কেউজিং : সিকিমের ছোট্ট সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অফবিট ভ্রমণস্থান : মৈনাক পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত কেউজিং


কেউজিং গ্রাম (Kewzing) 5

দক্ষিণ সিকিমের জনপ্রিয় গন্তব্য রাভাংলা থেকে মাত্র ৬ কিমি দূরে মৈনাক পর্বতের পাদদেশে কেউজিং গ্রামটি অবস্থিত; ছবি : ট্রিপোটো


চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের এক জগত হল ভারতের পর্যটন রাজ্য সিকিম। সিকিম ভারতের অন্যতম ক্ষুদ্র রাজ্য। স্বপ্নের দেশের মতো সুন্দর এই রাজ্য পর্যটকদের দারুণ প্রিয় একটি গন্তব্য। পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের একটি অংশ হওয়ায় সিকিমের খুব কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সাথে আছে বরফের চাদর। চমৎকার পাহাড়ি ঝর্ণা, গভীর উপত্যকা, ঔষধি গাছের বন, সমৃদ্ধ জীব-বৈচিত্র্য পরিপূর্ণ, আলপাইন চারণভূমি, পাহাড়, হিমবাহ, হাজারো বুনো ফুলের শোভায় সিকিম এক স্বর্গরাজ্য।

এর প্রতিটা জায়গা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সিকিমের এক লুকায়িত সৌন্দর্য হল কেউজিং গ্রাম (Kewzing)। ভ্রমণে যারা কিছুটা অফবিট স্থান পছন্দ করেন তাদের জন্য চমৎকার একটি স্থান হল এই কেউজিং। দক্ষিণ সিকিমের জনপ্রিয় একটি গন্তব্য হল রাভাংলা। রাভাংলা থেকেই মাত্র ৬ কিমি এবং জলপাইগুড়ি থেকে ১২৭ কিলোমিটার দূরে কেউজিং অবস্থিত।

অবস্থান

মৈনাক পর্বতের পাদদেশে ৭০০ ফুট উচ্চতায় এই গ্রামটি অবস্থিত। অপরূপ ছোট্ট এই গ্রামটি অফবিট লোকেশন হলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি এক স্বর্গরাজ্য। চমৎকার এই ডেসটিনেশনটি নিরিবিলি ও শান্ত পাহাড়ি জনপদ।

আরও পড়ুন : ওখড়ে : সিকিমের আদি সৌন্দর্যময় এক গ্রাম



কেউজিং গ্রাম (Kewzing) 3

যারা অফবিট ভ্রমণ স্থান পছন্দ করেন তাঁদের জন্য পাহাড়ি গ্রাম কেউজিং হতে পারে আদর্শ ভ্রমণগন্তব্য; ছবি : ফ্লিকার

পাহাড়ের নৈসর্গ

সারা বছরজুড়ে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকে রাভাংলা। অথচ এর সামান্য দূরেই এতো সুন্দর নির্জন পাহাড়ি জনপদ আছে তা অনেক পর্যটকেরই অজানা। রাভাংলার মতো শহুরে ব্যস্ততা নেই এখানে। ছোট্ট সুন্দর এই গ্রামটিতে প্রাকৃতিক নৈসর্গের সাথে আছে নির্জনতার অপার প্রশান্তি। এখানে নেই কোনও শহুরে কোলাহল। পর্যটকদের সংখ্যা কম হওয়ায় নির্জনতার মাঝে নিজের মতো করে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন এখানে। ছোট্ট এই পাহাড়ি গ্রামটি সরলতা আর নির্মলতায় পরিপূর্ণ। পাহাড়ের সবুজে ঘেরা শোভা আর অপার নৈসর্গ আপনার মনকে করে তুলবে সতেজ। যারা নিরিবিলিতে ছুটির দিনগুলো পাহাড়ি সৌন্দর্যের মাঝে কাটাতে চান তাদের জন্য দারুণ একটি জায়গা হল এই কেউজিং।

কি কি দেখবেন

কেউজিং এর বিশেষত্ব হল এর হোমস্টেগুলো। এখানে বেশ কয়েকটি চমৎকার হোমস্টে আছে। এই হোমস্টেগুলোর বেশিরভাগই সম্পূর্ণ অরগানিক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট হোমস্টেগুলির জানালা এবং বারান্দায় বসে হিমালয়ের চূড়া দেখতে পাবেন। এখান থেকে আরও দেখতে পাবেন বরফ মোড়া মাউন্ট নরসিংয়ের চূড়া।

আরও পড়ুন : পেলিং : পশ্চিম সিকিমের আকর্ষণীয় হিল স্টেশন


কেউজিং গ্রাম (Kewzing) 5

কেউজিং থেকে উপভোগ করতে পারেন পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি; ছবি : ফ্লিকার


সকাল সকাল জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে ছোটাছুটি করা মেঘের দল। নান্দনিক এই হোমস্টেগুলোতে আপনার ছুটির দিনগুলো হয়ে উঠবে অনবদ্য। পাহাড়ি নির্জন নৈসর্গের মাঝে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রকৃতির নিবিড় সখ্যতা পাবেন। অর্গানিক এই হোমস্টের সুস্বাদু-পুষ্টিকর খাবার এবং আতিথেয়তা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। কেউজিং এ দেখার জন্য আছে একটি মনাস্ট্রি। কেউজিং থেকে সামান্য দূরে গেলেই পেয়ে যাবেন টেমি টি গার্ডেন। কেউজিং এর আশেপাশে দেখার মতো আরও অনেক কিছুই আছে। বিরাট বৌদ্ধমূর্তি, নজরকাড়া পার্ক, সম্পদ্রুপ্সে মনাস্ট্রি, নামচি চারধাম, রালোং মনাস্ট্রি, বন মনাস্ট্রি ইত্যাদি। এসকল জায়গা দিনে দিনে গিয়েই দেখে আসতে পারবেন। এছাড়া ট্র্যাকিং প্রিয়দের জন্য আছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় ট্রেক রুট। তার মধ্যে মৈনাম ট্রেকে পাবেন দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

যেভাবে যাবেন :

শিয়ালদহ থেকে রাতের কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠুন। পরদিন সকালে পৌঁছে যাবেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি কেউজিং গ্রামে যাওয়া যায়।  

রুবাইদা আক্তার    এস এম