চটকপুর : অপার নৈশব্দের পাহাড়পুর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দার্জিলিং এর টাইগার হিলের পাশের ছোট পাহাড়ি গ্রাম চটকপুর


chatakpur-eco-village চটকপুর

দার্জিলিং এর কার্শিয়াং মহকুমায় টাইগার হিলের পাশের পাহাড়ের প্রায় ৭,৮৮৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চটকপুর গ্রাম। ছবি : ট্রিপ এডভাইজর


 যারা পাহাড় ভালবাসেন সুযোগ পেলেই তারা চলে যান পাহাড়ি জনপদে। দেশের সব পাহাড় দেখা শেষ হয়ে গেলে চলে যান দেশের বাহিরের পাহাড়ে। ভাবছেন কোথায় যাবেন? খুব সহজেই চলে যেতে পারেন দার্জিলিং এর পাহাড়ে। যদি চান নিরিবিলিতে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করবেন তাহলে চটকপুর (Chatakpur) হতে পারে আপনার জন্য চমৎকার একটি গন্তব্য। পাইন গাছে ঘেরা জঙ্গল, পাহাড়, পাখির কলকাকলিতে ভরা চটকপুর আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবেই।

অবস্থান

দার্জিলিং-এর কার্শিয়াং মহকুমায় টাইগার হিলের পাশের পাহাড়ের ছোট একটি গ্রাম হল চটকপুর। দার্জিলিং থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং সোনাদা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামটি অবস্থিত। প্রায় ৭,৮৮৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি প্রাকৃতিক নৈসর্গ দিয়ে মোড়া। দার্জিলিং যাওয়ার পথে তিন মাইল মোড় থেকে বামের রাস্তায় ঢুকে সিঞ্চল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির গভীর অরণ্য পেরুলে এই পাহাড়ি জনপদ পেয়ে যাবেন। সবুজে মোড়া কোলাহলহীন এই গ্রামে কখনও মেঘ, কখনও রোদের খেলা চলে। ছবির মতো সুন্দর এক গ্রাম এটি।

আরও পড়ুন : দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত টয় ট্রেনের আদ্যপান্ত


chatakpur চটকপুর

চটকপুরের আসল সৌন্দর্য চোখে পড়ে ভোরবেলায় এবং সন্ধ্যায়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ধীরে ধীরে রংবদলের দৃশ্য দেখা যায়। ছবি : কৃষ্ণেন্দু সরকার



পাহাড়ের ঘেরা মনোরম পরিবেশ

যতদূর চোখ যায় এই গ্রামে দেখতে পাবেন সারি সারি পাইন গাছের মিছিল৷ সাথে আছে ধুপি আর রডোডেনড্রনের সমাবেশ। নিবিড় পাইন গাছের বন থেকে দিনের বেলাও ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যায়। পাইনের বনে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎই পাখির কলতান অপার নীরবতা ভাঙ্গে। শীতল বাতাস আর পাখ-পাখালির কুজনে এখানকার পরিবেশ অতি মনোরম। এখানে অরণ্য, পাখপাখালি এবং প্রকৃতির মিতালি আপনাকে করবে আনমনা। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতে আর কি লাগে! নীল আকাশের নীচে হিমালয়ের পরিপাটি সাজানো এই গ্রামটি খুব প্রশান্তিময়। পাহাড়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গ্রামবাসীর ছোট ছোট বাড়ি। প্রায় ২০টি পরিবারের বাস এখানে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে অরগানিক ফসলের সমাহার। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই তাদের বাড়িগুলিকে গড়ে তুলছে পর্যটকদের জন্য হোম-স্টে হিসেবে।

আরও পড়ুন : প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করি; তাই ভ্রমণ ভালো লাগে: শামীর মোন্তাজিদ


chatakpur দার্জিলিং

চটকপুর হতে সূর্যাস্তে কাঞ্চনজঙ্গার রঙ বদলের দৃশ্য। ছবি : কৃষ্ণেন্দু সরকার


  চটকপুরের আসল সৌন্দর্য চোখে পড়ে ভোরবেলায় এবং সন্ধ্যায়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ধীরে ধীরে রংবদলের দৃশ্য দেখা যায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেলটা আরও বেশি মনোরম হয়ে উঠে। আকাশটা পরিষ্কার থাকলে সারাদিন ভরেই ঘরের জানালা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখা যায়। চটকপুরে আছে কালাপোখড়ি, লাভার্স পয়েন্ট এবং সানরাইজ পয়েন্টের মতো আকর্ষণীয় জায়গা। এই সবগুলো জায়গায়ই আপনাকে পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হবে। কালাপোখড়ি হল ছোট একটা জলাশয়ের মধ্যে বড় একটা পাথর। অরণ্য ঘন আঁকাবাঁকা পথে পেরিয়ে আসতে হয় পবিত্র কালাপোখড়িতে। এটিকে ঘিরে আছে নানা মিথ। পূজা করা হয় এই পাথরটিকে। জঙ্গলের প্রাণীরা এখানে পানি খেতে আসে। তাই বিভিন্ন প্রাণীও দেখাতে পাবেন কালাপোখড়ি্তে। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কিছুটা হাঁটলে পেয়ে যাবেন লাভার্স পয়েন্ট এবং সানরাইজ পয়েন্ট। খুব ভোরে চাদর মুড়ি দিয়ে চলে আসুন এখানে। এখানকার সূর্যোদয়ের দৃশ্য আজীবন মনে রাখার মতো। শুধু সূর্যোদয়ই নয় এখানকার সূর্যাস্তয়ও অপরূপ শোভায় শোভিত।

আরও পড়ুন : পাহাড় ভ্রমণে কিছু সতর্কতা ও পরামর্শ


chatakpur চটকপুর

শীতের বরফাচ্ছান্ন অনবদ্য চটোকপুরের নৈসর্গিক রূপ। ছবি : কৃষ্ণেন্দু সরকার



যেভাবে যাবেন :

শিয়ালদা স্টেশন থেকে যেকোনো ট্রেনে চড়ে আসবেন নিউ জলপাইগুড়িতে। স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে চটকপুরে আসা যায়। দার্জিলিং আসার পথে তিন মাইল মোড় থেকে সিঞ্চুলা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির মধ্য দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ আসলে পেয়ে যাবেন চটকপুর।

যেখানে থাকবেন :

চটকপুরে থাকার জন্য রয়েছে ‘চটকপুর ইকো হাট’। দু’জনের ভাড়া পড়বে ৩,৫০০ টাকা, তিন জনের ৪,৫০০ টাকা। যোগাযোগ-৯৪৩৪০৭২৫৫২। এছাড়া আছে 'চটকপুর ইকো হোমস্টে'। ভাড়া জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা। এছাড়া আরও অনেক হোমস্টে আছে এখানে।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম