সাগরের প্রথম মেগাশিপ নামে খ্যাত সভারিন ক্রুজের সমাপ্তি কি এ বছরেই?

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: সভারিন অফ দ্য সি রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের হয়ে ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করে


সভারিন অফ দ্য সী sovereign_of_the_seas

প্রথমে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের হয়ে যাত্রা শুরু করার পর ক্রুজ শিপটি ২০০৮ সালে পুলমান্তুরের ব্যানারে চলাচল শুরু করে; ছবি : রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ব্লগ ডট কম


ক্রুজ শিপ ইতিহাসের বিখ্যাত শিপ ক্রুজ সভারিন অফ দ্য সি এর সমাপ্তি হতে চলেছে। আইকনিক এই জাহাজটি রয়েল ক্যারিবিয়ানের হয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এর যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে স্পেন ভিত্তিক ক্রুজ শিপ অপারেটর পুলমান্তুরের ব্যানারে এটি যাত্রা শুরু করে। ১২ ডেকের এই জাহাজটি মেগাশিপ নামে বিখ্যাত। আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্যই অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি একে সুবিশাল ভাবে বানানো হয়েছে। সভারিন ক্রুইজে গ্লস এলিভেটর, সুইপিং স্টেয়ারকেইসের সাথে মার্বেল পাথরে বাধানো সুইমিং পুল রয়েছে। এছাড়াও, বিশাল সিনেমা থিয়েটার যাতে এক হাজারের বেশী পর্যটক এক সাথে সিনেমা উপভোগ করতে পারেন। আলাদা আলাদা মিউজিক লাউঞ্জ রয়েছে ভ্রমণে মিউজিক উপভোগের জন্য।

১৭১টি স্লট মেশিনের সমন্বয়ে ক্যাসিনো রয়েছে প্রাপ্ত-বয়স্কদের জন্য। অসংখ্য মিনি বার রয়েছে। আইকনিক ভাইকিং ক্রাউন এর আদলেও মিনিবার রয়েছে এই মেগা ক্রুজশিপে। একদম উপরের ডেকটি ফ্লাইং সসার আদলে বানানো হয়েছে। এর নির্মাণশৈলী বেশ রেভুলেশনারি ছিল সেই সময়কাল অনুযায়ী। সেন্ট্রাল পুল ডেক এবং সাথে আরও দুটি পুল এর নির্মাণের সময়ে বেশ আইকনিক ছিল। সর্বসাকুল্যে এই ক্রুজশিপের ওজন ৭৩,০০০ হাজার টন। বিগত তিন দশকে এর বিভিন্ন সংস্কারে এর আকার এবং আকৃতিতে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যদিও জাহাজটি পুলমান্তুর ব্যানারে চলছে কিন্তু রয়েল ক্যারিবিয়ান এখনো জাহাজটির ৪৯ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছে।

সভারিন অফ দ্য সী sovereign_of_the_seas

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পুলমান্তুর নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে, ফলাফলস্বরুপ সভারিন অফ দ্য সি'কেও স্ক্র্যাপের পথে যেতে হতে পারে; ছবি : ক্রুজ ম্যাপার ডট কম


রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের জাহাজগুলোর মাঝে এটি তৃতীয় বৃহত্তম। যদিও সর্বপ্রথম জাহাজ হিসেবে এই ক্রুজ শিপের নামকরণে 'অফ দ্য সি' যোগ করা হয়। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং ফার্স্ট লেডি রোসেলিন কার্টার এই সভারিন অফ দ্য সির মেইডেন ভয়েজ উদ্বোধন করেন। প্রেসিডেন্সিয়াল ফ্যামিলি এবং সাথে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যগণ, সব মিলিয়ে এর উদ্বোধনে কোন প্রকার কমতি রাখেনি রয়্যাল ক্যারিবিয়ান। উদ্ভূত কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পুলমান্তুর নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। স্প্যানিশ ইনসল্ভেন্সি আইন অনুসারে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বর্তমানে। বিভিন্ন রিপোর্টে, পুলমান্তুরের তিনটি জাহাজকেই স্ক্র্যাপ করার কথা বলা হয়। তবে এই সম্পর্কে রয়েল ক্যারিবিয়ান থেকে তাৎক্ষণিক কোন কিছু বলা হয়নি।

পুলমান্তুর তাদের বিবৃতিতে জানায় কোভিড পরিস্থিতির জন্য তারা ক্ষতি কখনোই পুষিয়ে উঠতে পারবে না। এই ক্রুজ শিপটি সর্বশেষ ২,২৮২ জন যাত্রী নিয়ে মাল্টা থেকে আলিয়াগাতে যাত্রা করেছে। মনে করা হচ্ছে এটিই ছিল এর সর্বশেষ ক্রুজ যাত্রা। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের আরেকটি জাহাজ মোনার্ক অফ দ্য সী নামে খ্যাত জাহাজটিও তুর্কির আলিয়াগাতে পৌঁছেছে স্ক্র্যাপিং এর জন্য। সভারিন অফ দ্য সীও তার সিস্টার ভেসেল মোনার্ক অফ দ্য সী কে অনুসরণ করছে। বিভিন্ন বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যমে এই দুটি জাহাজের সম্ভাব্য স্ক্র্যাপিং কিংবা বিক্রির কথা বলা হচ্ছে।

এছাড়াও আরও কিছু জাহাজের স্ক্র্যাপিং এর কথাও বলা হচ্ছে কিন্তু ঐতিহ্যের দিক থেকে এই সভারিন অফ দ্য সি ই সেরা। এর সম্ভাব্য স্ক্র্যাপিং বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ ভালোভাবেই আলোচিত হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতি আমাদের থেকে অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে, তার মাঝে নতুনভাবে মেগাশীপ নামে খ্যাত এই জাহাজটিও হয়তো যুক্ত হতে যাচ্ছে।

মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম


Click Here To See More