো। বিজ্ঞাপনটি এত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে উঠত যে প্রায় ২০ মাইল দূর থেকেও এটি দৃশ্যমান ছিল এবং ১৯২৭ সালে ট্রান্স-আটলান্টিক ফ্লাইট যখন প্যারিসে পৌঁছেছিল তখন চার্লস লিন্ডবার্গ এটি বীকন হিসাবে ব্যবহার করেন।
প্যারিসের শিল্পীরা ‘রাক্ষুসে’ কাঠামোটির বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন
যদিও এখন বিশ্বব্যাপী রোম্যান্সের প্রতীক, আইফেল টাওয়ারের মূল নকশাটি প্যারিসের ৩০০ জন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের হৃদয়ে ভালবাসা ছাড়া অন্য কিছুকে অনুপ্রাণিত করেছিল। যারা ১৮৮৭সালে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে লে টেম্পস পত্রিকায় প্রকাশিত নিম্নলিখিত ইশতেহারে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইশতেহারে ছিল, ‘আমরা, লেখক, চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, স্থপতি, সৌন্দর্যের অনুরাগী প্রেমীরা, প্যারিসে এখনও অবধি অক্ষুণ্ণ রয়েছেন, ফরাসী শিল্প ও ইতিহাসের নামে ফরাসি রুচির নামে ভালবাসার শহরের কেন্দ্রে এমন রাক্ষুসে ভাস্কর্য নির্মাণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি’। ফরাসিদের অভিযোগ ছিল, তাদের রাজধানী প্রাণকেন্দ্রে তাদের নিজস্ব রুচির বিরোধিতা করা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।

নাবিলা বুশরা এস এম