শহর থেকে রাঙামাটি জেলার সব দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার উপায়
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বেশ কিছুদিন সময় হাতে নিয়েই রাঙামাটি ভ্রমণ করতে যাওয়া উচিত
বাংলার অপরূপ দৃশ্য, রাঙামাটি। ছবি : চক্কর
ভ্রমনপিয়াসুদের নিকট স্বর্গরাজ্য দেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি। প্রকৃতি, পাহাড়, ঝরনা সবকিছু মিলিয়ে আশ্চর্য রকমের মন শীতল করার মত স্থান এই এটি। সেই ধারাবাহিকতায় চলুন জেনে নেয়া যাক রাঙ্গামাটি শহর থেকে জেলাটির সব দর্শনীয় স্থানে কীভাবে যেতে পারেন সে সম্পর্কে।
চাইলে পলওয়েল পার্ক এন্ড কটেজেও থাকতে পারবেন সুলভ মূল্যে। ছবি : আদার ব্যাপারী
রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পলওয়েল পার্ক। নান্দনিক ডিজাইন দ্বারা এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরেই এটি অবস্থিত। সিএনজিতে করে এই স্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
ছবি : সংগৃহীত
বেশ সুন্দর একটি ঝরনা এই ঘাগড়া ঝরনা। দেশি-বিদেশী বিভিন্ন পর্যটক এই স্থান ভ্রমনে আসেন। ঘাগড়ার কলাবাগানে এই ঝরনাটির অবস্থান। রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজিতে করে ঘাগড়া ঝরনায় পৌঁছাতে পারবেন। ভাড়া আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।
মন চাইবে সারাদিন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে, রাইংখ্যং পুকুর। ছবি : সংগৃহীত
ভ্রমনপিয়াসু যেকোন পর্যটককেই এই স্থানটি মোহিত করবে। এটি একটি গভীর প্রাকৃতিক হ্রদ। রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলাধীন ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। রাঙ্গামাটির তবছড়ি ঘাঁট থেকে ইঞ্জিনবোটে করে বিলাইছড়ি যেতে পারবেন। তবে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা থেকে এখানে যাতায়াত করাটা সহজ বেশি।
রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত ব্রিজ। ছবি : পিন্টারেস্ট
পর্যটকদের কাছে ‘সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি’ নামে খ্যাত এই ব্রিজটি খুবই আকর্ষনীয় একটি স্পট। রাঙামাটি শহরের তবলছড়িতে নেমে অটোরিক্সা বা সিএনজিতে করে সরাসরি ঝুলন্ত ব্রিজে যেতে পারবেন।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র :
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাঙামাটি। ছবি : সংগৃহীত
পর্যটকদের জন্য এটি খুবই আগ্রহের এক জায়গা। এখানে পানি পড়ার দৃশ্যটি খুবই উপভোগ্য। তবে কতৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম দেখার জন্য। চট্টগ্রামের বহদ্দরহাট হতে বাস/মাইক্রোযোগে কাপ্তাই যেতে পারবেন। এরপর রিপিডিবি রিসিপশন গেইট থেকে অনুমতি নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম উপভোগ করতে পারবেন।
তিনটিলা বন বিহার :
রাঙামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হচ্ছে তিনটিলা বন বিহার। বৌদ্বদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানটি রাঙামাটি জেলার লংদু উপজেলায় অবস্থিত। রাঙ্গামাটি সদর থেকে লঞ্চে প্রথমে লংদু যেতে হবে। লঞ্চঘাট থেকে হেটে বা মোটর সাইকেলযোগে তিনটিলা বন বিহারে পৌঁছাতে পারবেন।
