অরণ্য : বাংলাদেশের পোশাকের অরণ্যে বিচরণ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নতুন করে তুলে ধরছে অরণ্য
ছবি : অরন্য ডট কম বিডি
সবুজ অরণ্য, প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে পোশাকেও লেগেছে প্রকৃতির ছোঁয়া। কৃত্রিমতাকে দূরে ঢেলে কারিগরের নিজের হাতের বুননে, রঙে রঙিন হয়ে উঠছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। প্রকৃতিকে পোশাকে আনার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'অরণ্য'। অরণ্যের বিশেষত্ব হচ্ছে : শুধু কাপড়ই নয়, কাপড়ের রঙ হিসেবে এখানে ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান।
প্রতিটি নকশা নিজেদের হাতে অতি যত্নে তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের অরণ্যে বিচরণ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। অনন্য এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডের নেপথ্যে ছিলেন রুবি গজনবী। শুরুটা সহজ ছিল না, পোশাকে প্রাকৃতিক রঙের পাশাপাশি বুনন শিল্পীদের মাধ্যমে সব পণ্য হাতে বানানোর প্রতিকূলতা ছিল অনেক। তবে সব প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে অরণ্য এখন নিজেদের তৈরি রঙে পোশাকের পাশাপাশি রঙিন করছে এদেশের শিল্পকে।
বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য জামদানি এবং কাঁথাশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে অরণ্য। অরণ্যে পাবেন চমৎকার ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, স্কার্ফ, ওড়না, কিমোনো, কাফতান, শাল, কামিজ, কুর্তি, টপস, ব্লাউজ, জ্যাকেট, লেগিংস, ইত্যাদি। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফ্রক, জ্যাকেট, ফতুয়া, শার্ট, সালোয়ার কামিজ। এসব পোশাকে রয়েছে রঙের বৈচিত্র্য।
কাপড়ে রয়েছে ব্লক প্রিন্ট, মোমের নকশা, টাই ডাই, শিবুড়ি, ক্রাশ প্রিন্টের নকশা। বলাই বাহুল্য, এসবের কোনটিতেই কোন রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিক রঙ বানাতে ব্যবহার করা হয় নীল, পেঁয়াজের খোসা, বেদানা, রেইন ট্রি, সুপারি, গাঁদা ফুল, ইত্যাদি। অরণ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গহনা। গহনার মধ্যে রয়েছে আটং, অষ্টধাতুর গহনা, রুপা, মেটালের গহনা ইত্যাদি। এছাড়া বাঁশ, টেরাকোটা, চামড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশীয় পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজ করছে অরণ্য।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রসাধনী যেমন গোলাপ জল, সানস্ক্রিন ক্রিম, এসেনশিয়াল অয়েলের পাশাপাশি কফি ও কাজুবাদাম ইত্যাদি পাওয়া যাবে অনলাইনে।
বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের ব্যবহার অরণ্যের পোশাককে আলাদা করে পরিচিতি দিয়েছে। সুতি কাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে ক্রেপ সিল্ক, এরি সুতি, এরি সিল্ক, পাটের কাপড়, খাদি কাপড়, সিল্ক, তসর, ভিস্কস কাপড়, ভয়েল কাপড়ের ব্যবহার।
ছবি : অরন্য ডট কম বিডি
পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে ঘর সাজানোর দারুণ সব পণ্য। অরণ্যের ঝুড়ি, মাদুর, সিরামিকের পণ্য, কুশন, কাঠের তৈরি জিনিস, বিছানার চাদর, বাচ্চাদের কাথা, টেবিল ক্লথ ঘরকে সুন্দর করে সাজাতে দারুণ কাজে দেবে। আরও রয়েছে স্লিপার, জুতা এবং বিভিন্ন রকমের ব্যাগ।
৩০ বছর আগে শুরু হওয়া অরণ্য এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশ ও বিদেশের আঙ্গিনা। এতগুলো বছরে অরণ্যের প্রাপ্তি কিন্তু কম নয়। দেশের মানুষকে দেশীয় পণ্যে আগ্রহী করার পাশাপাশি এদেশের কারিগরকে তাদের কাজের সুযোগ করে দিয়েছে ন্যায্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে।
ছবি : সংগৃহীত
অরণ্য এখন একটি প্রতিষ্ঠিত নাম বাংলাদেশের দেশীয় পোশাক ও পণ্য শিল্পে। এটি বিশ্ব ন্যায্য বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সদস্য। এছাড়া ২০২০ সালে প্রথমবারের মত ভার্চুয়াল এন ওয়াই নাউ ফ্যাশন ট্রেডে অরণ্য ক্র্যাফট অংশগ্রহণ করতে চলেছে। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ঘানাও অংশগ্রহণ করবে।
অরণ্যের বিভিন্ন শো-রুমগুলো হল : ১। প্রধান অফিস হাউজ ১/এ, রোড-২১, নীলকুঞ্জ-২ খিলক্ষেত, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। ফোন নং- ০২৯৮৮২৫৪২ অন্যান্য শাখার মধ্যে রয়েছে- ২। ফ্ল্যাগশিপ শো-রুম ৬০, কামাল আতার্তুক এভিনিউ ব্লক-ই, বনানী ঢাকা ১২১৩, বাংলাদেশ মোবাইল নং- ০১৭৮৭৬৫৯২৭৭ ৩। ধানমন্ডি শো-রুম হাউজ-৩৩ (৩১৬ এ পুরাতন) রোড-১৬ (২৭ পুরাতন), ধানমন্ডি ঢাকা ১২০৯, বাংলাদেশ মোবাইল নং- ০১৭৫৫৫০৯৯১ ৪। উত্তরা শো-রুম ৩য় তলা, প্লট-৬০, সেক্টর-৯ সোনারগাঁও জনপথ, উত্তরা ঢাকা ১২৩০, বাংলাদেশ মোবাইল নং- ০১৭১৫৫০২২১৫ এছাড়া অনলাইনে অর্ডার করতে পারবেন। অর্ডার করা পণ্যের কোনো সমস্যা থাকলে পণ্য কেনার ৭ দিনের মধ্যে বদলানো যাবে। তবে ভুল পণ্য, সাইজ, পরিবহনের জন্য কোনো পণ্যের ক্ষতি হলে তার জন্য প্রতিষ্ঠানের দায় থাকবে না। এর জন্য পণ্য বদলানো হবে না। অনলাইনে অর্ডারের জন্য যোগাযোগ করতে পারবেন অরণ্যের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজে।
ওয়েবসাইট : https://www.aranya.com.bd/
ফেইসবুক পেইজ : https://www.facebook.com/aranyacrafts
ইন্সটাগ্রাম : https://www.instagram.com/aranya_crafts/
টুইটার : https://twitter.com/aranyacrafts
ইউটিউব : https://www.youtube.com/channel/UCQ0qRtI-RfjNUQiuANFslng
তথ্যসূত্র : https://www.aranya.com.bd/