ন-কাবা ছড়া ঝরনা :
ভ্রমনপিয়াসুরা ঝরনার দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এখানে। প্রকৃতির বিচিত্র রুপ ও পাহাড়ি ঢেউ সব কিছুরই দেখা পাওয়া যায় এই ঝরনায়। বিলাইছড়ি সদরস্থ লঞ্চঘাঁট বা নলছড়ি নামক স্থান থেকে ইঞ্জিনবোটে বিলাইছড়ি ডেবারা মাথায় এসে সেখান থেকে ন-কাবা ছড়া ঝরনায় যেতে পারবেন।
ছবি : সংগৃহীত
এই ঝরনাটি মূলত একটি তীর্থস্থান। ঝরনাটি অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত। এখানে যেতে চাইলে প্রথমে কপ্তাই এর লঞ্চঘাট থেকে ট্রলারে বিলাইছড়ি যেতে হবে। এরপর বিলাইছড়ি থেকে উলুছড়িতে যেয়ে সেখান থেকে ট্রেকিং করে ধুপপানি ঝরনায় যেতে পারবেন।
রাঙামাটির ডিসি বাংলো :
রাঙামাটির জিরো পয়েন্টে কর্ণফুলী হ্রদের তীরেই ডিসি বাংলো অবস্থিত। রাঙামাটি শহরের যেকোনো স্থান থেকে অটোরিক্সায় এখানে আসতে পারবেন। তবে প্রবেশের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
ফুরোমন পাহাড় :
অপার্থিব সৌন্দর্যের এই পাহাড়টি দেখে যেকোনো পর্যটকই বিস্মিত হন। কাপ্তাই হ্রদের বিশাল জলরাশির দেখা মেলে এই পাহাড় থেকে। এই পাহাড়ে যেতে চাইলে প্রথমে রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি যোগে ঘাগড়া বাজার যেতে হবে আপনাকে। বাজার পেরুলে ব্রিজের কিছু সামনে বৌদ্বমূর্তি স্থাপনের সাইনবোর্ড দেখতে পাবেন। আর এটিই হচ্ছে ফুরোমন পাহাড়।
উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট জাদুঘর :
রাঙামাটি শহরের প্রবেশের শুরুতেই এই উপজাতীয় সাংস্কৃতিক জাদুঘর অবস্থিত। পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজাতীয় জনগণের ঐতিহ্যবাহী উপজাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ প্রদর্শিত হয়েছে এই জাদুঘরেই।
যমচুক পাহাড় :
পাহাড়টি দর্শনার্থীদের দারুণভাবে বিমোহিত করে। যমচুক পাহাড়টি রাঙ্গামাটির বন্দুক ভাংগা ইউনিয়নে অবস্থিত। রাঙামাটি জেলা সদর থেকে লঞ্চে করে খারিক্ষ্যং, ত্রিপুরাছড়া এবং মাচ্চ্যাপাড়া হয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা পায়ে হেটে যমচুক এলাকায় পৌঁছাতে পারবেন।
লেকভিউ আইল্যান্ড :
রাঙামাটির কাপ্তাই বাধের কাছেই লেকভিউ আইল্যান্ড পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। চার একর জায়গাজুড়ে এটি বিস্তৃত। কাপ্তাই বাধের সংরক্ষিত এলাকায় প্রথমে নামতে হবে আপনাকে। এরপর অটোরিকশা বা সিএনজিতে করে সেখানে যেতে পারবেন।
হ্যাপি আইল্যান্ড :
ছবি : ভ্রমণ গাইড
কাপ্তাই বাধের কাছেই এই হ্যাপি আইল্যান্ডের অবস্থান। সিএনজি বা অটোরিকশায় করে সেখানে পৌঁছাতে পারবেন। হ্যাপি আইল্যান্ডে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে ৫০ টাকা টিকিট কেটে হলিডে রিসোর্টে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সেখান থেকে ১৫০ টাকা কেটে হ্যাপি আইল্যান্ডে যেতে হবে। সেনাবাহিনীর বোটে চড়ে হ্যাপি আইল্যান্ডে যেতে পারবেন।
কাপ্তাই লেকের মাঝে পাহাড়ে এই পেদা টিং টিং রেস্তরা অবস্থিত। চা,কফি, চিকেন ফ্রাইয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার পাবেন এখানেই। রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার অদূরেই এর অবস্থান। সিএনজি বা অটোচালিত রিকশায় করে এখানে পৌঁছাতে পারবেন।
টুক্টুক ইকো ভিলেজ :
পাহাড়ের একদম চূড়াতে কাপ্তাই লেকের মাঝে এই টুক্টুক ইকো ভিলেজের অবস্থান। এখান থেকে কাপ্তাই'র পানিতে জ্যোৎস্নার রুপালী সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। শহরের রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে বোটে করে এখানে যেতে পারবেন।
মুপ্পোছড়া ঝরনা :
বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি ঝরনা এটি। এর ব্যাপ্তিও বেশ সু-বিশাল। প্রথমে কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে ট্রলারে বিলাইছড়ি যেতে হবে। এরপর বিলাইছড়ি থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে বাঙ্গালকাট যেতে হবে। বিলাইছড়ির বাঙ্গালকাটা নামক স্থান থেকে ট্রেকিং করে মুপ্পোছড়া ঝরনায় পৌঁছাতে পারবেন।
দুমলং :
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় দুমলং পর্বত অবস্থিত। নান্দনিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন দুমলং এর চূড়া থেকে। কাপ্তাই থেকে বোটে বিলাইছড়ি হয়ে দুমলং যেতে পারেন কিংবা বান্দরবান-বগালেক-দুমলং যেতে পারেন।
হাজাছড়া ঝরনা। ছবি : মিডিয়াবেল ডট নেট
হাজাছড়া ঝর্ণা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে স্নিগ্ধময় একটি জায়গা। বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট অঞ্চলে এটি অবস্থিত। এখানে যেতে চাইলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় যেতে হবে প্রথমে আপনাকে। এরপর মোটরবাইক বা চাঁদের গাড়িতে করে বাঘাইহাটের ১০ নম্বরে নামতে হবে। সেখান থেকে ১০-১৫ মিনিটের হাঁটলেই হাজাছড়া ঝরনায় পৌঁছাতে পারবেন।
জুরাছড়ি :
ছবি : সংগৃহীত
জুরাছড়ির অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটককেই মুগ্ধ করে। একপাশে পাহাড় থেকে নেমে আসা গাছ আর অন্যপাশে হ্রদের নীরব জলে ঝিরি ঝিরি বাতাসের আবহ আপনাকে সুন্দর এক অনুভুতি দিবে। জুরাছড়িতে যেতে চাইলে রিজারভ বাজার থেকে লঞ্চে যেতে হবে। সারাদিনে দুটি লঞ্চ রিজার্ভ বাজার থেকে জুরাছড়ি অভিমুখে ছেড়ে যায়। লঞ্চের সময় যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৭টা এবং বেলা আড়াইটায়।
কাপ্তাই লেক :
রাঙামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই লেক। চারপাশের সবুজ আবহ আর উচু উচু পাহাড় এর সৌন্দর্য অনেকগুনেই বাড়িয়ে দেয়। পুরো হ্রদের আয়তন প্রায় ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার। রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় করে কাপ্তাই লেকে যেতে পারবেন।
মেঘের দেশ সাজেক। ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটি থেকে নৌ কিংবা সড়ক উভয় পথেই সাজেক ভ্যালিতে পৌঁছাতে পারবেন। সেজন্য প্রথমে বাঘাইছড়িতে যেতে হবে আপনাকে। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে বাঘাইছড়ির উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। আবার রাঙামাটি বাস টার্মিনাল থেকেও বাঘাইছড়িগামী বাস পাবেন। বাঘাইছড়ি থেকে জিপ, চাঁদের গাড়ি বা মোটরসাইকেলে সাজেকে পৌঁছাতে পারবেন।